ঢাকা ০৪:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে: গভর্নর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৩:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেছেন, রেমিট্যান্স দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং এর কারণে ব্যালেন্স অব পেমেন্ট ও কারেন্ট অ্যাকাউন্ট আবার ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘এনআরবি গ্লোবাল কনভেনশন ঢাকা-২০২৫’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গভর্নর জানান, সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স অর্জন করেছে। চলতি অর্থবছরে সেই প্রবাহ আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, “অর্থনৈতিক সংকটের কঠিন সময়েও রেমিট্যান্স দেশকে বড় ধরনের সহায়তা করেছে। এটি আমাদের ব্যালেন্স অব পেমেন্টকে স্থিতিশীল করেছে এবং কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতি থেকে উদ্বৃত্তে ফিরতে সহায়তা করেছে।”

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা তুলে ধরে আহসান এইচ মনসুর বলেন, নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি (এনআরবি) সম্প্রদায়ের সঙ্গে দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা জরুরি। 

তিনি জানান, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নিজে ৩২ বছর যুক্তরাষ্ট্রে এবং ৪ বছর কানাডায় বসবাস করেছেন এবং সে কারণেই নিজেকে ‘আধা-এনআরবি’ হিসেবে মনে করেন।

গভর্নর বলেন, “শুধু মধ্যপ্রাচ্য বা মালয়েশিয়ায় কর্মরত শ্রমিকদের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত প্রবাসীদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নেটওয়ার্ক কাজে লাগাতে হবে।”

তিনি উল্লেখ করেন, অনেক প্রবাসী চিকিৎসক তাদের সঞ্চয় দিয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন, যা অনুকরণীয় উদাহরণ।

দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফেরার প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, পুরোপুরি দেশে ফিরে আসা অনেক সময় আবেগপূর্ণ ও জটিল হয়ে ওঠে। তবে সশরীরে না ফিরেও দেশ ও বিদেশে অবস্থান করে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা সম্ভব।

প্রবাসীদের সম্পদের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবাসীদের বড় একটি অংশ ‘বেবি বুমার’ প্রজন্মের, যারা বিদেশে সফল জীবন গড়েছেন এবং এখন দেশের জন্য কিছু করতে চান। 

“বিশ্বজুড়ে প্রবাসীদের হাতে থাকা সম্পদের সামান্য অংশও যদি দেশে বিনিয়োগ হিসেবে আসে, তবে তা শত শত বিলিয়ন ডলারের সমান হতে পারে,” বলেন তিনি।

প্রবাসীদের জন্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, সীমিত সক্ষমতার মধ্যেও এনআরবি ব্যাংক, সিআইপি সুবিধা, বিমানবন্দরে বিশেষ লাউঞ্জ এবং বিদেশ থেকেই ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও দরজা সবসময় খোলা রয়েছে বলে তিনি জানান।

নিজের জীবনের উদাহরণ টেনে গভর্নর বলেন, “২০০৮ সালে আইএমএফের উচ্চপদস্থ চাকরি ছেড়ে দেশে ফেরার সময় অনেকে জিজ্ঞেস করেছিলেন— দেশ আমাকে কী দেবে? আমি বলেছিলাম— কিছুই না। দেশে ফেরার উদ্দেশ হওয়া উচিত দেওয়া, নেওয়া নয়।”

সবশেষে তিনি প্রবাসীদের বিনিয়োগে উৎসাহ দিয়ে বলেন, প্রবাসীদের সশরীরে দেশে থাকতে না হলেও অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট (ওবিইউ), শেয়ারবাজার কিংবা সরকারি ডলার বন্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগ করা সম্ভব, যেখানে আকর্ষণীয় মুনাফার সুযোগ রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিলিস্তিন, রোহিঙ্গা ও বিনিয়োগ: জেদ্দায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তিন দেশের মন্ত্রীদের ফলপ্রসূ বৈঠক

চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে: গভর্নর

আপডেট সময় : ১০:২৩:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেছেন, রেমিট্যান্স দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং এর কারণে ব্যালেন্স অব পেমেন্ট ও কারেন্ট অ্যাকাউন্ট আবার ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘এনআরবি গ্লোবাল কনভেনশন ঢাকা-২০২৫’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গভর্নর জানান, সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স অর্জন করেছে। চলতি অর্থবছরে সেই প্রবাহ আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, “অর্থনৈতিক সংকটের কঠিন সময়েও রেমিট্যান্স দেশকে বড় ধরনের সহায়তা করেছে। এটি আমাদের ব্যালেন্স অব পেমেন্টকে স্থিতিশীল করেছে এবং কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতি থেকে উদ্বৃত্তে ফিরতে সহায়তা করেছে।”

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা তুলে ধরে আহসান এইচ মনসুর বলেন, নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি (এনআরবি) সম্প্রদায়ের সঙ্গে দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা জরুরি। 

তিনি জানান, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নিজে ৩২ বছর যুক্তরাষ্ট্রে এবং ৪ বছর কানাডায় বসবাস করেছেন এবং সে কারণেই নিজেকে ‘আধা-এনআরবি’ হিসেবে মনে করেন।

গভর্নর বলেন, “শুধু মধ্যপ্রাচ্য বা মালয়েশিয়ায় কর্মরত শ্রমিকদের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত প্রবাসীদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নেটওয়ার্ক কাজে লাগাতে হবে।”

তিনি উল্লেখ করেন, অনেক প্রবাসী চিকিৎসক তাদের সঞ্চয় দিয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন, যা অনুকরণীয় উদাহরণ।

দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফেরার প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, পুরোপুরি দেশে ফিরে আসা অনেক সময় আবেগপূর্ণ ও জটিল হয়ে ওঠে। তবে সশরীরে না ফিরেও দেশ ও বিদেশে অবস্থান করে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা সম্ভব।

প্রবাসীদের সম্পদের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবাসীদের বড় একটি অংশ ‘বেবি বুমার’ প্রজন্মের, যারা বিদেশে সফল জীবন গড়েছেন এবং এখন দেশের জন্য কিছু করতে চান। 

“বিশ্বজুড়ে প্রবাসীদের হাতে থাকা সম্পদের সামান্য অংশও যদি দেশে বিনিয়োগ হিসেবে আসে, তবে তা শত শত বিলিয়ন ডলারের সমান হতে পারে,” বলেন তিনি।

প্রবাসীদের জন্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, সীমিত সক্ষমতার মধ্যেও এনআরবি ব্যাংক, সিআইপি সুবিধা, বিমানবন্দরে বিশেষ লাউঞ্জ এবং বিদেশ থেকেই ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও দরজা সবসময় খোলা রয়েছে বলে তিনি জানান।

নিজের জীবনের উদাহরণ টেনে গভর্নর বলেন, “২০০৮ সালে আইএমএফের উচ্চপদস্থ চাকরি ছেড়ে দেশে ফেরার সময় অনেকে জিজ্ঞেস করেছিলেন— দেশ আমাকে কী দেবে? আমি বলেছিলাম— কিছুই না। দেশে ফেরার উদ্দেশ হওয়া উচিত দেওয়া, নেওয়া নয়।”

সবশেষে তিনি প্রবাসীদের বিনিয়োগে উৎসাহ দিয়ে বলেন, প্রবাসীদের সশরীরে দেশে থাকতে না হলেও অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট (ওবিইউ), শেয়ারবাজার কিংবা সরকারি ডলার বন্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগ করা সম্ভব, যেখানে আকর্ষণীয় মুনাফার সুযোগ রয়েছে।