বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক বন্ধের আহ্বান জানিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন শিক্ষক নেটওয়ার্কের শিক্ষকেরা। তারা আম্মারের এই আহ্বানকে ‘অগণতান্ত্রিক চর্চা’ বলে অভিহিত করেছেন।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক ‘ক্যাম্পাসে ছাত্র প্রতিনিধিদের এখতিয়ারবহির্ভূত তৎপরতা বন্ধ হোক’ শিরোনামে একটি বিবৃতি দেয়। সেখানে অভিযোগ করা হয়, রাবির ছয়জন ডিনকে পদত্যাগে বাধ্য করতে সালাহউদ্দিন আম্মার চাপ প্রয়োগ করেছেন। এছাড়া লীগপন্থি শিক্ষকদের ‘কলার ধরে টেনে এনে প্রশাসন ভবনের সামনে বেঁধে রাখা হবে’ —এরকম হুমকিমূলক বক্তব্য দিয়ে ক্যাম্পাসে ‘মব’ প্রবণতা সৃষ্টির অভিযোগও তোলা হয় তার বিরুদ্ধে। এই বিবৃতির প্রেক্ষিতে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) শিক্ষক নেটওয়ার্কের ফেসবুক পেজে কমেন্ট করে সালাহউদ্দিন আম্মার লেখেন, “শিক্ষক নেটওয়ার্ক বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি।” এই মন্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক বখতিয়ার আহমেদ বলেন, “মৌলিক রাজনৈতিক শিষ্টাচার না থাকাটা দুঃখজনক। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে যে আশাবাদ দরকার ছিল, এই ধরনের আচরণ জাতিকে হতাশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ছাত্র সংসদের ঐতিহ্য হলো ভবিষ্যৎমুখী রাজনীতি করা, মব কালচার তৈরি করা নয়।”
রাবির বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সৌভিক রেজা এই আহ্বানকে ‘অগণতান্ত্রিক চর্চা’ উল্লেখ করে বলেন, “ক্ষমতা আছে বলেই একটি শিক্ষক সংগঠন বন্ধ করে দিতে বলা যায় না। জুলাই আন্দোলনে যে কয়জন শিক্ষক থানায় গিয়ে ছাত্রদেরকে ছাড়িয়ে এনেছে, দেখা যাবে সবাই শিক্ষক নেটওয়ার্কেরই লোক।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান শিক্ষক নেটওয়ার্ককে শরীরের ‘শ্বেতকণিকার’ সাথে তুলনা করে বলেন, “শ্বেতকণিকার কাজ হলো— শরীরে যদি ভাইরাস বা কোনও রোগ ঢুকে তার সাথে ফাইট করে আমাদেরকে সুস্থ রাখা। শিক্ষকদের গাছে বেঁধে রাখা বা চাকরিচ্যুত করার হুমকি কোনো ছাত্রের কাজ হতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “কেউ যদি বলে যে, শিক্ষক নেটওয়ার্ক বন্ধ বন্ধ করবে, তাহলে আমি বলবো প্রতিবাদ কখনও বন্ধ করা যায় না।”
শিক্ষকরা মনে করছেন, অভ্যুত্থানের পর দেশে নতুন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, ছাত্র প্রতিনিধিদের এমন আচরণ তাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ছাত্র সংসদগুলোর উচিত নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করা, কোনওভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করা নয়।
রিপোর্টারের নাম 

























