বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে এক নতুন ঘটনা ঘটেছে। কিছু ছোট দলের নেতারা তাদের দল ছেড়ে বড় দল বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। এই ঘটনাটি নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। প্রশ্ন উঠেছে যে, নিজ দল ছেড়ে বড় দলে যোগ দিয়ে এমপি হওয়ার চেষ্টা কতটা নৈতিক?
বিএনপির সাথে দীর্ঘদিন ধরে পথ চলা কিছু ছোট দলের নেতারা দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। এদের মধ্যে বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (বিএলডিপি) চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, এলডিপি (অলি) এর মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা প্রমুখ অন্যতম।
এছাড়াও নিজ দল ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ও জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। ফরিদুজ্জামান ফরহাদ নড়াইল-২ ও ববি হাজ্জাজ ঢাকা-১৩ আসন থেকে বিএনপির প্রতীকে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন।
এই ঘটনাটি নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ছোট দলগুলোর নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে নিজেদের ওপর আস্থা নেই কিন্তু এসব দলের নেতারা এমপি হওয়াটা নিশ্চিত করতে চান বলেই এমন দৌড়ঝাঁপ চলছে।
তিনি আরও বলেছেন, তারা জানেন যে নিজেরা দলীয়ভাবে জিততে পারবেন না। সেজন্যই দল বিলুপ্ত করে বা দল ছেড়ে বিএনপিতে যাচ্ছেন। আসলে রাজনীতি করতে গেলে ক্ষমতার ভাগ চায় সবাই। আর সবাই জানে যে সংসদে ঢুকলেই থাকবে অর্থ, বিত্ত ও প্রতিপত্তির হাতছানি। আবার এই নির্বাচনটায় যে সুযোগ সামনে আর তা নাও হতে পারে। এ জন্যই নীতি ও আদর্শহীনতার এ চর্চা দেখা যাচ্ছে নির্বাচনকে ঘিরে।
আরেকজন বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেছেন, মনোনয়ন ও নির্বাচন নিয়ে যা হচ্ছে তাতে বহুদলীয় গণতন্ত্রই হোঁচট খাচ্ছে কারণ ছোট দলগুলো আত্মসমর্পণ করছে মার্কার কাছে।
তিনি আরও বলেছেন, তবে নির্বাচন কমিশনের একটি ভ্রান্ত নীতির কারণেই এটি হচ্ছে। নিজ দল বা জোটের প্রধান দলের প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ আগের মতো রাখা হলে এমন দৃষ্টিকটু চর্চা দেখা যেতো না। আর এমপির কাজ আইন প্রণয়ন করা হলেও বাংলাদেশে একজন এমপি একটি এলাকার নিয়ন্ত্রক হয়ে যান। সে কারণেই নিজের দল বিলুপ্ত করে হলেও এমপি হওয়ার প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে। কারণ জয়ের জন্য মার্কা এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
রিপোর্টারের নাম 























