ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ঠিক আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবারের এই আলাপকে ‘খুবই ফলপ্রসূ’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
রবিবার ফ্লোরিডার মার–এ–লাগোতে জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল–এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, আমি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে একটি ভালো এবং অত্যন্ত ফলপ্রসূ ফোনালাপ করেছি।
ট্রাম্প আরও জানান, জেলেনস্কির সঙ্গে তার বৈঠকটি মার–এ–লাগোর প্রধান ডাইনিং রুমে অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে সাংবাদিকদের উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
আগের এক পোস্টে ট্রাম্প তার প্রশাসনকে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠাকারী হিসেবে তুলে ধরেন। সম্প্রতি কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যে হওয়া অস্ত্রবিরতির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ইউক্রেনসহ বিভিন্ন দ্বন্দ্বে জাতিসংঘ খুবই সামান্য সহায়তা করেছে। তিনি লিখেছেন, হয়তো যুক্তরাষ্ট্রই এখন প্রকৃত জাতিসংঘে পরিণত হয়েছে।
ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে জেলেনস্কি ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও আল–জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে (জিএমটি ১৮টা) তাদের বৈঠক শুরু হওয়ার কথা। সেখানে ভূখণ্ডগত সমস্যা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেছেন, নতুন বছরের আগেই অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। তিনি মনে করেন, সমাধান নির্ভর করছে তাদের ওপর যারা ইউক্রেনকে সাহায্য করছে এবং যারা রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
ফ্লোরিডায় পৌঁছানোর পর জেলেনস্কি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ লিখেছেন, আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি এবং ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা করেছি। আমি তাকে ফ্রন্টলাইনের পরিস্থিতি এবং রাশিয়ার হামলার পরিণাম সম্পর্কে জানিয়েছি।
অন্যদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মনে করেন, ইউক্রেনের নেতারা শান্তিপূর্ণ উপায়ে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে যথেষ্ট আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। একটি সামরিক কমান্ড পোস্ট পরিদর্শনের সময় পুতিন বলেন, যদি কিয়েভ শান্তিপূর্ণভাবে এই সংঘাতের সমাধান করতে না চায়, তবে রাশিয়া বিশেষ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে শক্তি প্রয়োগ করেই এর সমাধান করবে।
গত শুক্রবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত কিয়েভে রাশিয়ার তীব্র ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুজন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ট্রাম্প–জেলেনস্কি এই বৈঠকে বসছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























