শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের আটক না করা পর্যন্ত শাহবাগে অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে শাহবাগে সমবেত হওয়ার পর সন্ধ্যায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের এ ঘোষণা দেন।
তিনি জানান, পুরো রাত তারা সেখানে অবস্থান করবেন। কম্বল আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা হাদি তার জীবদ্দশায় গরিব মানুষদের জন্য কিনেছিলেন কিন্তু বিতরণ করে যেতে পারেননি।
আল জাবের বলেন, তাদের সুস্থ থাকতে হবে এবং কর্মসূচি শেষে সেই কম্বল দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। সরকারের উপদেষ্টারা জনসাধারণের সামনে না আসা পর্যন্ত এবং হত্যার পরিকল্পনাকারী, হত্যাকারী ও ভারতে পলায়নে সহায়তাকারীদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত তারা শাহবাগ ত্যাগ করবেন না।
তিনি বলেন, শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, তাতে অংশগ্রহণকারীদের বাধা দেওয়া হবে না। সকাল ৯টা থেকে পরীক্ষার্থীদের সুবিধা নিশ্চিত করা হবে, তবে অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না।
ওসমান হাদির হত্যার বিচার ও খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে শাহবাগে বিক্ষোভ কর্মসূচির কথা আগে থেকেই জানানো ছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী জুমার নামাজ শেষে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা শাহবাগে সমবেত হন এবং পরবর্তী সময়ে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের সিদ্ধান্ত নেন। এর ফলে শাহবাগ এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতাদের পাশাপাশি অন্যান্য মানুষও এই কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন। বিকালে সংগঠনটি তাদের ফেসবুক পেজে দেশবাসীকে শহীদ ওসমান হাদির বিচারের দাবিতে শাহবাগে এসে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানায়।
সন্ধ্যায় ওসমান হাদির ভাই শরিফ ওমর বিন হাদি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দাবি পূরণ না হলে তারা আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবেন।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনা অবরোধের হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, আমরা রাজপথে নেমেছি, বিচার না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবো না।
সতর্ক করে শরিফ ওমর বিন হাদি বলেন, ক্যান্টনমেন্ট বা যমুনা ঘেরাও করতে বাধ্য করবেন না।
আবদুল্লাহ আল জাবের সন্ধ্যায় পুনরায় জানান, হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকারী সবাইকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। আজকের পাশাপাশি আগামীকালও শাহবাগ অবরোধ অব্যাহত থাকবে এবং সারা দেশ থেকে মানুষ আসছে।
জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মুখ ওসমান হাদি গত বছর আগস্টে ইনকিলাব মঞ্চ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 
























