ঢাকা ০৫:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

ফুটবলের ‘পিকাসো’ জন রবার্টসন আর নেই

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৪:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বর্ণিল চরিত্র এবং নটিংহ্যাম ফরেস্টের কিংবদন্তি উইঙ্গার জন রবার্টসন মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। 

স্কটিশ এই ফুটবলারকে তার কোচ ব্রায়ান ক্লাফ বলতেন ফুটবলের ‘পিকাসো’। রবার্টসনের মৃত্যুতে নটিংহ্যাম ফরেস্ট এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছে, ‘মর্মাহত হৃদয়ে জানাতে হচ্ছে, আমাদের ক্লাবের কিংবদন্তি ও বন্ধু দু’বারের ইউরোপিয়ান কাপ জয়ী জন রবার্টসন আর নেই। তার অতুলনীয় প্রতিভা, বিনয় এবং ক্লাবের প্রতি একনিষ্ঠতা কখনও ভোলার নয়।’

১৯৫৩ সালে স্কটল্যান্ডের ল্যানার্কশায়ারে জন্ম নেওয়া রবার্টসন মাত্র ১৭ বছর বয়সে নটিংহ্যাম ফরেস্টে যোগ দেন। তবে ১৯৭৫ সালে বিখ্যাত কোচ ব্রায়ান ক্লাফ দায়িত্ব নেওয়ার পর তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায়। যদিও প্রথম দেখায় রবার্টসনকে মোটেই পছন্দ হয়নি ক্লাফের। নিজের আত্মজীবনীতে তিনি লিখেছিলেন, ‘তাকে দেখে পেশাদার অ্যাথলেট মনে হচ্ছিলো না। এলোমেলো চুল আর আনফিট এক তরুণ, যাকে রাখা মানে সময়ের অপচয়।’

কিন্তু সেই ক্লাফই রবার্টসনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রতিভাকে চিনতে ভুল করেননি। তার লেফট উইংয়ের ওপর ভর করেই ১৯৭৭ সালে ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষ লিগে উঠে আসে নটিংহ্যাম। এরপর তারা টানা দুইবার ইউরোপিয়ান কাপ তথা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতে তারা। ক্লাফের মতে, ‘তার পায়ে বল আর একটুখানি ঘাস দিলে সে ফুটবল মাঠে শিল্পের ছোঁয়া দিতো। সে ছিল আমাদের ফুটবলের পিকাসো।’

নটিংহ্যাম ফরেস্টের সেই সোনালী সময়ে ইউরোপের দুটি ফাইনালই জিতেছিল ১-০ গোলে। যার দুটিতেই ছিল রবার্টসনের অবদান। ১৯৭৯ সালে মালমোর বিপক্ষে জয়সূচক গোলটিতে অ্যাসিস্ট করেন তিনি। আর ১৯৮০ সালে মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত ফাইনালে হামবুর্গের বিপক্ষে ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে তার পা থেকেই। 

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে স্কটল্যান্ডের হয়ে ২৮টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। যার মধ্যে ১৯৭৮ ও ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপও রয়েছে। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচিং পেশাতেও সফল ছিলেন রবার্টসন। দীর্ঘ সময় সতীর্থ মার্টিন ও’নিলের সহকারী হিসেবে লেস্টার সিটি, সেল্টিক ও অ্যাস্টন ভিলার মতো বড় ক্লাবে কাজ করেছেন।

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পত্তির লোভ ও বিদ্বেষের শিকার ৭ বছরের শিশু: দিনাজপুরে চাচাতো ভাই গ্রেপ্তার

ফুটবলের ‘পিকাসো’ জন রবার্টসন আর নেই

আপডেট সময় : ১২:৫৪:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বর্ণিল চরিত্র এবং নটিংহ্যাম ফরেস্টের কিংবদন্তি উইঙ্গার জন রবার্টসন মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। 

স্কটিশ এই ফুটবলারকে তার কোচ ব্রায়ান ক্লাফ বলতেন ফুটবলের ‘পিকাসো’। রবার্টসনের মৃত্যুতে নটিংহ্যাম ফরেস্ট এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছে, ‘মর্মাহত হৃদয়ে জানাতে হচ্ছে, আমাদের ক্লাবের কিংবদন্তি ও বন্ধু দু’বারের ইউরোপিয়ান কাপ জয়ী জন রবার্টসন আর নেই। তার অতুলনীয় প্রতিভা, বিনয় এবং ক্লাবের প্রতি একনিষ্ঠতা কখনও ভোলার নয়।’

১৯৫৩ সালে স্কটল্যান্ডের ল্যানার্কশায়ারে জন্ম নেওয়া রবার্টসন মাত্র ১৭ বছর বয়সে নটিংহ্যাম ফরেস্টে যোগ দেন। তবে ১৯৭৫ সালে বিখ্যাত কোচ ব্রায়ান ক্লাফ দায়িত্ব নেওয়ার পর তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায়। যদিও প্রথম দেখায় রবার্টসনকে মোটেই পছন্দ হয়নি ক্লাফের। নিজের আত্মজীবনীতে তিনি লিখেছিলেন, ‘তাকে দেখে পেশাদার অ্যাথলেট মনে হচ্ছিলো না। এলোমেলো চুল আর আনফিট এক তরুণ, যাকে রাখা মানে সময়ের অপচয়।’

কিন্তু সেই ক্লাফই রবার্টসনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রতিভাকে চিনতে ভুল করেননি। তার লেফট উইংয়ের ওপর ভর করেই ১৯৭৭ সালে ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষ লিগে উঠে আসে নটিংহ্যাম। এরপর তারা টানা দুইবার ইউরোপিয়ান কাপ তথা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতে তারা। ক্লাফের মতে, ‘তার পায়ে বল আর একটুখানি ঘাস দিলে সে ফুটবল মাঠে শিল্পের ছোঁয়া দিতো। সে ছিল আমাদের ফুটবলের পিকাসো।’

নটিংহ্যাম ফরেস্টের সেই সোনালী সময়ে ইউরোপের দুটি ফাইনালই জিতেছিল ১-০ গোলে। যার দুটিতেই ছিল রবার্টসনের অবদান। ১৯৭৯ সালে মালমোর বিপক্ষে জয়সূচক গোলটিতে অ্যাসিস্ট করেন তিনি। আর ১৯৮০ সালে মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত ফাইনালে হামবুর্গের বিপক্ষে ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে তার পা থেকেই। 

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে স্কটল্যান্ডের হয়ে ২৮টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। যার মধ্যে ১৯৭৮ ও ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপও রয়েছে। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচিং পেশাতেও সফল ছিলেন রবার্টসন। দীর্ঘ সময় সতীর্থ মার্টিন ও’নিলের সহকারী হিসেবে লেস্টার সিটি, সেল্টিক ও অ্যাস্টন ভিলার মতো বড় ক্লাবে কাজ করেছেন।