ঢাকা ১০:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

লোটো শোরুমের পরিচালককে অপহরণের পর হত্যা: দুই আসামি রিমান্ডে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় অস্ত্রের মুখে লোটো শোরুম থেকে অপহরণের পর পরিচালক পিন্টু আকন্দকে (৩৭) হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার দুই আসামির পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বগুড়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল হক এ নির্দেশ দেন। আদালত পুলিশের পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‌‘হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুপচাঁচিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রায়হান কবির গত সোমবার বিকালে গ্রেফতার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।’

ওই দুই আসামি হলেন- মাইক্রোবাসচালক দুপচাঁচিয়া উপজেলার সাজাপুর গ্রামের সানোয়ার হোসেন (৪০) এবং একই উপজেলার করমজি গ্রামের সাকিব (২৪)। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে দুপচাঁচিয়া থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন নিহতের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। ওই মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়। এর মধ্যে সাকিব মাইক্রোবাসটি ভাড়া করতে সহযোগিতা করেন। ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আসামি গ্রেফতারের নামে মাইক্রোবাসটি ভাড়া নিয়েছিলেন তারা। 

অপহরণের দুই ঘণ্টা পর সোমবার রাত সোয়া ১১টার দিকে পার্শ্ববর্তী আদমদীঘি উপজেলার কুমারপুর এলাকায় একটি মাইক্রোবাসের ভেতর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত পিন্টু আকন্দ নওগাঁর রানীনগর উপজেলার লোহাগাড়া গ্রামের মৃত আয়েজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি দুপচাঁচিয়ার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় খন্দকার মার্কেটে তার শ্যালকের লোটো শোরুমের পরিচালক ছিলেন। সোমবার রাত সোয়া ৯টার দিকে দুপচাঁচিয়া সদরের ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে অস্ত্রের মুখে চার জন পিন্টু আকন্দকে জোর করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। ওই ঘটনার দৃশ্য সিসিটিভির ক্যামেরায় ধরা পড়ে। এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দুই ঘণ্টা পর আদমদীঘি উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের কুমারপুরে রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা মাইক্রোবাসে লাশ পাওয়া যায়। নাকেমুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন বলেন, ‘পিন্টু আকন্দের লাশ উদ্ধারের সময় তার নাক ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে প্যাঁচানো ছিল। প্রাথমিকভাবে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালককে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক

লোটো শোরুমের পরিচালককে অপহরণের পর হত্যা: দুই আসামি রিমান্ডে

আপডেট সময় : ০৬:৪৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় অস্ত্রের মুখে লোটো শোরুম থেকে অপহরণের পর পরিচালক পিন্টু আকন্দকে (৩৭) হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার দুই আসামির পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বগুড়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল হক এ নির্দেশ দেন। আদালত পুলিশের পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‌‘হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুপচাঁচিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রায়হান কবির গত সোমবার বিকালে গ্রেফতার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।’

ওই দুই আসামি হলেন- মাইক্রোবাসচালক দুপচাঁচিয়া উপজেলার সাজাপুর গ্রামের সানোয়ার হোসেন (৪০) এবং একই উপজেলার করমজি গ্রামের সাকিব (২৪)। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে দুপচাঁচিয়া থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন নিহতের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। ওই মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়। এর মধ্যে সাকিব মাইক্রোবাসটি ভাড়া করতে সহযোগিতা করেন। ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আসামি গ্রেফতারের নামে মাইক্রোবাসটি ভাড়া নিয়েছিলেন তারা। 

অপহরণের দুই ঘণ্টা পর সোমবার রাত সোয়া ১১টার দিকে পার্শ্ববর্তী আদমদীঘি উপজেলার কুমারপুর এলাকায় একটি মাইক্রোবাসের ভেতর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত পিন্টু আকন্দ নওগাঁর রানীনগর উপজেলার লোহাগাড়া গ্রামের মৃত আয়েজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি দুপচাঁচিয়ার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় খন্দকার মার্কেটে তার শ্যালকের লোটো শোরুমের পরিচালক ছিলেন। সোমবার রাত সোয়া ৯টার দিকে দুপচাঁচিয়া সদরের ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে অস্ত্রের মুখে চার জন পিন্টু আকন্দকে জোর করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। ওই ঘটনার দৃশ্য সিসিটিভির ক্যামেরায় ধরা পড়ে। এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দুই ঘণ্টা পর আদমদীঘি উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের কুমারপুরে রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা মাইক্রোবাসে লাশ পাওয়া যায়। নাকেমুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন বলেন, ‘পিন্টু আকন্দের লাশ উদ্ধারের সময় তার নাক ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে প্যাঁচানো ছিল। প্রাথমিকভাবে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালককে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’