জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে সংসদ সদস্যদের (এমপি) মোবাইল ফোনে কথা বলা, খাওয়া-দাওয়া করা এবং দর্শক গ্যালারির কারো সঙ্গে কুশল বিনিময় করা থেকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একইসঙ্গে তিনি সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের সংস্কৃতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশন চলাকালে সংসদ সদস্যদের সতর্ক করে স্পিকার এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এই সংসদ জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক এবং এটি আইন-কানুন, প্রচলিত বিধিবিধান ও রেওয়াজের ওপর নির্ভর করে এগিয়ে যায়। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যত্যয় দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
স্পিকার উল্লেখ করেন যে, সংসদ গ্যালারিতে পরিচিত কেউ থাকলে তাকে উদ্দেশ্য করে কোনো বক্তব্য রাখা সংসদের রেওয়াজ নয়। কিন্তু এদিন দেখা গেছে, দুজন সদস্য দর্শক গ্যালারিতে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করছেন, যা একেবারেই অনভিপ্রেত। স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান জানানোর রীতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, অনেক সদস্য সংসদে প্রবেশের বা বের হওয়ার সময় চেয়ারের প্রতি কোনো সম্মান প্রদর্শন করেন না। বিশ্বব্যাপী সংসদের প্রচলিত নিয়ম হলো, ঢোকার সময় মাথা নত করে বা সালাম দিয়ে সম্মান প্রদর্শন করে নিজ আসনে যাওয়া এবং বের হওয়ার সময়ও একইভাবে সম্মান দেখানো উচিত।
অধিবেশন চলাকালে হাঁটাচলা ও মোবাইল ব্যবহারের বিষয়ে স্পিকার বলেন, স্পিকার এবং যিনি বক্তব্য রাখছেন, তাদের মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে ক্রস করা সঠিক নয়, অথচ এটি হামেশাই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এছাড়া অনেক সদস্য সংসদে টেলিফোনে কথা বলেন, কেউ কেউ মুখ ঢেকে কথা বলেন। সংসদে টেলিফোনে আলাপের কোনো রেওয়াজ নেই। তিনি সদস্যদের মোবাইল ফোন মিউট করে রাখতে এবং একান্ত প্রয়োজন হলে লবিতে গিয়ে কথা বলার নির্দেশ দেন। তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে একজনকে পানাহাররত অবস্থায় দেখেছেন, যা সংসদের নিয়মের পরিপন্থী। সংসদে খাওয়া-দাওয়া বা পানাহারের কোনো বিধান নেই। অতীতে এমনটা ছিল না। এসকল বিষয় বলতে স্পিকার খারাপ লাগার কথা জানালেও, সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় এমন কিছু করা অনুচিত বলে মন্তব্য করেন।
রিপোর্টারের নাম 





















