ঢাকা ০৯:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

জমি বিরোধে পান দোকানিকে খুনের দায়ে ৪ জনের যাবজ্জীবন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪২:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

প্রায় ২৩ বছর আগে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কেরানীগঞ্জে এক পান দোকানির কর্মচারী জাবেদকে খুনের ঘটনায় চার আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ঢাকার ৭ম অতিরিক্ত দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল্লাহ আল মাসুদের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন দুই ভাই দেলোয়ার হোসেন ও হাবিবুল্লাহ, এবং প্রতিবেশী সিরাজুল ইসলাম ও দ্বীন ইসলাম। এরা সবাই কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরের রসুলপুরের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা পলাতক ছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী জাবেদ নুর হোসেন বাবুর পান দোকানে কাজ করতেন। ২০০৩ সালের ১৮ মার্চ কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দেলোয়ার, হাবিবুল্লাহ ও সিরাজ তাকে সিনেমা দেখানোর কথা বলে দ্বীন ইসলামের রিকশায় করে কেরানীগঞ্জের ধলেশ্বরী ঘাটের সৈকত সিনেমা হলে নিয়ে যায়। রাত ১২টা বেজে গেলেও জাবেদ বাড়ি না ফেরায় তার মালিক নুর হোসেন মাইকিং করে তাকে খুঁজতে শুরু করেন। পরদিন সকালে নদীতে জাবেদের লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ১৯ মার্চ নুর হোসেন কেরানীগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন। তবে, জাবেদের মা আমিনা বেগমের সন্দেহ হয় যে এটি নিছক অপমৃত্যু নয়। জমি-জমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে জাবেদকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। আমিনা বেগম আদালতে মামলা দায়ের করার পর আদালত সেটি এজাহার হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন।

২০০৫ সালের ৩০ এপ্রিল মামলাটি তদন্ত করে কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মহসিনুল কাদির পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরের বছরের ৮ মে, নুর হোসেনকে অব্যাহতি দিয়ে চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার আদেশ দেন আদালত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবার ডিনস অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত ১৩ শিক্ষক-শিক্ষার্থী

জমি বিরোধে পান দোকানিকে খুনের দায়ে ৪ জনের যাবজ্জীবন

আপডেট সময় : ০৮:৪২:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

প্রায় ২৩ বছর আগে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কেরানীগঞ্জে এক পান দোকানির কর্মচারী জাবেদকে খুনের ঘটনায় চার আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ঢাকার ৭ম অতিরিক্ত দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল্লাহ আল মাসুদের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন দুই ভাই দেলোয়ার হোসেন ও হাবিবুল্লাহ, এবং প্রতিবেশী সিরাজুল ইসলাম ও দ্বীন ইসলাম। এরা সবাই কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরের রসুলপুরের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা পলাতক ছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী জাবেদ নুর হোসেন বাবুর পান দোকানে কাজ করতেন। ২০০৩ সালের ১৮ মার্চ কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দেলোয়ার, হাবিবুল্লাহ ও সিরাজ তাকে সিনেমা দেখানোর কথা বলে দ্বীন ইসলামের রিকশায় করে কেরানীগঞ্জের ধলেশ্বরী ঘাটের সৈকত সিনেমা হলে নিয়ে যায়। রাত ১২টা বেজে গেলেও জাবেদ বাড়ি না ফেরায় তার মালিক নুর হোসেন মাইকিং করে তাকে খুঁজতে শুরু করেন। পরদিন সকালে নদীতে জাবেদের লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ১৯ মার্চ নুর হোসেন কেরানীগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন। তবে, জাবেদের মা আমিনা বেগমের সন্দেহ হয় যে এটি নিছক অপমৃত্যু নয়। জমি-জমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে জাবেদকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। আমিনা বেগম আদালতে মামলা দায়ের করার পর আদালত সেটি এজাহার হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন।

২০০৫ সালের ৩০ এপ্রিল মামলাটি তদন্ত করে কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মহসিনুল কাদির পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরের বছরের ৮ মে, নুর হোসেনকে অব্যাহতি দিয়ে চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার আদেশ দেন আদালত।