ঢাকা ১১:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জুলাই সনদে সই না করার কারণ জানাল এনসিপি: আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়ন পদ্ধতির নিশ্চয়তা দাবি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৭:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ৪৪ বার পড়া হয়েছে

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য মিলে মোট ২৪টি রাজনৈতিক দল বহুল প্রতীক্ষিত জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করলেও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন স্বাক্ষর করেনি, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ স্বাক্ষর গ্রহণ অনুষ্ঠানে এই ২৪টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা সই করেন।

এনসিপির পলিসি অ্যান্ড রিসার্চ উইং এক বার্তা প্রকাশের মাধ্যমে জানিয়েছে, তারা এখনই সনদে স্বাক্ষর করছে না। দলটি জানায়, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া দেখার পরই কেবল এনসিপি সনদে স্বাক্ষর করবে।

এনসিপি স্পষ্ট করে বলেছে, তারা জুলাই সনদকে স্রেফ একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল বা ফাঁকা প্রতিশ্রুতি মনে করে না। দলটির মতে, জুলাই সনদের প্রধানতম লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বৈরতান্ত্রিক ভিত্তি নির্মূল করে গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিশ্চিত করা। এ কারণে এই সনদের সুস্পষ্ট আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি থাকা আবশ্যক বলে এনসিপি মনে করে।

যদিও রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘ এক বছর ধরে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে কাজ করে সনদ এবং এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি (জুলাই সনদ আদেশ, গণভোট, এবং সংবিধান পরিবর্তনে সক্ষম আগামী সংসদ বা দ্বৈত ভূমিকা) প্রশ্নে একমত হয়েছে। তারপরও সনদের অঙ্গীকারনামায় বাস্তবায়ন পদ্ধতির কোনো উল্লেখ নেই। এনসিপি মনে করে, এই পদ্ধতির উল্লেখ ছাড়া সনদে স্বাক্ষর করা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল, কারণ অতীতে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের করা প্রতিশ্রুতি নিজেরাই ভঙ্গ করেছে।

এ ছাড়া, এনসিপি আরও তিনটি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের নিশ্চয়তা চেয়েছে, যার পরই তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া দেখে সনদে স্বাক্ষর করবে:

১. জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের টেক্সট এবং গণভোটের প্রশ্নটি চূড়ান্ত করে আগেভাগেই জনগণের কাছে প্রকাশ করতে হবে।

২. জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়ের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কর্তৃক জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের খসড়াটি জারি করতে হবে।

৩. গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যদি জুলাই সনদে রায় দেয়, তবে নোট অব ডিসেন্টের কোনো কার্যকারিতা থাকবে না। গণভোটের রায় অনুযায়ী আগামী নির্বাচিত সংসদ তাদের গাঠনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে সংবিধান সংস্কার করবে, যার নতুন নাম হবে: বাংলাদেশ সংবিধান, ২০২৬।

এনসিপি মনে করে, এই বিষয়গুলোর নিশ্চয়তা ছাড়া সনদের সাংবিধানিক ভিত্তি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে এই বিষয়সমূহের স্পষ্ট উল্লেখ নিশ্চিত করেই এনসিপি সনদে স্বাক্ষর করবে।

এনসিপি আরও বলেছে, অন্য যে দলগুলো বাহাত্তরের মুজিববাদী সংবিধানের মূলনীতি টিকিয়ে রাখার স্বার্থে সনদে সই করেনি, তাদের সঙ্গে এনসিপির সই না করার কারণের মৌলিক পার্থক্য সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে সংস্কার না হলে রাজপথে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বিরোধী দলের

জুলাই সনদে সই না করার কারণ জানাল এনসিপি: আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়ন পদ্ধতির নিশ্চয়তা দাবি

আপডেট সময় : ০৯:১৭:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য মিলে মোট ২৪টি রাজনৈতিক দল বহুল প্রতীক্ষিত জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করলেও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন স্বাক্ষর করেনি, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ স্বাক্ষর গ্রহণ অনুষ্ঠানে এই ২৪টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা সই করেন।

এনসিপির পলিসি অ্যান্ড রিসার্চ উইং এক বার্তা প্রকাশের মাধ্যমে জানিয়েছে, তারা এখনই সনদে স্বাক্ষর করছে না। দলটি জানায়, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া দেখার পরই কেবল এনসিপি সনদে স্বাক্ষর করবে।

এনসিপি স্পষ্ট করে বলেছে, তারা জুলাই সনদকে স্রেফ একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল বা ফাঁকা প্রতিশ্রুতি মনে করে না। দলটির মতে, জুলাই সনদের প্রধানতম লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বৈরতান্ত্রিক ভিত্তি নির্মূল করে গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিশ্চিত করা। এ কারণে এই সনদের সুস্পষ্ট আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি থাকা আবশ্যক বলে এনসিপি মনে করে।

যদিও রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘ এক বছর ধরে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে কাজ করে সনদ এবং এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি (জুলাই সনদ আদেশ, গণভোট, এবং সংবিধান পরিবর্তনে সক্ষম আগামী সংসদ বা দ্বৈত ভূমিকা) প্রশ্নে একমত হয়েছে। তারপরও সনদের অঙ্গীকারনামায় বাস্তবায়ন পদ্ধতির কোনো উল্লেখ নেই। এনসিপি মনে করে, এই পদ্ধতির উল্লেখ ছাড়া সনদে স্বাক্ষর করা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল, কারণ অতীতে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের করা প্রতিশ্রুতি নিজেরাই ভঙ্গ করেছে।

এ ছাড়া, এনসিপি আরও তিনটি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের নিশ্চয়তা চেয়েছে, যার পরই তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া দেখে সনদে স্বাক্ষর করবে:

১. জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের টেক্সট এবং গণভোটের প্রশ্নটি চূড়ান্ত করে আগেভাগেই জনগণের কাছে প্রকাশ করতে হবে।

২. জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়ের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কর্তৃক জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের খসড়াটি জারি করতে হবে।

৩. গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যদি জুলাই সনদে রায় দেয়, তবে নোট অব ডিসেন্টের কোনো কার্যকারিতা থাকবে না। গণভোটের রায় অনুযায়ী আগামী নির্বাচিত সংসদ তাদের গাঠনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে সংবিধান সংস্কার করবে, যার নতুন নাম হবে: বাংলাদেশ সংবিধান, ২০২৬।

এনসিপি মনে করে, এই বিষয়গুলোর নিশ্চয়তা ছাড়া সনদের সাংবিধানিক ভিত্তি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে এই বিষয়সমূহের স্পষ্ট উল্লেখ নিশ্চিত করেই এনসিপি সনদে স্বাক্ষর করবে।

এনসিপি আরও বলেছে, অন্য যে দলগুলো বাহাত্তরের মুজিববাদী সংবিধানের মূলনীতি টিকিয়ে রাখার স্বার্থে সনদে সই করেনি, তাদের সঙ্গে এনসিপির সই না করার কারণের মৌলিক পার্থক্য সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব।