ঢাকা ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

টিএফআই সেলে গুম-নির্যাতন : শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিচার শুরু

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক ও বর্তমান ১০ সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। 

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। 

এদিন শুনানির শুরুতে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের করা অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। পরে গ্রেফতারকৃত ১০ আসামিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়। প্রসিকিউশন পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ও শাইখ মাহদী। 

এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা ১০ সেনা কর্মকর্তা হলেন— র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম। 

অন্যদিকে শেখ হাসিনাসহ ৭ জন পলাতক রয়েছেন। পলাতক অন্য আসামিরা হলেন— শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ ও র‌্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. খায়রুল ইসলাম। 

আজকের শুনানিকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সকাল ১০টার পর সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে কড়া পাহারায় ১০ কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে টিএফআই সেলে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে চলা নির্যাতনের বীভৎসতা তুলে ধরা হয়। চিফ প্রসিকিউটর জানান, গুমের শিকার ব্যক্তিদের ভাগ্য নির্ধারণ হতো দুইভাবে; ভাগ্য ভালো হলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হতো। নয়তো, সাত-আট বছর গুম রাখার পর ফেলে রাখা হতো অজানা কোনো স্থানে। 

উল্লেখ্য, এ মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য ২১ ডিসেম্বর দিন ধার্য ছিল। তবে অভিযুক্ত তোফায়েল, কামরুল ও মশিউরের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী পুনরায় শুনানির আবেদন করলে আদালত সময় পিছিয়ে আজকের দিন ধার্য করেন। এর আগে ১৪ ডিসেম্বর আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ, তাবারক হোসেন ও শেখ হাসিনার পক্ষে মো. আমির হোসেনসহ অন্য আইনজীবীরা আসামিদের অব্যাহতির আবেদন করেছিলেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম তখন অভিযোগ গঠনের জোরালো আবেদন জানান।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বিচারকাজ বিলম্বিত করতে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের এ ধরনের আবেদনের তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন। তিনি শুনানিতে টিএফআই সেলে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে চলা নির্যাতনের বীভৎসতা তুলে ধরেন। 

গত ৮ অক্টোবর এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরবর্তীতে ১৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে ২২ অক্টোবর ১০ সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। নির্ধারিত তারিখে পলাতক আসামিরা হাজির না হওয়ায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন এবং পরবর্তীতে তাদের পক্ষে ‘স্টেট ডিফেন্স’ বা রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।

আজকের আদেশের পর ট্রাইব্যুনাল শিগগিরই প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করবেন। 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের ইফতার আয়োজন: বিশৃঙ্খলা ও খাবার সংকটে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

টিএফআই সেলে গুম-নির্যাতন : শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিচার শুরু

আপডেট সময় : ০৩:০০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক ও বর্তমান ১০ সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। 

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। 

এদিন শুনানির শুরুতে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের করা অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। পরে গ্রেফতারকৃত ১০ আসামিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়। প্রসিকিউশন পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ও শাইখ মাহদী। 

এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা ১০ সেনা কর্মকর্তা হলেন— র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম। 

অন্যদিকে শেখ হাসিনাসহ ৭ জন পলাতক রয়েছেন। পলাতক অন্য আসামিরা হলেন— শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ ও র‌্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. খায়রুল ইসলাম। 

আজকের শুনানিকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সকাল ১০টার পর সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে কড়া পাহারায় ১০ কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে টিএফআই সেলে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে চলা নির্যাতনের বীভৎসতা তুলে ধরা হয়। চিফ প্রসিকিউটর জানান, গুমের শিকার ব্যক্তিদের ভাগ্য নির্ধারণ হতো দুইভাবে; ভাগ্য ভালো হলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হতো। নয়তো, সাত-আট বছর গুম রাখার পর ফেলে রাখা হতো অজানা কোনো স্থানে। 

উল্লেখ্য, এ মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য ২১ ডিসেম্বর দিন ধার্য ছিল। তবে অভিযুক্ত তোফায়েল, কামরুল ও মশিউরের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী পুনরায় শুনানির আবেদন করলে আদালত সময় পিছিয়ে আজকের দিন ধার্য করেন। এর আগে ১৪ ডিসেম্বর আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ, তাবারক হোসেন ও শেখ হাসিনার পক্ষে মো. আমির হোসেনসহ অন্য আইনজীবীরা আসামিদের অব্যাহতির আবেদন করেছিলেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম তখন অভিযোগ গঠনের জোরালো আবেদন জানান।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বিচারকাজ বিলম্বিত করতে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের এ ধরনের আবেদনের তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন। তিনি শুনানিতে টিএফআই সেলে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে চলা নির্যাতনের বীভৎসতা তুলে ধরেন। 

গত ৮ অক্টোবর এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরবর্তীতে ১৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে ২২ অক্টোবর ১০ সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। নির্ধারিত তারিখে পলাতক আসামিরা হাজির না হওয়ায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন এবং পরবর্তীতে তাদের পক্ষে ‘স্টেট ডিফেন্স’ বা রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।

আজকের আদেশের পর ট্রাইব্যুনাল শিগগিরই প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করবেন।