ঢাকা ০৭:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমদ সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত

বরেণ্য সাংবাদিক ও ‘আমার দেশ’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদকে সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক শাখা থেকে আজ রোববার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তাকে সচিব পদমর্যাদায় (গ্রেড-১) এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছর মেয়াদে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য অফিসার পদে তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো। এই নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে।

সৈয়দ আবদাল আহমদ ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপ-প্রেসসচিব (সরকারের উপসচিব পদমর্যাদা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের দু’বারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সাংবাদিকতায় তার অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮৯ সালে মর্যাদাপূর্ণ ফিলিপস পুরস্কার এবং এসকাপ-এফইজেবি পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও, তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন।

১৯৬২ সালের ২৮ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগরের নাসিরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণকারী এই সাংবাদিক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে বিএসসি অনার্স ও এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮২ সালে দৈনিক বাংলায় বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার হিসেবে তার সাংবাদিকতা জীবন শুরু হয় এবং ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি এই পত্রিকায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি বাসস, দৈনিক জনকণ্ঠ, দৈনিক দিনকাল, সাপ্তাহিক বিচিত্রা এবং দৈনিক আমার দেশ-সহ দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে কাজ করেছেন।

তিনি ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলা একাডেমির জীবন সদস্য হিসেবেও তিনি পরিচিত। সম্প্রতি নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক আমার দেশ-এর নির্বাহী সম্পাদক এবং কিশোর মাসিক টুনটুনির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে কর্মরত। তার লেখা ২০টিরও বেশি বই রয়েছে, যার মধ্যে ‘নন্দিত নেত্রী খালেদা জিয়া’ (প্রথম জীবনীগ্রন্থ), ‘বুড়িগঙ্গা তীরের রহস্যনগরী’, ‘কিংবদন্তির জিয়া’, ‘চিরকালের ছড়া কবিতা’ এবং ‘মহান ভাষা আন্দোলন’ উল্লেখযোগ্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমদ সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত

আপডেট সময় : ০৬:০৭:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

বরেণ্য সাংবাদিক ও ‘আমার দেশ’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদকে সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক শাখা থেকে আজ রোববার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তাকে সচিব পদমর্যাদায় (গ্রেড-১) এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছর মেয়াদে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য অফিসার পদে তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো। এই নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে।

সৈয়দ আবদাল আহমদ ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপ-প্রেসসচিব (সরকারের উপসচিব পদমর্যাদা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের দু’বারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সাংবাদিকতায় তার অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮৯ সালে মর্যাদাপূর্ণ ফিলিপস পুরস্কার এবং এসকাপ-এফইজেবি পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও, তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন।

১৯৬২ সালের ২৮ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগরের নাসিরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণকারী এই সাংবাদিক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে বিএসসি অনার্স ও এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮২ সালে দৈনিক বাংলায় বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার হিসেবে তার সাংবাদিকতা জীবন শুরু হয় এবং ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি এই পত্রিকায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি বাসস, দৈনিক জনকণ্ঠ, দৈনিক দিনকাল, সাপ্তাহিক বিচিত্রা এবং দৈনিক আমার দেশ-সহ দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে কাজ করেছেন।

তিনি ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলা একাডেমির জীবন সদস্য হিসেবেও তিনি পরিচিত। সম্প্রতি নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক আমার দেশ-এর নির্বাহী সম্পাদক এবং কিশোর মাসিক টুনটুনির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে কর্মরত। তার লেখা ২০টিরও বেশি বই রয়েছে, যার মধ্যে ‘নন্দিত নেত্রী খালেদা জিয়া’ (প্রথম জীবনীগ্রন্থ), ‘বুড়িগঙ্গা তীরের রহস্যনগরী’, ‘কিংবদন্তির জিয়া’, ‘চিরকালের ছড়া কবিতা’ এবং ‘মহান ভাষা আন্দোলন’ উল্লেখযোগ্য।