কুড়িগ্রামে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমে আসায় দিন দিন শীতের দাপট বাড়ছে। বিশেষ করে গ্রাম ও চরাঞ্চলে জেঁকে বসেছে শীত। চলতি সপ্তাহে জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
জেলার রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার জানায়, মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা গতকাল সোমবার ছিল ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা স্বাভাবিক কক্ষ তাপমাত্রার (২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) চেয়ে কম।
এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত জেলা শহরে সূর্যের দেখা মেলেনি। এ সময় সড়কে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশ আর হিমেল হাওয়ায় জেলাজুড়ে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। দুর্ভোগে পড়েছে শ্রমজীবী ও দুঃস্থ মানুষ। শিশুদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অভিভাবকরা।
সকাল থেকে কুয়াচ্ছন্ন থাকায় জেলার চিলমারী-রৌমারী-রাজিবপুর নৌপথে ব্রহ্মপুত্র নদে চলাচলকারী নৌকাগুলো সময় মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি। শীতের তীব্রতায় চরাঞ্চলের মানুষজন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তবে জীবিকার তাগিদে জনজীবন থমকে নেই। শীতের মধ্যেও কাজে বের হয়েছেন শ্রমজীবীরা। মাঠে কৃষি কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
উলিপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকার রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর বলেন, গত তিন দিন ধরে শীতের তীব্রতা বেশি। মানুষের কষ্ট হচ্ছে। লোকজন বেলা করে কাজে বের হচ্ছে। আজতো (মঙ্গলবার) ঠান্ডায় দুপুরেও পা থেকে মোজা খুলতে পারতেছি না।
জেলায় শীতার্তদের দুর্ভোগ লাঘবে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। চরাঞ্চলসহ গ্রামীণ স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করে শীতার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠন। তবে দুর্ভোগে থাকা লোকজনের দাবি, শুধু কম্বল নয় শীতবস্ত্র হিসেবে তাদের প্রয়োজন সোয়েটার, চাদর কিংবা ট্রাউজার। যা পরিধান করে তারা মাঠে কাজ করতে পারবেন।
শীতের তীব্রতা বাড়লেও হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিক রয়েছে। শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডেও রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিক। তবে শীতজনিত রোগ থেকে বাঁচতে বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আল-আমিন মাসুদ শিশুদের প্রতি যত্নের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘শীতে শিশুদের সুরক্ষায় বাড়তি যত্ন নেওয়া উচিত। শিশুদের বাইরে নিয়ে গেলে ধুলাবালি ও ঠান্ডা এড়িয়ে চলতে হবে। কুয়াশায় কোনওভাবে শিশুদের বের করা উচিত হবে না।’
‘গ্রামাঞ্চলে ঘরের ভিতর খড় জ্বালিয়ে উত্তাপ নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এতে সৃষ্ট ধোঁয়ায় শিশুর মারাত্মক ক্ষতি হয়। এটা না করে শিশুদের গরম কাপড় পরিধান করাতে হবে। ঠান্ডা থেকে নিরাপদে রাখতে হবে,’ যোগ করেন এই চিকিৎসক।
রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, ‘তাপমাত্রা কমছে। উত্তরের হিমেল হাওয়ার কারণে বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তবে বৃষ্টির কোনও পূর্বাভাস নেই।’
রিপোর্টারের নাম 

























