ঢাকা ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

মালয়েশিয়া শ্রমবাজার সিন্ডিকেটের কবলে: শোষণের অবসান চেয়ে জাতীয় সংলাপ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৭:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নীতিগত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নগত দুর্বলতার কারণে শক্তিশালী সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে, যার ফলে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে অভিবাসন ব্যয়। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) আয়োজিত এক জাতীয় সংলাপে বক্তারা এই শোষণের চিত্র তুলে ধরেন। সংলাপে জানানো হয়, অস্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থার কারণে অভিবাসী শ্রমিকরা চরম ঋণগ্রস্ততা, প্রতারণা ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের ঝুঁকিতে পড়ছেন। বিশেষ করে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও বিভিন্ন নিয়োগ মডেল বারবার ব্যর্থ হওয়ায় সিন্ডিকেটের আধিপত্য ভাঙা সম্ভব হচ্ছে না, যা শ্রমিক ও তাদের পরিবারের জন্য অপূরণীয় সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি বয়ে আনছে।

সংলাপে মালয়েশিয়া ফেরত শ্রমিকরা তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, দালালের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা দিয়েও সেখানে গিয়ে তারা কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েন এবং প্রতিবাদ করায় দেশে ফেরত পাঠানো হয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পলিসি অ্যাডভাইজর জিয়া হাসান এই শ্রম অভিবাসন করিডোরকে একটি ‘সংগঠিত অপরাধ কাঠামো’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ফেরত আসা শ্রমিকদের পুনঃএকত্রীকরণ এবং নিয়োগ ব্যবস্থায় জড়িত কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহলের বিরুদ্ধে কঠোর কাঠামোগত সংস্কার এখন সময়ের দাবি। সরকার ও অংশীজনদের যৌথ তদন্ত ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই সংকট সমাধানের আহ্বান জানানো হয়।

ওকাপের চেয়ারপারসন শাকিরুল ইসলাম সংাপের সমাপনী বক্তব্যে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মালয়েশিয়া শ্রমবাজার সংস্কারের তাগিদ দেন। সংলাপে অংশগ্রহণকারী মালয়েশিয়ার সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধিরা দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ারও দাবি জানান। এই জাতীয় সংলাপের সুপারিশগুলোকে প্রকৃত নীতিগত পদক্ষেপে রূপান্তর করতে পারলে শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরবে বলে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন। মূলত শোষণের অবসান ঘটিয়ে একটি মানবিক ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের ইফতার আয়োজন: বিশৃঙ্খলা ও খাবার সংকটে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

মালয়েশিয়া শ্রমবাজার সিন্ডিকেটের কবলে: শোষণের অবসান চেয়ে জাতীয় সংলাপ

আপডেট সময় : ১২:৪৭:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নীতিগত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নগত দুর্বলতার কারণে শক্তিশালী সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে, যার ফলে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে অভিবাসন ব্যয়। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) আয়োজিত এক জাতীয় সংলাপে বক্তারা এই শোষণের চিত্র তুলে ধরেন। সংলাপে জানানো হয়, অস্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থার কারণে অভিবাসী শ্রমিকরা চরম ঋণগ্রস্ততা, প্রতারণা ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের ঝুঁকিতে পড়ছেন। বিশেষ করে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও বিভিন্ন নিয়োগ মডেল বারবার ব্যর্থ হওয়ায় সিন্ডিকেটের আধিপত্য ভাঙা সম্ভব হচ্ছে না, যা শ্রমিক ও তাদের পরিবারের জন্য অপূরণীয় সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি বয়ে আনছে।

সংলাপে মালয়েশিয়া ফেরত শ্রমিকরা তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, দালালের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা দিয়েও সেখানে গিয়ে তারা কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েন এবং প্রতিবাদ করায় দেশে ফেরত পাঠানো হয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পলিসি অ্যাডভাইজর জিয়া হাসান এই শ্রম অভিবাসন করিডোরকে একটি ‘সংগঠিত অপরাধ কাঠামো’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ফেরত আসা শ্রমিকদের পুনঃএকত্রীকরণ এবং নিয়োগ ব্যবস্থায় জড়িত কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহলের বিরুদ্ধে কঠোর কাঠামোগত সংস্কার এখন সময়ের দাবি। সরকার ও অংশীজনদের যৌথ তদন্ত ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই সংকট সমাধানের আহ্বান জানানো হয়।

ওকাপের চেয়ারপারসন শাকিরুল ইসলাম সংাপের সমাপনী বক্তব্যে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মালয়েশিয়া শ্রমবাজার সংস্কারের তাগিদ দেন। সংলাপে অংশগ্রহণকারী মালয়েশিয়ার সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধিরা দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ারও দাবি জানান। এই জাতীয় সংলাপের সুপারিশগুলোকে প্রকৃত নীতিগত পদক্ষেপে রূপান্তর করতে পারলে শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরবে বলে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন। মূলত শোষণের অবসান ঘটিয়ে একটি মানবিক ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।