বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তির (ইপিএ) খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মাসেই (জানুয়ারি) এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে। গতকাল সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং এই চুক্তি দুই দেশের বিনিয়োগ আকর্ষণ ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রসারে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
এটিই হবে কোনো উন্নত দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি। চুক্তির শর্তানুসারে, বাংলাদেশ জাপানের জন্য ৯৭টি উপখাত উন্মুক্ত করবে, বিনিময়ে জাপান বাংলাদেশের জন্য ১২০টি উপখাত খুলে দেবে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। অন্যদিকে, জাপানের ১ হাজার ৩৯টি পণ্য বাংলাদেশের বাজারে একই সুবিধা ভোগ করবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ দেশের রপ্তানি খাতে, বিশেষ করে শিল্প ও উৎপাদন ক্ষেত্রে ব্যাপক গতি সঞ্চার করবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়াটি মোট আট দফা বৈঠকের পর চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ মাত্র ৫০ কোটি ডলার, যা অত্যন্ত সামান্য। কাঠামোগত এই চুক্তির ফলে বিনিয়োগের প্রধান বাধাগুলো দূর হবে এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজ হবে। মূলত মুক্ত বাণিজ্য প্রসারের লক্ষ্যে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানোই এই ইপিএ চুক্তির মূল উদ্দেশ্য, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
রিপোর্টারের নাম 





















