প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে উগ্রপন্থী সন্ত্রাসীদের হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট এবং সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীরকে হেনস্তা করার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে দেশের সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজ। গত সোমবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন ‘সম্পাদক পরিষদ’ ও মালিকদের সংগঠন ‘নোয়াব’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক যৌথ প্রতিবাদ সভায় বক্তারা এই ঘটনাকে কেবল গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণ নয়, বরং গণতন্ত্র ও বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অস্তিত্বের ওপর আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছেন। সভা শেষে হোটেলের সামনের রাস্তায় এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সংহতি প্রকাশ করেন।
প্রতিবাদ সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ও কথা বলার অধিকারের ওপর আজ বড় আঘাত এসেছে, যা জুলাই বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থী। তিনি অন্ধকার শক্তিকে রুখতে সকল গণতন্ত্রকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই হামলার পেছনে সরকারের একটি অংশের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের একে নির্বাচন ভণ্ডুল করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেন। অন্যদিকে, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর বলেন, কর্মরত সংবাদকর্মীদের অবরুদ্ধ করে অফিসে আগুন দেওয়া এবং ফায়ার সার্ভিসকে বাধা দেওয়া মধ্যযুগীয় বর্বরতা ও পরিকল্পিত হত্যার চেষ্টা। ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম জানান, বর্তমানে সাংবাদিকদের জীবনের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। নোয়াব সভাপতি এ কে আজাদ ঘোষণা করেন যে, হামলাকারীদের বিচার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এর প্রতিবাদে আগামী জানুয়ারির মাঝামাঝিতে সারা দেশের সাংবাদিকদের নিয়ে একটি ‘সাংবাদিক মহাসম্মেলন’ আয়োজনের ডাক দেওয়া হয়েছে। সভায় ব্যবসায়ী নেতা, আইনজীবী এবং মানবাধিকারকর্মীরাও উপস্থিত থেকে সরকারের প্রতি জানমালের নিরাপত্তা এবং পরমতসহিষ্ণুতা বজায় রাখার জোর দাবি জানান।
রিপোর্টারের নাম 





















