ঢাকা ০৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

দীপু দাসকে পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, সব আসামিকে গ্রেফতারে আলটিমেটাম

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫১:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে (২৭) পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এসব কর্মসূচি থেকে দীপু হত্যায় জড়িত সব আসামিকে গ্রেফতারে সাত দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়।

সোমবার সকাল ও দুপুরে ময়মনসিংহ শহর ও তারাকান্দা উপজেলায় পৃথক কর্মসূচি পালিত হয়। দুপুর ১২টার দিকে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহানগর শাখার সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াসের উদ্যোগে প্রতিবাদ সভা করা হয়।

সভায় আল নূর মোহাম্মদ আয়াস বলেন, ‘ভালুকায় গার্মেন্টস কর্মী দীপু দাসকে মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার পর মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে আগুন দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগও উঠেছে। তবে এ বিষয়ে এখনও সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়নি। উগ্রবাদীদের দ্বারা সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। এই পৈশাচিক হত্যা আমরা কোনোভাবেই মানতে পারি না। দীপুর পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কারখানা কর্তৃপক্ষের অবহেলা এখানে স্পষ্ট ছিল। তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা প্রশাসনকে সাত দিনের আলটিমেটাম দিচ্ছি—এর মধ্যে সব আসামিকে গ্রেফতার করতে হবে।’

এর আগে বেলা ১১টার দিকে দীপু দাস হত্যার প্রতিবাদে তারাকান্দায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের তারাকান্দা উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে নিহতের স্বজনরাও অংশ নেন।

তারাকান্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে দীপু দাসের গ্রামের বাড়ি বানিহালা ইউনিয়নের মোকামিয়াকান্দা গ্রামে যায়। বিক্ষোভে অংশ নেন দীপু দাসের বাবা রবি দাস, মা শেফালী চন্দ্র দাস ও স্ত্রী মেঘলা রানী দাস।

এ সময় রবি চন্দ্র দাস বলেন, ‘ছেলেকে নৃশংসভাবে হত্যায় জড়িতদের বিচার দাবি করছি। আমরা অসহায় পরিবার। আমার ছেলেটাকে এমনভাবে ওরা মারলো। আমার পরিবারের তো ভরসার আর কোনও জায়গা রাখলো না। দীপুর দেড় বছর বয়সী সন্তানটার কী হবে? আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।’

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের ময়মনসিংহ উত্তর জেলা শাখার আহ্বায়ক সুব্রত পাল, সদস্যসচিব বিশ্বজিৎ ঘোষ, তারাকান্দা উপজেলা শাখার সভাপতি রতন ভৌমিক ও সদস্যসচিব কাঞ্চন শর্মা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিটি কর্পোরেশনের ৪৭০ কোটি টাকার বিল বকেয়া: নতুন প্রশাসকদের কঠিন চ্যালেঞ্জ

দীপু দাসকে পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, সব আসামিকে গ্রেফতারে আলটিমেটাম

আপডেট সময় : ০৫:৫১:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে (২৭) পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এসব কর্মসূচি থেকে দীপু হত্যায় জড়িত সব আসামিকে গ্রেফতারে সাত দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়।

সোমবার সকাল ও দুপুরে ময়মনসিংহ শহর ও তারাকান্দা উপজেলায় পৃথক কর্মসূচি পালিত হয়। দুপুর ১২টার দিকে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহানগর শাখার সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াসের উদ্যোগে প্রতিবাদ সভা করা হয়।

সভায় আল নূর মোহাম্মদ আয়াস বলেন, ‘ভালুকায় গার্মেন্টস কর্মী দীপু দাসকে মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার পর মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে আগুন দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগও উঠেছে। তবে এ বিষয়ে এখনও সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়নি। উগ্রবাদীদের দ্বারা সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। এই পৈশাচিক হত্যা আমরা কোনোভাবেই মানতে পারি না। দীপুর পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কারখানা কর্তৃপক্ষের অবহেলা এখানে স্পষ্ট ছিল। তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা প্রশাসনকে সাত দিনের আলটিমেটাম দিচ্ছি—এর মধ্যে সব আসামিকে গ্রেফতার করতে হবে।’

এর আগে বেলা ১১টার দিকে দীপু দাস হত্যার প্রতিবাদে তারাকান্দায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের তারাকান্দা উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে নিহতের স্বজনরাও অংশ নেন।

তারাকান্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে দীপু দাসের গ্রামের বাড়ি বানিহালা ইউনিয়নের মোকামিয়াকান্দা গ্রামে যায়। বিক্ষোভে অংশ নেন দীপু দাসের বাবা রবি দাস, মা শেফালী চন্দ্র দাস ও স্ত্রী মেঘলা রানী দাস।

এ সময় রবি চন্দ্র দাস বলেন, ‘ছেলেকে নৃশংসভাবে হত্যায় জড়িতদের বিচার দাবি করছি। আমরা অসহায় পরিবার। আমার ছেলেটাকে এমনভাবে ওরা মারলো। আমার পরিবারের তো ভরসার আর কোনও জায়গা রাখলো না। দীপুর দেড় বছর বয়সী সন্তানটার কী হবে? আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।’

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের ময়মনসিংহ উত্তর জেলা শাখার আহ্বায়ক সুব্রত পাল, সদস্যসচিব বিশ্বজিৎ ঘোষ, তারাকান্দা উপজেলা শাখার সভাপতি রতন ভৌমিক ও সদস্যসচিব কাঞ্চন শর্মা।