ঢাকা ০৪:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

‎রাকসু জিএস আম্মারের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৯:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

‎রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদকের (জিএস) সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। রবিবার (২১ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে তারা এই নিন্দা জানান।

‎সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত কয়েকদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের অনুষদ অধিকর্তা (ডিন) সম্পর্কে রাকসুর সাধারণ সম্পাদকের দেওয়া বক্তব্য প্রচারিত হলে তা আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিগোচর হয়। এ প্রেক্ষিতে এক যৌথ প্রতিক্রিয়ায় তারা জানান, উক্ত বক্তব্য ভাষাগতভাবে ঔদ্ধত্যপূর্ণ, শালীনতা ও সৌজন্যবোধবর্জিত এবং একটি মর্যাদাসম্পন্ন অ্যাকাডেমিক পদকে হেয় প্রতিপন্ন করার সুস্পষ্ট অপচেষ্টা।

‎‎আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলেন,  ‘একজন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে রাকসুর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বশীলতা, সংযম ও প্রাতিষ্ঠানিক আচরণ প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বক্তব্যে তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র ফুটে উঠেছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

‎বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, বিভিন্ন সূত্রে তারা অবগত হয়েছেন যে, অনুষদ অধিকর্তাদের নির্বাচিত মেয়াদ সমাপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য তাঁদের দায়িত্ব অব্যাহত রাখতে অনুরোধ জানিয়েছেন। এ ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে কারও ভিন্নমত বা আপত্তি থাকলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ভেতরে আলোচনা, আবেদন কিংবা প্রতিবাদের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেই পথ অনুসরণ না করে দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য, কুরুচিপূর্ণ ভাষা প্রয়োগ এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার হুমকি প্রদান আইনশৃঙ্খলা, শিষ্টাচার ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থি।

‎তারা আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি কর্তৃক সম্ভাব্য অন্যায়, অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তা নিষ্পত্তির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে সুস্পষ্ট বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা বিদ্যমান। সেই প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে জনসমক্ষে অবমাননাকর ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান একজন নির্বাচিত শিক্ষার্থী প্রতিনিধির কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয় এবং এটি দায়িত্বশীল আচরণের চরম ব্যত্যয়।

‎বিবৃতির শেষাংশে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট সকলকে নিজ নিজ অবস্থানের মর্যাদা, সীমা ও দায়িত্ববোধ অক্ষুণ্ণ রেখে বক্তব্য ও কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি জোরালো অনুরোধ জানান—বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে এমন যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা, উসকানি ও দুরভিসন্ধি প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্ক ও দৃঢ় ভূমিকা গ্রহণের জন্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালের কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদ: ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের স্মৃতি বিজড়িত এক স্থাপত্য

‎রাকসু জিএস আম্মারের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের

আপডেট সময় : ১১:১৯:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

‎রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদকের (জিএস) সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। রবিবার (২১ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে তারা এই নিন্দা জানান।

‎সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত কয়েকদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের অনুষদ অধিকর্তা (ডিন) সম্পর্কে রাকসুর সাধারণ সম্পাদকের দেওয়া বক্তব্য প্রচারিত হলে তা আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিগোচর হয়। এ প্রেক্ষিতে এক যৌথ প্রতিক্রিয়ায় তারা জানান, উক্ত বক্তব্য ভাষাগতভাবে ঔদ্ধত্যপূর্ণ, শালীনতা ও সৌজন্যবোধবর্জিত এবং একটি মর্যাদাসম্পন্ন অ্যাকাডেমিক পদকে হেয় প্রতিপন্ন করার সুস্পষ্ট অপচেষ্টা।

‎‎আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলেন,  ‘একজন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে রাকসুর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বশীলতা, সংযম ও প্রাতিষ্ঠানিক আচরণ প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বক্তব্যে তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র ফুটে উঠেছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

‎বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, বিভিন্ন সূত্রে তারা অবগত হয়েছেন যে, অনুষদ অধিকর্তাদের নির্বাচিত মেয়াদ সমাপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য তাঁদের দায়িত্ব অব্যাহত রাখতে অনুরোধ জানিয়েছেন। এ ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে কারও ভিন্নমত বা আপত্তি থাকলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ভেতরে আলোচনা, আবেদন কিংবা প্রতিবাদের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেই পথ অনুসরণ না করে দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য, কুরুচিপূর্ণ ভাষা প্রয়োগ এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার হুমকি প্রদান আইনশৃঙ্খলা, শিষ্টাচার ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থি।

‎তারা আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি কর্তৃক সম্ভাব্য অন্যায়, অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তা নিষ্পত্তির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে সুস্পষ্ট বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা বিদ্যমান। সেই প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে জনসমক্ষে অবমাননাকর ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান একজন নির্বাচিত শিক্ষার্থী প্রতিনিধির কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয় এবং এটি দায়িত্বশীল আচরণের চরম ব্যত্যয়।

‎বিবৃতির শেষাংশে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট সকলকে নিজ নিজ অবস্থানের মর্যাদা, সীমা ও দায়িত্ববোধ অক্ষুণ্ণ রেখে বক্তব্য ও কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি জোরালো অনুরোধ জানান—বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে এমন যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা, উসকানি ও দুরভিসন্ধি প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্ক ও দৃঢ় ভূমিকা গ্রহণের জন্য।