ঢাকা ১১:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে প্রস্তুত সৌদি আরব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৩:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
  • ৪৬ বার পড়া হয়েছে

সৌদি আরব এবং যুক্তরাষ্ট্র একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে আলোচনা করছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী মাসেই ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান হোয়াইট হাউজ সফরে গেলে এই চুক্তিটি স্বাক্ষর হতে পারে। এই তথ্য জানিয়েছে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

আলোচনার সঙ্গে যুক্ত থাকা এক সাবেক মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে নিশ্চিত করেছেন যে ক্রাউন প্রিন্সের সফরের সময় চুক্তিটি সই করার বিষয় নিয়ে কথাবার্তা চলছে, তবে এর খুঁটিনাটি বিষয়গুলো এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

এই প্রস্তাবিত চুক্তির ধরন অনেকটা যুক্তরাষ্ট্র-কাতার প্রতিরক্ষা চুক্তির মতোই হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে কাতারের ওপর কোনো সামরিক হামলা হলে তাকে আমেরিকার ওপর হামলা হিসেবেই গণ্য করা হবে। এই কাতার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ইসরায়েলের দোহায় হামাস নেতাদের হত্যা চেষ্টার ঠিক পরপরই।

যদিও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মন্তব্য করতে রাজি হয়নি, তবে তারা জানিয়েছে যে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা তাদের আঞ্চলিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তবে সম্ভাব্য চুক্তির বিশদ বিবরণ সম্পর্কে তারা কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

একইভাবে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, হোয়াইট হাউজ এবং সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরব কাতারের মতো একটি নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চেয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। এটি ওয়াশিংটনের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ, যেখানে তারা রিয়াদ-তেল আবিব সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আলোচনাকে এগিয়ে নিতে চাইছে।

এরই মধ্যে গত মাসে সৌদি আরব পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের সঙ্গে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই ধরনের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন কৌশলগত ভারসাম্য তৈরি করবে। বিশেষ করে ইরান এবং ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তির গুরুত্ব অনেক।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগানিস্তানের পাল্টা হামলা: পাকিস্তানের সেনা ক্যাম্পে আঘাত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে প্রস্তুত সৌদি আরব

আপডেট সময় : ১২:০৩:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

সৌদি আরব এবং যুক্তরাষ্ট্র একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে আলোচনা করছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী মাসেই ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান হোয়াইট হাউজ সফরে গেলে এই চুক্তিটি স্বাক্ষর হতে পারে। এই তথ্য জানিয়েছে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

আলোচনার সঙ্গে যুক্ত থাকা এক সাবেক মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে নিশ্চিত করেছেন যে ক্রাউন প্রিন্সের সফরের সময় চুক্তিটি সই করার বিষয় নিয়ে কথাবার্তা চলছে, তবে এর খুঁটিনাটি বিষয়গুলো এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

এই প্রস্তাবিত চুক্তির ধরন অনেকটা যুক্তরাষ্ট্র-কাতার প্রতিরক্ষা চুক্তির মতোই হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে কাতারের ওপর কোনো সামরিক হামলা হলে তাকে আমেরিকার ওপর হামলা হিসেবেই গণ্য করা হবে। এই কাতার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ইসরায়েলের দোহায় হামাস নেতাদের হত্যা চেষ্টার ঠিক পরপরই।

যদিও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মন্তব্য করতে রাজি হয়নি, তবে তারা জানিয়েছে যে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা তাদের আঞ্চলিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তবে সম্ভাব্য চুক্তির বিশদ বিবরণ সম্পর্কে তারা কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

একইভাবে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, হোয়াইট হাউজ এবং সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরব কাতারের মতো একটি নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চেয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। এটি ওয়াশিংটনের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ, যেখানে তারা রিয়াদ-তেল আবিব সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আলোচনাকে এগিয়ে নিতে চাইছে।

এরই মধ্যে গত মাসে সৌদি আরব পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের সঙ্গে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই ধরনের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন কৌশলগত ভারসাম্য তৈরি করবে। বিশেষ করে ইরান এবং ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তির গুরুত্ব অনেক।