মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে সাম্প্রতিক মৌসুমী ঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট বন্যা এবং ভয়াবহ ভূমিধসে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আরও ৭৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনো জরুরি অবস্থা বলবৎ আছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্য মেক্সিকো এবং পূর্ব উপকূলরেখা বরাবর পাঁচটি রাজ্য সপ্তাহান্তে তীব্র বৃষ্টিপাত ও বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত ৭৫ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
উপসাগরীয় উপকূলীয় রাজ্য ভেরাক্রুজ ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ সেখানে ৩০ জনের মৃত্যু এবং ১৮ জন নিখোঁজ থাকার খবর নিশ্চিত করেছে।
মধ্য মেক্সিকোর হিডালগো রাজ্যে ২১ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি ৫০ জন নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। এই রাজ্যেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
পুয়েবলা রাজ্য কর্তৃপক্ষ ১৪ জনের মৃত্যু এবং সাতজন নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, কুয়েরেতারো কর্তৃপক্ষ একজনের হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সান লুইস পোটোসি রাজ্যে অবশ্য কোনো মৃত্যু বা নিখোঁজ ব্যক্তির খবর পাওয়া যায়নি। তবে সেখানে অবকাঠামো এবং ঘরবাড়ির উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে।
ফেডারেল সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করার জন্য সামরিক কর্মীদের মোতায়েন করেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
সরকারি ও বেসামরিক সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এর মধ্যে ১৯টি বিচ্ছিন্ন সম্প্রদায়ও রয়েছে যারা বর্তমানে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে।
এই মানবিক সংকটের মধ্যে অপ্রত্যাশিত মহল থেকেও সাহায্যের খবর পাওয়া গেছে। মেক্সিকোর অন্যতম সহিংস ও কুখ্যাত মাদক পাচারকারী সংগঠন জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল (সিজেএনজি)-কে ত্রাণ বিতরণ করতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, গ্যাং সদস্যরা কৌশলগত পোশাক ও অস্ত্র হাতে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করছে।
তবে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওগুলোর সত্যতা অস্বীকার করেছেন। তিনি এ সময় সামরিক বাহিনীর ত্রাণ বিতরণের ছবি শেয়ার করেন।
রিপোর্টারের নাম 






















