বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন মন্তব্য করেছেন যে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে যেন কোনো প্রকার হয়রানি ছাড়াই বিনিয়োগের সুযোগ পান, সেটাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।তিনি গত বুধবার (১৫ অক্টোবর) বিডা আয়োজিত এক সচেতনতামূলক কর্মশালায় এই কথা জানান।বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশকে আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং দ্রুত করার উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে বিডা এই কর্মশালার আয়োজন করেছিল।চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানটি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বিডার মাল্টিপারপাস হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালাটি আয়োজনে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং টিইপিপি প্রকল্প সহযোগিতা প্রদান করে।কর্মশালায় আশিক চৌধুরী বলেন, ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশের আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের লক্ষ্যে তাঁরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করে চলেছেন। তিনি বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেন, “আমরা চাই, বিদেশ থেকে যারা বাংলাদেশে ব্যবসা করতে বা কাজ করতে আসেন, তারা যেন একটি সহজ ও বন্ধুত্বপূর্ণ, অর্থাৎ হ্যাসেল-ফ্রি (হয়রানিমুক্ত) বিনিয়োগ পরিবেশ পান।” তিনি আরও জানান, বিদেশিদের কর্মানুমতির একটি বড় অংশ এরই মধ্যে ডিজিটাল করা হয়েছে, যার মধ্যে বিডার অনুমতি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ছাড়পত্র অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে তারা অভিবাসন বিভাগের সঙ্গে মিলে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকেও ডিজিটাল করার উদ্যোগ নিচ্ছেন।চেয়ারম্যান আরও বলেন, বিনিয়োগকারীরা যেন প্রতিটি সংস্থায় একই ধরনের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা পান, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তাই বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে অযৌক্তিক কোনো পার্থক্য বা ব্যবধান থাকা উচিত নয়।এই কর্মশালায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পাসপোর্ট ও অভিবাসন অধিদপ্তর এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, বিডার সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের ফলেই তারা বিদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা ছাড়পত্র প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অনলাইনে নিয়ে আসতে পেরেছেন। বর্তমানে তারা পাসপোর্টসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলোর ডিজিটালাইজেশনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।বিডার পরিচালক (আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ উন্নয়ন উইং) মো. আরিফুল হক মন্তব্য করেন, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা যদি নিয়মিতভাবে তাদের অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জগুলো জানান, তাহলে বিডার নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো আরও বেশি কার্যকর হবে এবং বিনিয়োগ সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে বিডা কর্তৃক প্রদত্ত নতুন কর্মসংস্থান অনুমতির সঙ্গে নিরাপত্তা ছাড়পত্র প্রদানের প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণরূপে অনলাইনে যুক্ত করা হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারী ও কর্মীরা এখন বিডার ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) পোর্টাল $\text{bidaquickserv.org}$ ব্যবহার করে তাদের আবেদন জমা দিতে পারবেন। আবেদনকারী যদি সব তথ্য ও কাগজপত্র সঠিকভাবে জমা দেন, তবে ২১ কার্যদিবসের মধ্যে কোনো আপত্তি না উঠলে নিরাপত্তা ছাড়পত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হয়ে যাবে।বিডা আরও জানিয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি নিরাপত্তা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ক পারমিট বাতিল বলে গণ্য হবে। বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও উন্নত করতে বিডা নিয়মিতভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
সংবাদ শিরোনাম::
বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে পাবেন হয়রানিমুক্ত পরিবেশ: বিডা চেয়ারম্যান
-
রিপোর্টারের নাম - আপডেট সময় : ০৯:৫২:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
- ৪৩ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ


























