ঢাকা ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ভিপি-জিএস পেল শিবির, এজিএস ছাত্রদল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০১:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে বড় চমক দেখিয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’। এই জোটের প্রার্থীরা ভিপি (সহ-সভাপতি) এবং জিএস (সাধারণ সম্পাদক) দুটি শীর্ষ পদেই বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। এই দুই শীর্ষ পদ ছাড়াও মোট ২২টি পদে তাদের প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে জয়ী হয়েছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী। চাকসু নির্বাচনে ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল থেকে ভিপি পদে ইব্রাহিম হোসেন রনি এবং জিএস পদে সাঈদ বিন হাবিব নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে, ছাত্রদলের প্যানেলের প্রার্থী আইয়ুবুর রহমান তৌফিক এজিএস হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (সময় উল্লেখ নেই, তবে ভোর সাড়ে ৪টা ধরে নিচ্ছি) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চাকসু নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করে।

চাকসুর ১৪টি হলের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, ভিপি পদে ইব্রাহিম হোসেন রনি পেয়েছেন ৭ হাজার ৯৮৩টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের সাজ্জাদ হোসেন পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৭৪ ভোট। জিএস পদে সাঈদ বিন হাবিব মোট ৮ হাজার ৩১টি ভোট পেয়েছেন। এই পদে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ছাত্রদলের মো. শাফায়াত হোসেন, যিনি ২ হাজার ৭৩৪টি ভোট পেয়েছেন। তবে এজিএস পদে ৭ হাজার ১৪টি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন ছাত্রদলের আইয়ুবুর রহমান তৌফিক। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাজ্জাদ হোসেন মুন্না পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৫টি ভোট।

গতকাল বুধবার সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বিকেল ৪টায় শেষ হয়। চাকসুর মোট ২৬টি পদের জন্য ৪১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং হল ও হোস্টেল সংসদের ২৪টি পদের জন্য লড়েন আরও ৪৯৩ জন প্রার্থী। দিনভর সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চললেও ফলাফল ঘোষণার আগে ক্যাম্পাসে কিছু উত্তেজনা দেখা যায়। বুধবার রাত একটার পর দুটি হলের ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর রাত সোয়া ৩টায় অধ্যাপক কামাল মুক্ত হন।

এদিকে, নির্বাচনের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেটের বাইরে ছাত্রদলের সমর্থনে বিএনপি এবং ছাত্রশিবিরের সমর্থনে জামায়াতের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নেন। এ সময় উভয় পক্ষই রাস্তার পাশে অবস্থান করলেও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। রাত ১টা পর্যন্ত তাদের অবস্থান করতে দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাতেই ক্যাম্পাসে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাঠের রাজা হলেও যে অপূর্ণতা আজও পোড়ায় মেসিকে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ভিপি-জিএস পেল শিবির, এজিএস ছাত্রদল

আপডেট সময় : ০৯:০১:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে বড় চমক দেখিয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’। এই জোটের প্রার্থীরা ভিপি (সহ-সভাপতি) এবং জিএস (সাধারণ সম্পাদক) দুটি শীর্ষ পদেই বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। এই দুই শীর্ষ পদ ছাড়াও মোট ২২টি পদে তাদের প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে জয়ী হয়েছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী। চাকসু নির্বাচনে ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল থেকে ভিপি পদে ইব্রাহিম হোসেন রনি এবং জিএস পদে সাঈদ বিন হাবিব নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে, ছাত্রদলের প্যানেলের প্রার্থী আইয়ুবুর রহমান তৌফিক এজিএস হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (সময় উল্লেখ নেই, তবে ভোর সাড়ে ৪টা ধরে নিচ্ছি) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চাকসু নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করে।

চাকসুর ১৪টি হলের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, ভিপি পদে ইব্রাহিম হোসেন রনি পেয়েছেন ৭ হাজার ৯৮৩টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের সাজ্জাদ হোসেন পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৭৪ ভোট। জিএস পদে সাঈদ বিন হাবিব মোট ৮ হাজার ৩১টি ভোট পেয়েছেন। এই পদে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ছাত্রদলের মো. শাফায়াত হোসেন, যিনি ২ হাজার ৭৩৪টি ভোট পেয়েছেন। তবে এজিএস পদে ৭ হাজার ১৪টি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন ছাত্রদলের আইয়ুবুর রহমান তৌফিক। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাজ্জাদ হোসেন মুন্না পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৫টি ভোট।

গতকাল বুধবার সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বিকেল ৪টায় শেষ হয়। চাকসুর মোট ২৬টি পদের জন্য ৪১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং হল ও হোস্টেল সংসদের ২৪টি পদের জন্য লড়েন আরও ৪৯৩ জন প্রার্থী। দিনভর সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চললেও ফলাফল ঘোষণার আগে ক্যাম্পাসে কিছু উত্তেজনা দেখা যায়। বুধবার রাত একটার পর দুটি হলের ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর রাত সোয়া ৩টায় অধ্যাপক কামাল মুক্ত হন।

এদিকে, নির্বাচনের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেটের বাইরে ছাত্রদলের সমর্থনে বিএনপি এবং ছাত্রশিবিরের সমর্থনে জামায়াতের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নেন। এ সময় উভয় পক্ষই রাস্তার পাশে অবস্থান করলেও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। রাত ১টা পর্যন্ত তাদের অবস্থান করতে দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাতেই ক্যাম্পাসে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়।