ঢাকা ১২:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

স্মৃতিসৌধের গণকবরের ওপর টিকটক-ফটোসেশনের হিড়িক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৪:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫৪তম বছরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে দিনভর ভিড় জমান সাধারণ জনতা। আর শ্রদ্ধা জানাতে এসে কেউ কেউ জেনে-বুঝে আবার কেউ কেউ না জেনেই পদদলিত করলেন স্মৃতিসৌধে থাকা গণকবর। আবার অনেকেই কবরের ওপর দাঁড়িয়ে করছিলেন ফটোসেশন। তরুণদের কেউ কেউ তৈরি করছিলেন টিকটক।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে মহান বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ফুল দিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয় সৌধ প্রাঙ্গণ। এ সময় রাজনৈতিক, অরাজনৈতিকসহ সর্বসাধারণের ঢল নামে জাতীয় স্মৃতিসৌধে। আর এর মধ্যেই দেখা গেলো গণকবর অবমাননার বিষয়টি।

স্মৃতিসৌধের গণকবরের ওপর টিকটক-ফটোসেশনের হিড়িক

সরেজমিনে দেখা গেছে, স্মৃতিসৌধে থাকা সমতল থেকে প্রায় দুই-তিন ফুট উচ্চতার গণকবরগুলো মাড়িয়ে হাঁটছেন অনেকেই। কেউ কেউ সেখানে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। আবার অনেকেই নেচে নেচে ভিডিও তৈরি করছিলেন। এ সময় এর মধ্যে কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করলে কেউ বলছিলেন, এখানে গণকবর রয়েছে এমন তথ্য তাদের জানা নেই। আবার কাউকে বলতেই তারা নেমে যান। এছাড়া শ্রদ্ধা জানাতে আসা অনেককেও স্বপ্রণোদিত হয়ে সাবধান করতে দেখা যায়।

স্মৃতিসৌধের একটি গণকবরের ওপর দাঁড়িয়ে ভিডিও বানাচ্ছিলেন গাজীপুর থেকে আসা সাব্বির হোসেন নামে এক ব্যক্তি। জিজ্ঞেস করায় টিকটক তৈরি করছেন বলে জানান। গণকবরের বিষয়টি জানালে তিনি এ জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন।

এদিকে সৌধ কতৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় অনিচ্ছায় ভুলক্রমে তারা এমনটি করেছেন বলে জানিয়েছেন অনেকে।

স্মৃতিসৌধের গণকবরের ওপর টিকটক-ফটোসেশনের হিড়িক

গণকবরের ওপর দিয়ে হাঁটা সাভার থেকে আসা নীরব হোসেনকে বিষয়টি জানালে তিনি দুঃখপ্রকাশ করেন। বলেন, কোনও কিছু লেখা নাই। ভাবছি এমনিতেই এমন করা হয়েছে, তাই উঠেছিলাম। আমার ভুল হয়েছে।

জাতীয় স্মৃতিসৌধের ইনচার্জ ও সাভার গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৗশলী আনোয়ার হোসেন খান আনু বলেন, গণকবরের পাশে লেখা রয়েছে। এছাড়া নির্দিষ্ট চিহ্নও দেওয়া হয়েছিল। তবে দর্শনার্থীরা সেগুলো নষ্ট করে ফেলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদরা আমাদের গর্ব। তাদের অবমাননা বেদনাদায়ক। তবে এ জন্য সবার সচেতনতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫: স্থগিতাদেশ চেয়ে করা রিটের আদেশ আজ

স্মৃতিসৌধের গণকবরের ওপর টিকটক-ফটোসেশনের হিড়িক

আপডেট সময় : ০৭:১৪:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫৪তম বছরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে দিনভর ভিড় জমান সাধারণ জনতা। আর শ্রদ্ধা জানাতে এসে কেউ কেউ জেনে-বুঝে আবার কেউ কেউ না জেনেই পদদলিত করলেন স্মৃতিসৌধে থাকা গণকবর। আবার অনেকেই কবরের ওপর দাঁড়িয়ে করছিলেন ফটোসেশন। তরুণদের কেউ কেউ তৈরি করছিলেন টিকটক।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে মহান বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ফুল দিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয় সৌধ প্রাঙ্গণ। এ সময় রাজনৈতিক, অরাজনৈতিকসহ সর্বসাধারণের ঢল নামে জাতীয় স্মৃতিসৌধে। আর এর মধ্যেই দেখা গেলো গণকবর অবমাননার বিষয়টি।

স্মৃতিসৌধের গণকবরের ওপর টিকটক-ফটোসেশনের হিড়িক

সরেজমিনে দেখা গেছে, স্মৃতিসৌধে থাকা সমতল থেকে প্রায় দুই-তিন ফুট উচ্চতার গণকবরগুলো মাড়িয়ে হাঁটছেন অনেকেই। কেউ কেউ সেখানে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। আবার অনেকেই নেচে নেচে ভিডিও তৈরি করছিলেন। এ সময় এর মধ্যে কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করলে কেউ বলছিলেন, এখানে গণকবর রয়েছে এমন তথ্য তাদের জানা নেই। আবার কাউকে বলতেই তারা নেমে যান। এছাড়া শ্রদ্ধা জানাতে আসা অনেককেও স্বপ্রণোদিত হয়ে সাবধান করতে দেখা যায়।

স্মৃতিসৌধের একটি গণকবরের ওপর দাঁড়িয়ে ভিডিও বানাচ্ছিলেন গাজীপুর থেকে আসা সাব্বির হোসেন নামে এক ব্যক্তি। জিজ্ঞেস করায় টিকটক তৈরি করছেন বলে জানান। গণকবরের বিষয়টি জানালে তিনি এ জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন।

এদিকে সৌধ কতৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় অনিচ্ছায় ভুলক্রমে তারা এমনটি করেছেন বলে জানিয়েছেন অনেকে।

স্মৃতিসৌধের গণকবরের ওপর টিকটক-ফটোসেশনের হিড়িক

গণকবরের ওপর দিয়ে হাঁটা সাভার থেকে আসা নীরব হোসেনকে বিষয়টি জানালে তিনি দুঃখপ্রকাশ করেন। বলেন, কোনও কিছু লেখা নাই। ভাবছি এমনিতেই এমন করা হয়েছে, তাই উঠেছিলাম। আমার ভুল হয়েছে।

জাতীয় স্মৃতিসৌধের ইনচার্জ ও সাভার গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৗশলী আনোয়ার হোসেন খান আনু বলেন, গণকবরের পাশে লেখা রয়েছে। এছাড়া নির্দিষ্ট চিহ্নও দেওয়া হয়েছিল। তবে দর্শনার্থীরা সেগুলো নষ্ট করে ফেলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদরা আমাদের গর্ব। তাদের অবমাননা বেদনাদায়ক। তবে এ জন্য সবার সচেতনতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।