জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় ছয়জনের মরদেহ পোড়ানোসহ মোট সাতজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ রাষ্ট্রপক্ষের ১৫তম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে। এই মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) সাইফুল ইসলামসহ মোট ১৬ জন আসামি রয়েছেন।
আজ (বুধবার, ১৫ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল–২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল মামলার ১৫তম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করবে। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এর আগে গত ৯ অক্টোবর ১৪তম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় আজ পরবর্তী সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হবে। গত ২১ আগস্ট এ মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ শুরু হয়। এই মামলার অন্যতম আসামি এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করেছেন।
একই সঙ্গে তিনি রাজসাক্ষী হতে চেয়ে মামলার সব তথ্য আদালতের কাছে প্রকাশ করতে চেয়েছেন। পরে ট্রাইব্যুনাল তার দোষ স্বীকারের অংশটুকু রেকর্ড করে এবং রাজসাক্ষী হতে চেয়ে লিখিত আবেদন করতে বলে। লিখিত আবেদনের পর তিনি ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) হন।
এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হলেন— ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, আবজাল এবং কনস্টেবল মুকুল। অন্যদিকে, সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ পলাতক আট আসামিকে গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল-২। এই আদেশ দেওয়া হয় ১৬ জুলাই।
গত ২ জুলাই প্রসিকিউশন পক্ষ এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়। আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে ৩১৩ পৃষ্ঠার অন্যান্য তথ্যসূত্র, ৬২ জন সাক্ষী, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণাদি এবং দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করা হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নেয় এবং পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে ছয়জন প্রাণ হারান। এরপর পুলিশ ভ্যানে তাদের মরদেহ তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নৃশংস এই ঘটনায় একজনকে জীবিত থাকা সত্ত্বেও তাকে বাঁচতে দেওয়া হয়নি। পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত মানুষটিকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। এই ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 

























