ঢাকা ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

ঢাকায় তৃতীয় জলবায়ু ন্যায্যতা সমাবেশ শুরু

জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী ধনী দেশগুলোর জবাবদিহিতা ও সুবিচার নিশ্চিতের দাবিতে ঢাকায় শুরু হয়েছে তৃতীয় জলবায়ু ন্যায্যতা সমাবেশ–২০২৫।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী এ সমাবেশের উদ্বোধন করা হয়।

নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)–এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সরকারি প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক জলবায়ু আন্দোলন কর্মী, গবেষক এবং জলবায়ু-ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিসহ প্রায় বহু মানুষ অংশ নেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস. মুরশিদ বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রথম সারির ফ্রন্টলাইন দেশগুলোর একটি। অথচ গ্লোবাল নর্থের দেশগুলো পদক্ষেপ নিতে দেরি করায় দরিদ্র দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনকে আর কেবল প্রযুক্তিগত বা অর্থনৈতিক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। জলবায়ু ন্যায্যতা মানে ন্যায়, টিকে থাকা এবং জবাবদিহি।

উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার এবং সঞ্চালনা করেন ধরা–এর সদস্য সচিব শরীফ জামিল।

শরীফ জামিল বলেন, ‘জলবায়ুর অভিঘাতে টিকে থাকা বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু ন্যায্যতা শুধুই একটি দাবির জন্য দাবি নয়, এটি বাংলাদেশের টিকে থাকার শামিল।’

আন্তর্জাতিক বক্তাদের মধ্যে এপিএমডিডি–এর সমন্বয়ক লিডি ন্যাকপিল জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে দ্রুত সরে আসা এবং জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরও জোরালো বৈশ্বিক সহায়তার আহ্বান জানান।

টারা ক্লাইমেট ফাউন্ডেশন–এর ডেপুটি রিজিওনাল প্রোগ্রাম ডিরেক্টর সাইনান হটন বলেন, ‘উন্নয়নের মূল্য হিসেবে দূষণ মেনে নেওয়ার সময় শেষ।’

তিনি বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি একটি কার্যকর ও ন্যায়ভিত্তিক বিকল্প, এবং সৌরশক্তি ও ব্যাটারিনির্ভর শহরগুলো অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে আরও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।’

ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ–এর প্রধান নির্বাহী আসাদ রেহমান বলেন, ‘যে সংকট দরিদ্র দেশগুলো সৃষ্টি করেনি, তার অর্থায়নের দায় তাদের ওপর চাপানো অন্যায়।’

তিনি বলেন, ‘এই সংকটের দায় যাদের সবচেয়ে কম, তাদের দিয়ে মূল্য চোকানো শুধু অন্যায় নয়, অশ্লীল।’

সমাবেশে বক্তারা জলবায়ু অর্থায়নে কপ–২৯–এর ব্যর্থতার সমালোচনা করেন এবং দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের ওপর জোর দেন। রবিবার সমাবেশের দ্বিতীয় দিনে থিমেটিক সেশন, কর্মশালা ও “মিট দ্য প্রেস” অনুষ্ঠিত হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতি কড়া বার্তা

ঢাকায় তৃতীয় জলবায়ু ন্যায্যতা সমাবেশ শুরু

আপডেট সময় : ১০:৪০:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী ধনী দেশগুলোর জবাবদিহিতা ও সুবিচার নিশ্চিতের দাবিতে ঢাকায় শুরু হয়েছে তৃতীয় জলবায়ু ন্যায্যতা সমাবেশ–২০২৫।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী এ সমাবেশের উদ্বোধন করা হয়।

নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)–এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সরকারি প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক জলবায়ু আন্দোলন কর্মী, গবেষক এবং জলবায়ু-ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিসহ প্রায় বহু মানুষ অংশ নেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস. মুরশিদ বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রথম সারির ফ্রন্টলাইন দেশগুলোর একটি। অথচ গ্লোবাল নর্থের দেশগুলো পদক্ষেপ নিতে দেরি করায় দরিদ্র দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনকে আর কেবল প্রযুক্তিগত বা অর্থনৈতিক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। জলবায়ু ন্যায্যতা মানে ন্যায়, টিকে থাকা এবং জবাবদিহি।

উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার এবং সঞ্চালনা করেন ধরা–এর সদস্য সচিব শরীফ জামিল।

শরীফ জামিল বলেন, ‘জলবায়ুর অভিঘাতে টিকে থাকা বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু ন্যায্যতা শুধুই একটি দাবির জন্য দাবি নয়, এটি বাংলাদেশের টিকে থাকার শামিল।’

আন্তর্জাতিক বক্তাদের মধ্যে এপিএমডিডি–এর সমন্বয়ক লিডি ন্যাকপিল জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে দ্রুত সরে আসা এবং জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরও জোরালো বৈশ্বিক সহায়তার আহ্বান জানান।

টারা ক্লাইমেট ফাউন্ডেশন–এর ডেপুটি রিজিওনাল প্রোগ্রাম ডিরেক্টর সাইনান হটন বলেন, ‘উন্নয়নের মূল্য হিসেবে দূষণ মেনে নেওয়ার সময় শেষ।’

তিনি বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি একটি কার্যকর ও ন্যায়ভিত্তিক বিকল্প, এবং সৌরশক্তি ও ব্যাটারিনির্ভর শহরগুলো অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে আরও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।’

ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ–এর প্রধান নির্বাহী আসাদ রেহমান বলেন, ‘যে সংকট দরিদ্র দেশগুলো সৃষ্টি করেনি, তার অর্থায়নের দায় তাদের ওপর চাপানো অন্যায়।’

তিনি বলেন, ‘এই সংকটের দায় যাদের সবচেয়ে কম, তাদের দিয়ে মূল্য চোকানো শুধু অন্যায় নয়, অশ্লীল।’

সমাবেশে বক্তারা জলবায়ু অর্থায়নে কপ–২৯–এর ব্যর্থতার সমালোচনা করেন এবং দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের ওপর জোর দেন। রবিবার সমাবেশের দ্বিতীয় দিনে থিমেটিক সেশন, কর্মশালা ও “মিট দ্য প্রেস” অনুষ্ঠিত হবে।