ঢাকা ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

ওসমান হাদিকে গুলি: পরিচয় মিললেও হামলাকারীদের হদিস মেলেনি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হামলার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে তার বাসাসহ অন্তত ৫টি স্থানে অভিযান চালানো হলেও এখনও তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ বলছে, অভিযুক্ত এখনও দেশেই অবস্থান করছে এবং তাকে গ্রেফতারে সমন্বিতভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনায় তদন্তে বিশেষ অগ্রগতি হয়েছে। প্রধান সন্দেহভাজনের বাসাসহ ৫টি স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে এসব স্থানে তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, এমন কোনও তথ্যও পাওয়া যায়নি।

ওই কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্ত যুবক একাধিক মোবাইল ফোন ও সিম ব্যবহার করতেন এবং বারবার নম্বর পরিবর্তন করেছেন। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হলেও এখনও তার নিশ্চিত অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, এই ঘটনায় ডিবি, র‍্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে পুলিশ।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাত ৮টায় ডিএমপি কমিশনার শেখ মোহাম্মদ সাজ্জাত আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, চিহ্নিত হওয়া সন্দেহভাজন হামলাকারীকে গ্রেফতারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।

এদিকে শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা হয়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদির পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। মামলায় মোটরসাইকেল চালক ও তার পেছনে বসে গুলি করা ব্যক্তিকে আসামি করা হবে।

ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার হারুন অর রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবার বাদী হয়ে মামলা করবে। তারা বর্তমানে হাসপাতালে থাকায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

এর আগে শনিবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সন্দেহভাজন হামলাকারীর ছবি গণমাধ্যমে পাঠিয়ে জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ওই যুবককে শনাক্ত করা হয়েছে। তার সম্পর্কে তথ্য দিতে সবার সহযোগিতা চেয়েছে পুলিশ।

এ ছাড়া ওসমান হাদিকে গুলি করা ব্যক্তিকে ধরিয়ে দিতে পারলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে তিনি এই ঘোষণা দেন।

সন্দেহভাজন হামলাকারী কে?

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, ওসমান হাদির ওপর গুলি করা যুবকের নাম ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান। তার বাবার নাম হুমায়ুন কবির। গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায়।

পুলিশের পিসিআর রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি ঢাকার আদাবর থানার পিসি কালচার হাউজিং এলাকায় বসবাস করতেন। তার বিরুদ্ধে আদাবর থানায় নানা অপরাধের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।

ফয়সাল করিম মাসুদ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৯ সালের ১১ মে ঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তিনি সদস্য ছিলেন।

এ ছাড়া, গত বছরের ২৮ অক্টোবর ঢাকার আদাবরের বাইতুল আমান হাউজিং সোসাইটি এলাকায় ব্রিটিশ কলাম্বিয়া স্কুলের অফিসে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিও ছিলেন তিনি। ওই মামলায় ৭ নভেম্বর র‍্যাব তাকে গ্রেফতার করে। তখন তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে অস্ত্র আইনের মামলায় তিন মাসের মাথায় তিনি জামিন পান, যা পরবর্তী সময়ে বাড়ানো হয়।

পুলিশ বলছে, অতীত অপরাধ এবং হাদির ওপর হামলার ঘটনার সূত্র ধরে তাকে গ্রেফতারে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতি কড়া বার্তা

ওসমান হাদিকে গুলি: পরিচয় মিললেও হামলাকারীদের হদিস মেলেনি

আপডেট সময় : ০৯:২৫:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হামলার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে তার বাসাসহ অন্তত ৫টি স্থানে অভিযান চালানো হলেও এখনও তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ বলছে, অভিযুক্ত এখনও দেশেই অবস্থান করছে এবং তাকে গ্রেফতারে সমন্বিতভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনায় তদন্তে বিশেষ অগ্রগতি হয়েছে। প্রধান সন্দেহভাজনের বাসাসহ ৫টি স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে এসব স্থানে তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, এমন কোনও তথ্যও পাওয়া যায়নি।

ওই কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্ত যুবক একাধিক মোবাইল ফোন ও সিম ব্যবহার করতেন এবং বারবার নম্বর পরিবর্তন করেছেন। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হলেও এখনও তার নিশ্চিত অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, এই ঘটনায় ডিবি, র‍্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে পুলিশ।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাত ৮টায় ডিএমপি কমিশনার শেখ মোহাম্মদ সাজ্জাত আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, চিহ্নিত হওয়া সন্দেহভাজন হামলাকারীকে গ্রেফতারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।

এদিকে শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা হয়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদির পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। মামলায় মোটরসাইকেল চালক ও তার পেছনে বসে গুলি করা ব্যক্তিকে আসামি করা হবে।

ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার হারুন অর রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবার বাদী হয়ে মামলা করবে। তারা বর্তমানে হাসপাতালে থাকায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

এর আগে শনিবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সন্দেহভাজন হামলাকারীর ছবি গণমাধ্যমে পাঠিয়ে জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ওই যুবককে শনাক্ত করা হয়েছে। তার সম্পর্কে তথ্য দিতে সবার সহযোগিতা চেয়েছে পুলিশ।

এ ছাড়া ওসমান হাদিকে গুলি করা ব্যক্তিকে ধরিয়ে দিতে পারলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে তিনি এই ঘোষণা দেন।

সন্দেহভাজন হামলাকারী কে?

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, ওসমান হাদির ওপর গুলি করা যুবকের নাম ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান। তার বাবার নাম হুমায়ুন কবির। গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায়।

পুলিশের পিসিআর রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি ঢাকার আদাবর থানার পিসি কালচার হাউজিং এলাকায় বসবাস করতেন। তার বিরুদ্ধে আদাবর থানায় নানা অপরাধের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।

ফয়সাল করিম মাসুদ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৯ সালের ১১ মে ঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তিনি সদস্য ছিলেন।

এ ছাড়া, গত বছরের ২৮ অক্টোবর ঢাকার আদাবরের বাইতুল আমান হাউজিং সোসাইটি এলাকায় ব্রিটিশ কলাম্বিয়া স্কুলের অফিসে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিও ছিলেন তিনি। ওই মামলায় ৭ নভেম্বর র‍্যাব তাকে গ্রেফতার করে। তখন তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে অস্ত্র আইনের মামলায় তিন মাসের মাথায় তিনি জামিন পান, যা পরবর্তী সময়ে বাড়ানো হয়।

পুলিশ বলছে, অতীত অপরাধ এবং হাদির ওপর হামলার ঘটনার সূত্র ধরে তাকে গ্রেফতারে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।