রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিসিএল) মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) শাহজাহান ফকিরের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও প্রধান উপদেষ্টার দফতরে আবেদন করা হয়েছে।
আরিফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি গত বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুদকে এ আবেদন জমা দেন। আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের অক্টোবরে নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) পদ থেকে অবসর গ্রহণের পরও শাহজাহান ফকির নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রায় এক বছর ধরে একই পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। যদিও আরপিসিএলের নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল, পরে তা বাতিল করা হয়। ওই পদের জন্য এমবিএ বা অ্যাকাউন্টিং বা ফাইনান্সে মাস্টার্স ডিগ্রি আবশ্যক হলেও শাহজাহান ফকিরের সে যোগ্যতা নেই। বর্তমানে তিনি সান্ধ্যকালীন এমবিএ কোর্সে অধ্যয়নরত এবং সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে ক্লাসে যাতায়াত করছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, শাহজাহান ফকিরের এমবিএ সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) পদে নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে পুনরায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও কেবল ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) পদের বিজ্ঞপ্তি এখনও দেওয়া হয়নি। এমনকি এ সংক্রান্ত নথি তৈরি হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে এইচআর বিভাগের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি বন্ধের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আবেদনে অভিযোগ করা হয়, আরপিসিএলের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক অদৃশ্য কারণে শাহজাহান ফকিরের প্রভাবাধীন ছিলেন। গত ১৪ জুলাই ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাকে ‘ম্যানেজ’ করে আরও অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়ান শাহজাহান। চীনা প্রতিষ্ঠান শেনজেন স্টারের সঙ্গে আরপিসিএলের যৌথ উদ্যোগে ‘বিপিইএমসি’ নামে একটি কোম্পানি গঠন করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানের সিএফও (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিসেবেও শাহজাহান ফকির দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগে বলা হয়, বিনা টেন্ডারে ডিপিএম পদ্ধতিতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার ৫ লাখ স্মার্ট প্রি-পেইড মিটার ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম আরইবিতে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ক্রয় প্রক্রিয়ায় এজেন্সি কমিশন নিজের জন্য নিশ্চিত করতে শাহজাহান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজি করানোর চেষ্টা করছেন। একই সময়ে আরপিসিএল, BPEMC ও আরএনপিএল—এই তিন প্রতিষ্ঠানে একাধিক দায়িত্ব পালন করলেও নিয়ম বহির্ভূতভাবে শাহজাহান ফকিরকে আরএনপিএলের কনসালট্যান্ট এবং পরবর্তীতে মহাব্যবস্থাপক (হিসাব ও অর্থ) হিসেবে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা চরম অনিয়ম। এ ছাড়া প্রশিক্ষণের নামে অফিস চলাকালীন সময়ে নিয়ম ভেঙে কর্মশালা ও প্রেজেন্টেশন আয়োজন করে সরকারি কর্মঘণ্টা নষ্ট এবং আর্থিক ক্ষতির অভিযোগও তোলা হয়েছে। এর ফলে আরপিসিএল, আরএনপিএল ও বিপিইএমসির কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া মাদারগঞ্জ ১০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ স্থগিত হওয়া এবং ভুলভাবে লেভেলাইজড ট্যারিফ নির্ধারণের পেছনেও শাহজাহান ফকিরের গাফিলতির অভিযোগ আনা হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও বরখাস্তের ভয় দেখিয়ে নিজের ইচ্ছামতো কাজ করাতে বাধ্য করায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধান এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























