ঢাকা ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাজায় ত্রাণ সরবরাহে ফ্রান্সের গতি বাড়ানোর ঘোষণা: যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় ম্যাক্রোঁর সন্তোষ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১০:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

মিসরের শারম আল-শেখে অনুষ্ঠিত শান্তি সম্মেলনের পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘোষণা করেছেন যে, তার দেশ গাজায় চলমান মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে আরও জোরদার করবে।

সোমবার (১৩ অক্টোবর) সম্মেলন শেষে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় ম্যাক্রোঁ জানান, “ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় এবং হামাসের হাতে আটক থাকা ২০ জন জীবিত ইসরায়েলি জিম্মি মুক্তি পাওয়ায় আমরা আনন্দিত।”

তিনি বলেন, গাজায় ইতিমধ্যেই ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়ে গেছে এবং এটি পরিকল্পনার চেয়েও “বেশি গতিতে” এগোচ্ছে। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) থেকে এই সহায়তা কার্যক্রম আরও দ্রুত করা হবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।

ম্যাক্রোঁ নিশ্চিত করেন যে, গাজায় সাহায্য পৌঁছানোর পথে যাতে কোনো ধরনের বাধা না আসে, সেজন্য ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করবে।

তিনি আরও জানান, চলমান যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের অংশ হিসেবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গাজা বিষয়ক একটি মানবিক সহায়তা সম্মেলনের আয়োজন করবে ফ্রান্স। ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, “দ্বিতীয় ধাপে গাজার পুনর্গঠন এবং সেখানে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য তহবিল সংগ্রহ শুরু করা হবে।”

গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার বিষয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ইতিমধ্যে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর সাথে আলোচনা করে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। শিগগিরই হামাসের নিরস্ত্রীকরণ বিষয়েও প্রযুক্তিগত কাজ শুরু হবে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রস্তাবিত তিন ধাপের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার ঘোষণা দেন। এই পরিকল্পনায় গাজায় আটক থাকা সকল ইসরায়েলি জিম্মির বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি এবং ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করার কথা বলা হয়েছে।

প্রথম ধাপটি গত শুক্রবার (১০ অক্টোবর) থেকে কার্যকর হয়। এরপর সোমবার হামাসের হাতে থাকা ২০ জন জীবিত ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার পর ইসরায়েলি কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দিদেরও মুক্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ৬৭,৮০০-র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এই অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালানো হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের ঐতিহাসিক অভিষেক

গাজায় ত্রাণ সরবরাহে ফ্রান্সের গতি বাড়ানোর ঘোষণা: যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় ম্যাক্রোঁর সন্তোষ

আপডেট সময় : ১০:১০:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

মিসরের শারম আল-শেখে অনুষ্ঠিত শান্তি সম্মেলনের পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘোষণা করেছেন যে, তার দেশ গাজায় চলমান মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে আরও জোরদার করবে।

সোমবার (১৩ অক্টোবর) সম্মেলন শেষে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় ম্যাক্রোঁ জানান, “ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় এবং হামাসের হাতে আটক থাকা ২০ জন জীবিত ইসরায়েলি জিম্মি মুক্তি পাওয়ায় আমরা আনন্দিত।”

তিনি বলেন, গাজায় ইতিমধ্যেই ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়ে গেছে এবং এটি পরিকল্পনার চেয়েও “বেশি গতিতে” এগোচ্ছে। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) থেকে এই সহায়তা কার্যক্রম আরও দ্রুত করা হবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।

ম্যাক্রোঁ নিশ্চিত করেন যে, গাজায় সাহায্য পৌঁছানোর পথে যাতে কোনো ধরনের বাধা না আসে, সেজন্য ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করবে।

তিনি আরও জানান, চলমান যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের অংশ হিসেবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গাজা বিষয়ক একটি মানবিক সহায়তা সম্মেলনের আয়োজন করবে ফ্রান্স। ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, “দ্বিতীয় ধাপে গাজার পুনর্গঠন এবং সেখানে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য তহবিল সংগ্রহ শুরু করা হবে।”

গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার বিষয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ইতিমধ্যে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর সাথে আলোচনা করে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। শিগগিরই হামাসের নিরস্ত্রীকরণ বিষয়েও প্রযুক্তিগত কাজ শুরু হবে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রস্তাবিত তিন ধাপের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার ঘোষণা দেন। এই পরিকল্পনায় গাজায় আটক থাকা সকল ইসরায়েলি জিম্মির বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি এবং ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করার কথা বলা হয়েছে।

প্রথম ধাপটি গত শুক্রবার (১০ অক্টোবর) থেকে কার্যকর হয়। এরপর সোমবার হামাসের হাতে থাকা ২০ জন জীবিত ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার পর ইসরায়েলি কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দিদেরও মুক্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ৬৭,৮০০-র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এই অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালানো হয়েছে।