ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। সোমবার (১৩ অক্টোবর) ‘এক্স’ প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সরাসরি বলেন যে, ট্রাম্প কোনোভাবেই শান্তির প্রতীক হতে পারেন না, কারণ তিনি নিজেই যুদ্ধের উসকানি দিচ্ছেন এবং যুদ্ধাপরাধীদের সাথে হাত মেলাচ্ছেন।
ট্রাম্প সম্প্রতি যে দাবি করেছেন— যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির খুব কাছাকাছি ছিল— সেই দাবিকে আরাঘচি ‘বড় মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে ইসরায়েলের স্বার্থান্বেষী মহল ভুল এবং মিথ্যা গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও ইরানের অস্ত্র তৈরির পথে থাকার কোনো প্রমাণ হাজির করেনি।
ইরানের এই কর্মকর্তা আরও মনে করিয়ে দেন যে, ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেছিলেন ইসরায়েলের চক্রান্তমূলক রাজনীতি এবং আমেরিকার ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ থেকে মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এখন তিনি নিজেই যুদ্ধকে উসকে দিচ্ছেন।
আরাঘচি ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের আসল ‘দাদাগিরি’ করে সেই পরজীবী শক্তি, যারা বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে শোষণ করে চলেছে।
এছাড়াও, ইরানি মন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইরানবিরোধী বিমান হামলারও নিন্দা জানান, যেখানে এক হাজারেরও বেশি সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছিলেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যে হাত কয়েক মাস আগেও ইরানের শহরগুলিতে বোমা ফেলেছিল, সেই হাতকে আমরা কীভাবে শান্তির প্রতীক হিসেবে গণ্য করতে পারি?”
আরাঘচি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন, একজন মানুষ একইসঙ্গে যুদ্ধের প্রেসিডেন্ট এবং শান্তির প্রেসিডেন্ট হতে পারেন না।
তিনি বলেন, ইরান সম্মানজনক এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে কূটনৈতিক আলোচনায় আগ্রহী, কিন্তু কোনো ধরনের হুমকি বা জবরদস্তি তারা মেনে নেবে না।
আরাঘচি সবশেষে যোগ করেন, “ইরান একটি প্রাচীন ও সভ্য জাতির উত্তরাধিকারী। আমরা যেমন সদিচ্ছার প্রতিদান সদিচ্ছায় দিই, ঠিক তেমনি অন্যায় ও আগ্রাসনের জবাব প্রতিরোধ দিয়ে দিতেও জানি— যেমনটা তেল আবিবের যুদ্ধবাজরা ইতোমধ্যে বুঝতে পেরেছে।”
রিপোর্টারের নাম 






















