ঢাকা ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

কর্মবিরতিতে জিম্মি মেট্রোরেল যাত্রীরা: সুযোগ সন্ধানী কার্যক্রমের অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৬:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীতে মেট্রোরেল চালুর অল্প সময়ের মধ্যেই এটি নগরবাসীর বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। দৈনিক প্রায় ৫ লাখ যাত্রী এই মেট্রোরেলের মাধ্যমে সহজে উত্তরা থেকে মতিঝিল যাতায়াত করে থাকেন। তবে বারবার আন্দোলন ও কর্মবিরতির নামে মেট্রোরেলের নিয়মিত যাত্রীদের জিম্মি করা হচ্ছে। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে। হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে তারা বিভিন্ন অজুহাতে কর্মবিরতিতে নামছেন। অনেকে এই কার্যক্রমকে সুযোগ সন্ধানী কার্যকলাপ বলেও মনে করছেন।

গতকাল শুক্রবার কর্মীদের কর্মবিরতির কারণে মেট্রোরেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে মেট্রোরেল চলাচল শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিকেল ৩টা ৫ মিনিটেই স্টেশনের গেট বন্ধ দেখা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মী জানান, নিজস্ব চাকরি বিধিমালার দাবিতে উত্তরা দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেলের প্রধান কার্যালয়ের সামনে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কর্মী জড়ো হন। এই কারণে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

চাকরি-বিধিমালা প্রণয়ন ও প্রকাশ না করায় পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ রেখে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছেন। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী উত্তরা থেকে বেলা ৩টায় এবং মতিঝিল থেকে ৩টা ২০ মিনিটে ট্রেন ছাড়ার কথা থাকলেও কোনো ট্রেনই স্টেশন ছেড়ে যায়নি। ফলে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে ডিএমটিসিএল প্রধান কার্যালয়ের সামনে তারা অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। এই সময় ডিএমটিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফারুক আহমেদ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে ফেরত আসেন। পরে আন্দোলনকারীরা এমডিকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে মেট্রোরেলের স্টেশনগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, স্টেশনগুলোর প্রবেশ গেটগুলোতে তালা মেরে রাখা হয়েছে। ফলে যাত্রীরা স্টেশনের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। গেটে তালা মারা দেখে বহু যাত্রী হতাশ হয়ে ফিরে যান। ডিএমটিসিএল এর এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে আছি, যার কারণে শুক্রবার কোনো ট্রেন অপারেশনে যায়নি। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে থাকব।”

ডিএমটিসিএল-এর জনসংযোগ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণ হওয়ার পথে। কিছু প্রক্রিয়াগত বিষয় বাকি আছে। এরপরও যাত্রীসেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন সরকার সবকিছু বিবেচনা করে দেখছে।

গত বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানিয়েছিলেন যে, গত ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে চাকরি-বিধিমালা প্রণয়ন ও প্রকাশ না করায় ১২ ডিসেম্বর থেকে মেট্রোরেলে সব ধরনের যাত্রী সেবা বন্ধ রাখা হবে। সেইসঙ্গে প্রতিদিন ডিএমটিসিএল প্রধান কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। তবে গত বৃহস্পতিবার রাতে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল যে, মেট্রোরেল নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী চলাচল করবে।

এর আগেও দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের কর্মবিরতির জন্য রাজধানীর জনপ্রিয় গণপরিবহন মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ ছিল। লাইন, কোচ এবং সংকেত ব্যবস্থা ঠিক থাকার পরও শুধুমাত্র কর্মীদের কর্মবিরতির জন্য মেট্রোরেলের চাকা ঘোরেনি। ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নে কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে কর্মবিরতি পালন করেন মেট্রোরেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সে সময় কর্মবিরতি পালনকারীরা জানিয়েছিলেন যে, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা কাজে যোগদান করবেন না। তখন মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ কর্মীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছিল।

সংশ্লিষ্ট অনেকেই বলছেন, ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে। হাসিনা সরকারের পতনের পর তারা ৬ আগস্ট থেকে কর্মবিরতিতে নামে। এছাড়া যেসব কর্মী এখন বর্তমান সরকারকে বিপাকে ফেলার জন্য মেট্রোরেলের সকল কারিগরি কাজ ঠিক থাকার পরেও শুধুমাত্র কিছু সুযোগ সন্ধানী কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য ঢাকার একটি জনপ্রিয় পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ রাখছে। তাদের চালু না হওয়া এবং তাদের বিষয়ে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। অথবা এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ বাতিল করে নতুনভাবে অল্প সময়ের মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। এখনই তাদের শক্ত হাতে দমন করা না হলে পরবর্তীতে তারা আবারো এমন কাজ করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তারা ডিএমটিসিএল-এর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে নিজেদের সুবিধা আদায়ের জন্য কর্মবিরতির মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে জিম্মি করছে। তাদের মতে, “দিল্লীর প্রেসক্রিপশনে এই ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এখনো আগের সরকারের পেতাত্মারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এখন দেশের সঙ্কট মুহূর্তে মেট্রোরেল আটকিয়ে তারা সুবিধা নিতে চাচ্ছে।”

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী ইনকিলাবকে বলেন, “আগের সরকার পতনের পর মেট্রোরেল নিয়ে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। দিল্লীর প্রেসক্রিপশনে এই ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এখনো আগের সরকারের পেতাত্মারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এখন দেশের সঙ্কট মুহূর্তে মেট্রোরেল আটকিয়ে সুবিধা নিতে চাচ্ছে। বিগত সরকার দলীয়করণের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়েছে। এখন তারা এই সরকারকে বিপদে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে। মেট্রোরেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলন করতে অনেকে উসকে দিচ্ছে। এখন তারা আন্দোলনে নেমেছেন। এতদিন তারা কোথায় ছিলেন। এতদিন কেন করেন নি। তাদের বিচার হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।”

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

৫ মার্চ: টিভি পর্দায় ক্রিকেট-ফুটবলের ডাবল ধামাকা!

কর্মবিরতিতে জিম্মি মেট্রোরেল যাত্রীরা: সুযোগ সন্ধানী কার্যক্রমের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:২৬:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজধানীতে মেট্রোরেল চালুর অল্প সময়ের মধ্যেই এটি নগরবাসীর বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। দৈনিক প্রায় ৫ লাখ যাত্রী এই মেট্রোরেলের মাধ্যমে সহজে উত্তরা থেকে মতিঝিল যাতায়াত করে থাকেন। তবে বারবার আন্দোলন ও কর্মবিরতির নামে মেট্রোরেলের নিয়মিত যাত্রীদের জিম্মি করা হচ্ছে। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে। হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে তারা বিভিন্ন অজুহাতে কর্মবিরতিতে নামছেন। অনেকে এই কার্যক্রমকে সুযোগ সন্ধানী কার্যকলাপ বলেও মনে করছেন।

গতকাল শুক্রবার কর্মীদের কর্মবিরতির কারণে মেট্রোরেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে মেট্রোরেল চলাচল শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিকেল ৩টা ৫ মিনিটেই স্টেশনের গেট বন্ধ দেখা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মী জানান, নিজস্ব চাকরি বিধিমালার দাবিতে উত্তরা দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেলের প্রধান কার্যালয়ের সামনে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কর্মী জড়ো হন। এই কারণে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

চাকরি-বিধিমালা প্রণয়ন ও প্রকাশ না করায় পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ রেখে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছেন। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী উত্তরা থেকে বেলা ৩টায় এবং মতিঝিল থেকে ৩টা ২০ মিনিটে ট্রেন ছাড়ার কথা থাকলেও কোনো ট্রেনই স্টেশন ছেড়ে যায়নি। ফলে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে ডিএমটিসিএল প্রধান কার্যালয়ের সামনে তারা অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। এই সময় ডিএমটিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফারুক আহমেদ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে ফেরত আসেন। পরে আন্দোলনকারীরা এমডিকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে মেট্রোরেলের স্টেশনগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, স্টেশনগুলোর প্রবেশ গেটগুলোতে তালা মেরে রাখা হয়েছে। ফলে যাত্রীরা স্টেশনের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। গেটে তালা মারা দেখে বহু যাত্রী হতাশ হয়ে ফিরে যান। ডিএমটিসিএল এর এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে আছি, যার কারণে শুক্রবার কোনো ট্রেন অপারেশনে যায়নি। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে থাকব।”

ডিএমটিসিএল-এর জনসংযোগ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণ হওয়ার পথে। কিছু প্রক্রিয়াগত বিষয় বাকি আছে। এরপরও যাত্রীসেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন সরকার সবকিছু বিবেচনা করে দেখছে।

গত বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানিয়েছিলেন যে, গত ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে চাকরি-বিধিমালা প্রণয়ন ও প্রকাশ না করায় ১২ ডিসেম্বর থেকে মেট্রোরেলে সব ধরনের যাত্রী সেবা বন্ধ রাখা হবে। সেইসঙ্গে প্রতিদিন ডিএমটিসিএল প্রধান কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। তবে গত বৃহস্পতিবার রাতে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল যে, মেট্রোরেল নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী চলাচল করবে।

এর আগেও দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের কর্মবিরতির জন্য রাজধানীর জনপ্রিয় গণপরিবহন মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ ছিল। লাইন, কোচ এবং সংকেত ব্যবস্থা ঠিক থাকার পরও শুধুমাত্র কর্মীদের কর্মবিরতির জন্য মেট্রোরেলের চাকা ঘোরেনি। ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নে কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে কর্মবিরতি পালন করেন মেট্রোরেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সে সময় কর্মবিরতি পালনকারীরা জানিয়েছিলেন যে, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা কাজে যোগদান করবেন না। তখন মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ কর্মীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছিল।

সংশ্লিষ্ট অনেকেই বলছেন, ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে। হাসিনা সরকারের পতনের পর তারা ৬ আগস্ট থেকে কর্মবিরতিতে নামে। এছাড়া যেসব কর্মী এখন বর্তমান সরকারকে বিপাকে ফেলার জন্য মেট্রোরেলের সকল কারিগরি কাজ ঠিক থাকার পরেও শুধুমাত্র কিছু সুযোগ সন্ধানী কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য ঢাকার একটি জনপ্রিয় পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ রাখছে। তাদের চালু না হওয়া এবং তাদের বিষয়ে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। অথবা এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ বাতিল করে নতুনভাবে অল্প সময়ের মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। এখনই তাদের শক্ত হাতে দমন করা না হলে পরবর্তীতে তারা আবারো এমন কাজ করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তারা ডিএমটিসিএল-এর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে নিজেদের সুবিধা আদায়ের জন্য কর্মবিরতির মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে জিম্মি করছে। তাদের মতে, “দিল্লীর প্রেসক্রিপশনে এই ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এখনো আগের সরকারের পেতাত্মারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এখন দেশের সঙ্কট মুহূর্তে মেট্রোরেল আটকিয়ে তারা সুবিধা নিতে চাচ্ছে।”

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী ইনকিলাবকে বলেন, “আগের সরকার পতনের পর মেট্রোরেল নিয়ে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। দিল্লীর প্রেসক্রিপশনে এই ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এখনো আগের সরকারের পেতাত্মারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এখন দেশের সঙ্কট মুহূর্তে মেট্রোরেল আটকিয়ে সুবিধা নিতে চাচ্ছে। বিগত সরকার দলীয়করণের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়েছে। এখন তারা এই সরকারকে বিপদে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে। মেট্রোরেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলন করতে অনেকে উসকে দিচ্ছে। এখন তারা আন্দোলনে নেমেছেন। এতদিন তারা কোথায় ছিলেন। এতদিন কেন করেন নি। তাদের বিচার হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।”