ঢাকা ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এরদোয়ানের কঠোর আপত্তিতে গাজা সম্মেলনে নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণ বাতিল করলেন ট্রাম্প

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

মিসরের শারম আল শেখে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বহুপাক্ষিক গাজা সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত শেষ মুহূর্তে বাতিল করতে বাধ্য হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান সরাসরি হুমকি দিয়ে ট্রাম্পকে জানিয়েছিলেন, যদি নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণ বহাল থাকে, তবে তাকে বহনকারী বিমান শারম আল শেখে অবতরণ করবে না। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এই খবর প্রকাশ করেছে।

সূত্রের বরাতে জানা যায়, সোমবার সকালে ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে নেতানিয়াহু ইসরায়েল থেকে এই সম্মেলনে যোগ দিতে সম্মতি জানিয়েছিলেন। এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনটি ট্রাম্প এবং মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি যৌথভাবে সভাপতিত্ব করার কথা ছিল।

কিন্তু এরদোয়ানের আপত্তির পর পরিস্থিতি অপ্রত্যাশিতভাবে মোড় নেয়। জানা গেছে, তুর্কি প্রেসিডেন্ট নিজের বিমানে থাকা অবস্থাতেই মিসরের আকাশসীমা থেকে সিসিকে ফোন করে তীব্র আপত্তি জানান। এর কিছুক্ষণ পরই নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে সম্মেলনে অংশগ্রহণ বাতিলের ঘোষণা আসে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, “প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে আজকের সম্মেলনে যোগ দিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণের জন্য কৃতজ্ঞতা জানালেও ধর্মীয় ছুটির কাছাকাছি সময়ের কারণে অংশ নিতে না পারার কথা জানিয়েছেন।”

তবে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রীরা আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, নেতানিয়াহু সম্মেলনে গেলে তারা পদত্যাগ করবেন। ফলে, মনে করা হচ্ছে অভ্যন্তরীণ এই চাপও আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যানের অন্যতম কারণ।

গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। যদিও মিসর আইসিসির সদস্য নয়, তবুও নেতানিয়াহুর উপস্থিতি আরব দেশগুলোর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করতে পারত। এই সম্মেলনে ২০টিরও বেশি দেশের নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

নেতানিয়াহুর উপস্থিতি নিয়ে এই বিতর্ক নতুন করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে, ট্রাম্প যেভাবে মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন, তা কতটা জটিল ও সংবেদনশীল একটি প্রক্রিয়া।

অন্যদিকে, এরদোয়ানের জন্যও বিষয়টি ছিল রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা বা করমর্দনের কোনো ছবি তুরস্কে তার জন্য মারাত্মক রাজনৈতিক ক্ষতি ডেকে আনতে পারত। একই সঙ্গে গাজায় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য গঠিত হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক বাহিনীতে তুরস্কের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন উঠত।

এরদোয়ান বারবার ইসরায়েলের গাজা অভিযানকে ‘গণহত্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাই নেতানিয়াহুর সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিত হওয়া তার নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য একেবারেই অগ্রহণযোগ্য ছিল।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের ঐতিহাসিক অভিষেক

এরদোয়ানের কঠোর আপত্তিতে গাজা সম্মেলনে নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণ বাতিল করলেন ট্রাম্প

আপডেট সময় : ০৫:৩৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

মিসরের শারম আল শেখে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বহুপাক্ষিক গাজা সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত শেষ মুহূর্তে বাতিল করতে বাধ্য হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান সরাসরি হুমকি দিয়ে ট্রাম্পকে জানিয়েছিলেন, যদি নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণ বহাল থাকে, তবে তাকে বহনকারী বিমান শারম আল শেখে অবতরণ করবে না। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এই খবর প্রকাশ করেছে।

সূত্রের বরাতে জানা যায়, সোমবার সকালে ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে নেতানিয়াহু ইসরায়েল থেকে এই সম্মেলনে যোগ দিতে সম্মতি জানিয়েছিলেন। এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনটি ট্রাম্প এবং মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি যৌথভাবে সভাপতিত্ব করার কথা ছিল।

কিন্তু এরদোয়ানের আপত্তির পর পরিস্থিতি অপ্রত্যাশিতভাবে মোড় নেয়। জানা গেছে, তুর্কি প্রেসিডেন্ট নিজের বিমানে থাকা অবস্থাতেই মিসরের আকাশসীমা থেকে সিসিকে ফোন করে তীব্র আপত্তি জানান। এর কিছুক্ষণ পরই নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে সম্মেলনে অংশগ্রহণ বাতিলের ঘোষণা আসে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, “প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে আজকের সম্মেলনে যোগ দিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণের জন্য কৃতজ্ঞতা জানালেও ধর্মীয় ছুটির কাছাকাছি সময়ের কারণে অংশ নিতে না পারার কথা জানিয়েছেন।”

তবে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রীরা আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, নেতানিয়াহু সম্মেলনে গেলে তারা পদত্যাগ করবেন। ফলে, মনে করা হচ্ছে অভ্যন্তরীণ এই চাপও আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যানের অন্যতম কারণ।

গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। যদিও মিসর আইসিসির সদস্য নয়, তবুও নেতানিয়াহুর উপস্থিতি আরব দেশগুলোর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করতে পারত। এই সম্মেলনে ২০টিরও বেশি দেশের নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

নেতানিয়াহুর উপস্থিতি নিয়ে এই বিতর্ক নতুন করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে, ট্রাম্প যেভাবে মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন, তা কতটা জটিল ও সংবেদনশীল একটি প্রক্রিয়া।

অন্যদিকে, এরদোয়ানের জন্যও বিষয়টি ছিল রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা বা করমর্দনের কোনো ছবি তুরস্কে তার জন্য মারাত্মক রাজনৈতিক ক্ষতি ডেকে আনতে পারত। একই সঙ্গে গাজায় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য গঠিত হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক বাহিনীতে তুরস্কের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন উঠত।

এরদোয়ান বারবার ইসরায়েলের গাজা অভিযানকে ‘গণহত্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাই নেতানিয়াহুর সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিত হওয়া তার নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য একেবারেই অগ্রহণযোগ্য ছিল।