ঢাকা ১০:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

‘ওয়ান বক্স পলিসি’ নিয়ে এগোচ্ছে জামায়াত-ইসলামী আন্দোলনসহ ৮ দল: দেড়শ’ আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের ইঙ্গিত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৯:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনসহ মোট সমমনা আটটি দল ‘ওয়ান বক্স পলিসি’ বা একক প্রার্থীর কৌশল নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। একক প্রার্থী নিশ্চিত করার স্বার্থে জোটের প্রধান দল হিসেবে বিবেচিত জামায়াতে ইসলামী প্রায় দেড়শ’ আসনে তাদের পূর্বঘোষিত প্রার্থী পরিবর্তন করতে পারে। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও বেশি সংখ্যক আসনে ছাড় দিয়ে দলীয় প্রার্থী দিচ্ছে।

এই সমমনা আট দলের উদ্যোগ নেওয়া এই দুই দল ইতিমধ্যে তিনশ’ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এসব প্রার্থীর প্রায় সবাই নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় তৎপরতা চালাচ্ছেন। তবে আট দলের মধ্যে আসন সমঝোতা বা ঐকমত্যের নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত অর্ধেক এবং ইসলামী আন্দোলনের অর্ধেকের বেশি প্রার্থীকে তাদের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়াতে হতে পারে।

এই আট দল গত জুলাই মাস থেকে রাজপথের কর্মসূচিতে বেশ সোচ্চার রয়েছে। তাদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের আয়োজন করা, পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতির নির্বাচন, সব দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি এবং ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে পরিচিত ১৪ দলের রাজনীতি নিষিদ্ধকরণসহ মোট পাঁচ দফা। গত ১১ নভেম্বর রাজধানীতে এক সমাবেশের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো আট দলের শীর্ষ নেতারা একই মঞ্চে উঠেছিলেন। এর সর্বশেষ ধারাবাহিকতায় সাতটি বিভাগীয় সমাবেশেও আট দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে সরব উপস্থিতিতে দেখা যায়।

এই প্রেক্ষাপটে দলগুলোর মধ্যে আসন সমঝোতার পালা শুরু হয়েছে। গত সোমবার আট দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে যে, বৈঠকে প্রতিটি দলের পক্ষ থেকে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা উপস্থাপন করা হয়েছে। সূত্র আরও জানায়, এই তালিকা নিয়ে আরও ব্যাপক আলোচনা-পর্যালোচনা করার পর শীর্ষ নেতাদের চূড়ান্ত মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সমমনাদের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা দ্রুতই শুরু হতে যাচ্ছে। তবে এক আসনে এক প্রার্থী দেওয়ার ব্যাপারে সবাই একমত। তিনি বলেন, ‘কে কোন আসনে জিততে পারবেন, কোথায় কার রাজনৈতিক অবস্থান কেমন—এই বিষয়গুলো আমাদের বিবেচনায় রয়েছে।’

জামায়াত কত আসন ছাড় দেবে বা পাবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ড. হামিদ আযাদ বলেন, জামায়াতের কোনো নিজস্ব আসন নেই যে তারা ছাড় দেবে, আবার অন্য কারও কাছ থেকে আসন নেওয়ারও কোনো বিষয় নেই। জামায়াতের পক্ষ থেকে তিনশ’ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা রয়েছেন। আট দলের প্রয়োজনে যেকোনো প্রার্থী সরে দাঁড়াবেন। একই ধরনের পরিস্থিতি অন্যদের ক্ষেত্রেও হতে পারে। তিনি জানান, আট দলের শীর্ষ নেতাদের আলোচনার ভিত্তিতেই আসন বণ্টন চূড়ান্ত করা হবে। তাদের লক্ষ্য থাকবে আট দলের বিজয় নিশ্চিত করা। যেখানে যার জয়ের পাল্লা ভারী বলে মনে হবে, সেখানে আট দলের তরফে সেই প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। ড. হামিদ আযাদ আরও বলেন, অন্য রাজনৈতিক দলের মতো জামায়াতের মধ্যে অমুক দলকে এত আসন ছেড়ে দেওয়া বা না দেওয়ার মতো কোনো বিষয় নেই।

ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, আট দলভুক্ত সব দলের রাজনৈতিক অবস্থান, শক্তি ও সামর্থ্য সমান নয়। সেক্ষেত্রে যার যার অবস্থান বিবেচনা করে আসন বণ্টন করা হবে। তবে সবার প্রধান লক্ষ্য থাকবে আট দলকে বিজয়ী করা। তিনি আরও জানান, তাদের আট দলীয় লিয়াজোঁ কমিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এবং এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়েও সক্রিয় হচ্ছে। কেবল জাতীয় নির্বাচন নয়, স্থানীয় নির্বাচনেও আট দলের মধ্যে ঐকমত্য থাকবে।

এদিকে ইসলামী আন্দোলনের অন্য একটি সূত্র থেকে জানা যায়, তারা তিনশ’ আসনে প্রার্থী দিলেও অন্তত অর্ধশতাধিক আসনে তাদের মোটামুটি শক্ত অবস্থান রয়েছে। সেই ক্ষেত্রে আসন সমঝোতায় অন্তত একশ’ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রত্যাশা রয়েছে দলটির।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, তাদের নিজস্ব প্রার্থী তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এটি আট দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। পরবর্তীতে শীর্ষ নেতারা যাচাই-বাছাই ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে তালিকা চূড়ান্ত করবেন। তবে এই দলের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, দলটি ইতিমধ্যে ২৬৮ আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়েছে। এর মধ্যে ৯৩টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। সূত্রটি আরও জানায়, আট দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে ৪০টি আসনে তাদের জয়লাভের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। তাই আসন সমঝোতায় এই ৪০ আসনকে তারা টার্গেট করবে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আট দলের লিয়াজোঁ কমিটির সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আব্দুল কাদের। বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে জনমত গঠনের জন্য আগামী ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী প্রচার-প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সেই তফসিল দেখে শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আট দলভুক্ত প্রত্যেক দলের পৃথক কর্মসূচি পালন, আট দলের কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে জেলা-উপজেলাভিত্তিক লিয়াজোঁ কমিটি গঠন এবং এক বা দুদিনের মধ্যে আসন সমঝোতার আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও আট দলের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার ও সিনিয়র নায়েবে আমীর আবদুল মাজেদ আতহারী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদিক হক্কানী, নায়েবে আমীর মুজিবুর রহমান হামিদী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক নাঈম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব এড. জাহাঙ্গীর হোসাইনসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ-তুরস্ক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে জোর: বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে তুর্কি রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

‘ওয়ান বক্স পলিসি’ নিয়ে এগোচ্ছে জামায়াত-ইসলামী আন্দোলনসহ ৮ দল: দেড়শ’ আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের ইঙ্গিত

আপডেট সময় : ০৯:৩৯:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনসহ মোট সমমনা আটটি দল ‘ওয়ান বক্স পলিসি’ বা একক প্রার্থীর কৌশল নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। একক প্রার্থী নিশ্চিত করার স্বার্থে জোটের প্রধান দল হিসেবে বিবেচিত জামায়াতে ইসলামী প্রায় দেড়শ’ আসনে তাদের পূর্বঘোষিত প্রার্থী পরিবর্তন করতে পারে। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও বেশি সংখ্যক আসনে ছাড় দিয়ে দলীয় প্রার্থী দিচ্ছে।

এই সমমনা আট দলের উদ্যোগ নেওয়া এই দুই দল ইতিমধ্যে তিনশ’ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এসব প্রার্থীর প্রায় সবাই নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় তৎপরতা চালাচ্ছেন। তবে আট দলের মধ্যে আসন সমঝোতা বা ঐকমত্যের নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত অর্ধেক এবং ইসলামী আন্দোলনের অর্ধেকের বেশি প্রার্থীকে তাদের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়াতে হতে পারে।

এই আট দল গত জুলাই মাস থেকে রাজপথের কর্মসূচিতে বেশ সোচ্চার রয়েছে। তাদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের আয়োজন করা, পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতির নির্বাচন, সব দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি এবং ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে পরিচিত ১৪ দলের রাজনীতি নিষিদ্ধকরণসহ মোট পাঁচ দফা। গত ১১ নভেম্বর রাজধানীতে এক সমাবেশের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো আট দলের শীর্ষ নেতারা একই মঞ্চে উঠেছিলেন। এর সর্বশেষ ধারাবাহিকতায় সাতটি বিভাগীয় সমাবেশেও আট দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে সরব উপস্থিতিতে দেখা যায়।

এই প্রেক্ষাপটে দলগুলোর মধ্যে আসন সমঝোতার পালা শুরু হয়েছে। গত সোমবার আট দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে যে, বৈঠকে প্রতিটি দলের পক্ষ থেকে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা উপস্থাপন করা হয়েছে। সূত্র আরও জানায়, এই তালিকা নিয়ে আরও ব্যাপক আলোচনা-পর্যালোচনা করার পর শীর্ষ নেতাদের চূড়ান্ত মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সমমনাদের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা দ্রুতই শুরু হতে যাচ্ছে। তবে এক আসনে এক প্রার্থী দেওয়ার ব্যাপারে সবাই একমত। তিনি বলেন, ‘কে কোন আসনে জিততে পারবেন, কোথায় কার রাজনৈতিক অবস্থান কেমন—এই বিষয়গুলো আমাদের বিবেচনায় রয়েছে।’

জামায়াত কত আসন ছাড় দেবে বা পাবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ড. হামিদ আযাদ বলেন, জামায়াতের কোনো নিজস্ব আসন নেই যে তারা ছাড় দেবে, আবার অন্য কারও কাছ থেকে আসন নেওয়ারও কোনো বিষয় নেই। জামায়াতের পক্ষ থেকে তিনশ’ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা রয়েছেন। আট দলের প্রয়োজনে যেকোনো প্রার্থী সরে দাঁড়াবেন। একই ধরনের পরিস্থিতি অন্যদের ক্ষেত্রেও হতে পারে। তিনি জানান, আট দলের শীর্ষ নেতাদের আলোচনার ভিত্তিতেই আসন বণ্টন চূড়ান্ত করা হবে। তাদের লক্ষ্য থাকবে আট দলের বিজয় নিশ্চিত করা। যেখানে যার জয়ের পাল্লা ভারী বলে মনে হবে, সেখানে আট দলের তরফে সেই প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। ড. হামিদ আযাদ আরও বলেন, অন্য রাজনৈতিক দলের মতো জামায়াতের মধ্যে অমুক দলকে এত আসন ছেড়ে দেওয়া বা না দেওয়ার মতো কোনো বিষয় নেই।

ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, আট দলভুক্ত সব দলের রাজনৈতিক অবস্থান, শক্তি ও সামর্থ্য সমান নয়। সেক্ষেত্রে যার যার অবস্থান বিবেচনা করে আসন বণ্টন করা হবে। তবে সবার প্রধান লক্ষ্য থাকবে আট দলকে বিজয়ী করা। তিনি আরও জানান, তাদের আট দলীয় লিয়াজোঁ কমিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এবং এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়েও সক্রিয় হচ্ছে। কেবল জাতীয় নির্বাচন নয়, স্থানীয় নির্বাচনেও আট দলের মধ্যে ঐকমত্য থাকবে।

এদিকে ইসলামী আন্দোলনের অন্য একটি সূত্র থেকে জানা যায়, তারা তিনশ’ আসনে প্রার্থী দিলেও অন্তত অর্ধশতাধিক আসনে তাদের মোটামুটি শক্ত অবস্থান রয়েছে। সেই ক্ষেত্রে আসন সমঝোতায় অন্তত একশ’ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রত্যাশা রয়েছে দলটির।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, তাদের নিজস্ব প্রার্থী তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এটি আট দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। পরবর্তীতে শীর্ষ নেতারা যাচাই-বাছাই ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে তালিকা চূড়ান্ত করবেন। তবে এই দলের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, দলটি ইতিমধ্যে ২৬৮ আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়েছে। এর মধ্যে ৯৩টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। সূত্রটি আরও জানায়, আট দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে ৪০টি আসনে তাদের জয়লাভের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। তাই আসন সমঝোতায় এই ৪০ আসনকে তারা টার্গেট করবে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আট দলের লিয়াজোঁ কমিটির সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আব্দুল কাদের। বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে জনমত গঠনের জন্য আগামী ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী প্রচার-প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সেই তফসিল দেখে শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আট দলভুক্ত প্রত্যেক দলের পৃথক কর্মসূচি পালন, আট দলের কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে জেলা-উপজেলাভিত্তিক লিয়াজোঁ কমিটি গঠন এবং এক বা দুদিনের মধ্যে আসন সমঝোতার আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও আট দলের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার ও সিনিয়র নায়েবে আমীর আবদুল মাজেদ আতহারী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদিক হক্কানী, নায়েবে আমীর মুজিবুর রহমান হামিদী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক নাঈম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব এড. জাহাঙ্গীর হোসাইনসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।