ঢাকা ১০:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

ভারতকে ছাড়াই বাংলাদেশের সঙ্গে জোটের জন্য উন্মুক্ত থাকার ইঙ্গিত পাকিস্তানের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৫:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

ইসলামাবাদ ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বাংলাদেশের সঙ্গে একটি আঞ্চলিক জোট গঠনের জন্য ‘পাকিস্তান উন্মুক্ত’ রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির হুসেন আন্দ্রাবি আনাদোলু এজস্নসিকে এই ইঙ্গিত দেন।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন একদিন আগেই মন্তব্য করেছিলেন যে, ভারতকে বাদ দিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে একটি আঞ্চলিক জোটে যোগদান করা বাংলাদেশের পক্ষে ‘কৌশলগতভাবে সম্ভব’।

তৌহিদ হোসেনের এই মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির হুসেন আন্দ্রাবি বলেন যে, ইসলামাবাদ ‘বহুপাক্ষিকতায় বিশ্বাস করে’। তাহির হুসেন আরও বলেন, ‘বহুপাক্ষিকতার প্রতি পাকিস্তানের অটল প্রতিশ্রুতি রয়েছে এবং বাংলাদেশের যে কোনো প্রস্তাব একই মনোভাব নিয়ে দেখা হবে।’

এর আগে, গত সপ্তাহে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছিলেন যে, বাংলাদেশ, চীন এবং পাকিস্তানকে নিয়ে একটি নতুন ‘ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ’ শুরু হয়েছে এবং এটি এই অঞ্চলের অভ্যন্তরে ও বাইরের দেশগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। ইসহাক দারের মন্তব্য সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন তখন বলেছিলেন যে, ‘আমাদের পক্ষে কৌশলগতভাবে সম্ভব… (কিন্তু) নেপাল বা ভুটানের পক্ষে ভারতকে বাদ দিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে একটি গ্রুপ গঠন করা সম্ভব নয়।’ গত জুন মাসে চীন এই তিন দেশের প্রতিনিদিদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের আয়োজন করেছিল।

সেখানে চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান ওয়েইডং বেইজিংয়ের, ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রুহুল আলম সিদ্দিক বাংলাদেশের এবং অতিরিক্ত সচিব ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী পাকিস্তানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন। একটি যৌথ বিবৃতি অনুসারে, তিন পক্ষ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে এবং ‘ভালো প্রতিবেশীসুলভতা, সমতা ও পারস্পরিক বিশ্বাস, উন্মুক্ততা ও অন্তর্ভুক্তি, সাধারণ উন্নয়ন ও জয়-জয় সহযোগিতা’ নীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশগুলো বলেছে যে, এই কাঠামোটি ‘প্রকৃত বহুপাক্ষিকতা এবং উন্মুক্ত আঞ্চলিকতায়’ নিহিত এবং ‘কোনো তৃতীয় পক্ষের দিকে নির্দেশিত নয়’।

চীন ও পাকিস্তান ‘সর্বকালীন কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদার’। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের সঙ্গেও বেইজিংয়ের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। গত বছর পাকিস্তান ও বাংলাদেশ উভয়ের সঙ্গে চীনের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ছিল প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলার।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ-তুরস্ক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে জোর: বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে তুর্কি রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

ভারতকে ছাড়াই বাংলাদেশের সঙ্গে জোটের জন্য উন্মুক্ত থাকার ইঙ্গিত পাকিস্তানের

আপডেট সময় : ০৮:৪৫:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

ইসলামাবাদ ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বাংলাদেশের সঙ্গে একটি আঞ্চলিক জোট গঠনের জন্য ‘পাকিস্তান উন্মুক্ত’ রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির হুসেন আন্দ্রাবি আনাদোলু এজস্নসিকে এই ইঙ্গিত দেন।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন একদিন আগেই মন্তব্য করেছিলেন যে, ভারতকে বাদ দিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে একটি আঞ্চলিক জোটে যোগদান করা বাংলাদেশের পক্ষে ‘কৌশলগতভাবে সম্ভব’।

তৌহিদ হোসেনের এই মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির হুসেন আন্দ্রাবি বলেন যে, ইসলামাবাদ ‘বহুপাক্ষিকতায় বিশ্বাস করে’। তাহির হুসেন আরও বলেন, ‘বহুপাক্ষিকতার প্রতি পাকিস্তানের অটল প্রতিশ্রুতি রয়েছে এবং বাংলাদেশের যে কোনো প্রস্তাব একই মনোভাব নিয়ে দেখা হবে।’

এর আগে, গত সপ্তাহে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছিলেন যে, বাংলাদেশ, চীন এবং পাকিস্তানকে নিয়ে একটি নতুন ‘ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ’ শুরু হয়েছে এবং এটি এই অঞ্চলের অভ্যন্তরে ও বাইরের দেশগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। ইসহাক দারের মন্তব্য সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন তখন বলেছিলেন যে, ‘আমাদের পক্ষে কৌশলগতভাবে সম্ভব… (কিন্তু) নেপাল বা ভুটানের পক্ষে ভারতকে বাদ দিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে একটি গ্রুপ গঠন করা সম্ভব নয়।’ গত জুন মাসে চীন এই তিন দেশের প্রতিনিদিদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের আয়োজন করেছিল।

সেখানে চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান ওয়েইডং বেইজিংয়ের, ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রুহুল আলম সিদ্দিক বাংলাদেশের এবং অতিরিক্ত সচিব ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী পাকিস্তানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন। একটি যৌথ বিবৃতি অনুসারে, তিন পক্ষ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে এবং ‘ভালো প্রতিবেশীসুলভতা, সমতা ও পারস্পরিক বিশ্বাস, উন্মুক্ততা ও অন্তর্ভুক্তি, সাধারণ উন্নয়ন ও জয়-জয় সহযোগিতা’ নীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশগুলো বলেছে যে, এই কাঠামোটি ‘প্রকৃত বহুপাক্ষিকতা এবং উন্মুক্ত আঞ্চলিকতায়’ নিহিত এবং ‘কোনো তৃতীয় পক্ষের দিকে নির্দেশিত নয়’।

চীন ও পাকিস্তান ‘সর্বকালীন কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদার’। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের সঙ্গেও বেইজিংয়ের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। গত বছর পাকিস্তান ও বাংলাদেশ উভয়ের সঙ্গে চীনের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ছিল প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলার।