ঢাকা ১১:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

৯ মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাংলাদেশে, ভেঙে পড়ার শঙ্কায় ঢাকার প্রায় অর্ধেক ভবন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৯:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ব-দ্বীপ বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই একটি বিশাল ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ চলছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলে ৯ মাত্রার মতো শক্তিশালী ভূমিকম্পও আঘাত হানতে পারে। এই পরিস্থিতিতে রাজধানী ঢাকা ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তবে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং এর পরবর্তী ব্যবস্থাপনার জন্য দেশের সক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। বারবার আলোচনা হলেও বাস্তবে প্রস্তুতির তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বা আশেপাশে প্রায়ই ছোট থেকে মাঝারি ভূকম্পন অনুভূত হয়, যা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায় এবং বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতি করে। দেশের এই ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বড় ধরনের ভূমিকম্পের শঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ভূমিকম্পবিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতারের মতে, দেশের ভেতরে তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থল বাংলাদেশকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলেছে।

বড় কোনো ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে রাজধানী ঢাকার পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সে বিষয়ে উদ্বেগজনক তথ্য দিয়েছেন বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারি। তার গবেষণা অনুযায়ী, এমন একটি বড় ভূমিকম্প হলে রাজধানীর প্রায় অর্ধেক ভবনই ক্ষতিগ্রস্ত বা ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতায় বাংলাদেশ বহু পিছিয়ে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক খোন্দকার মোকাদ্দেম হোসেনের মতে, “ভূমিকম্পের বড় দুর্যোগ মোকাবিলার ২০ ভাগ সক্ষমতাও নেই বাংলাদেশের।”

যদিও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বলছে, তারা এই দুর্যোগ মাথায় রেখে নতুন কর্মপদ্ধতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য তারা নিজেদের প্রস্তুত করছেন। বিশেষজ্ঞরা এমন দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পরিকল্পিত ও ভূমিকম্প সহনীয় নগরায়ন এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকাকে ‘ক্লিন সিটি’ করার ঘোষণা ডিএসসিসি প্রশাসকের: চাঁদাবাজি ও মশার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি

৯ মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাংলাদেশে, ভেঙে পড়ার শঙ্কায় ঢাকার প্রায় অর্ধেক ভবন

আপডেট সময় : ০৪:৪৯:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ব-দ্বীপ বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই একটি বিশাল ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ চলছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলে ৯ মাত্রার মতো শক্তিশালী ভূমিকম্পও আঘাত হানতে পারে। এই পরিস্থিতিতে রাজধানী ঢাকা ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তবে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং এর পরবর্তী ব্যবস্থাপনার জন্য দেশের সক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। বারবার আলোচনা হলেও বাস্তবে প্রস্তুতির তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বা আশেপাশে প্রায়ই ছোট থেকে মাঝারি ভূকম্পন অনুভূত হয়, যা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায় এবং বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতি করে। দেশের এই ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বড় ধরনের ভূমিকম্পের শঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ভূমিকম্পবিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতারের মতে, দেশের ভেতরে তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থল বাংলাদেশকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলেছে।

বড় কোনো ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে রাজধানী ঢাকার পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সে বিষয়ে উদ্বেগজনক তথ্য দিয়েছেন বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারি। তার গবেষণা অনুযায়ী, এমন একটি বড় ভূমিকম্প হলে রাজধানীর প্রায় অর্ধেক ভবনই ক্ষতিগ্রস্ত বা ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতায় বাংলাদেশ বহু পিছিয়ে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক খোন্দকার মোকাদ্দেম হোসেনের মতে, “ভূমিকম্পের বড় দুর্যোগ মোকাবিলার ২০ ভাগ সক্ষমতাও নেই বাংলাদেশের।”

যদিও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বলছে, তারা এই দুর্যোগ মাথায় রেখে নতুন কর্মপদ্ধতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য তারা নিজেদের প্রস্তুত করছেন। বিশেষজ্ঞরা এমন দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পরিকল্পিত ও ভূমিকম্প সহনীয় নগরায়ন এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন।