ঢাকা ১১:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

এনইআইআর সংস্কার ও ফয়েজ তৈয়্যবের পদত্যাগের দাবিতে ঢাকা অচল, তীব্র দুর্ভোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৯:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সংস্কার করে একচেটিয়া সিন্ডিকেট প্রথা বাতিলের দাবি এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যবের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর মোবাইল ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা সড়ক অবরোধ করেন। বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর কাওরান বাজার সার্ক ফোয়ারা মোড়ে অবস্থান নিয়ে তারা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে আশপাশের সবগুলো রাস্তায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে এই অবরোধ চলার কারণে ফার্মগেট, হাতিরঝিল, পান্থপথসহ আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়, ফলে অফিস ফেরত সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অবরোধের জেরে মেট্রোরেল স্টেশনেও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে রাত সাড়ে ৮টার দিকে আন্দোলনকারীরা রাস্তা ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ব্যবসায়ীদের মূল দাবি ও আশঙ্কা

সন্ধ্যা ৬টার পর মাথায় কাপড় বেঁধে ও গলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্ড ঝুলিয়ে মোবাইল ব্যবসায়ীরা কাওরান বাজার মোড়ে অবস্থান নেন এবং কাঠ ও গাড়ির টায়ারে আগুন ধরিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের প্রধান দাবি হলো, মোবাইল ফোন আমদানিতে ৫৭ শতাংশ ট্যাক্স কমিয়ে ১০-১২ শতাংশে নামিয়ে আনা।

মো. আশরাফ নামে বসুন্ধরা সিটির এক ব্যবসায়ী বলেন, আগামী ১৬ই ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর সিস্টেম চালু হলে ১ লাখ টাকার একটি ফোনে ৫৭ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে, ফলে খুচরা মূল্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ২ লাখ টাকার বেশি হয়ে যাবে। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পথে বসবেন এবং দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন ও ব্যাংক লোন পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তিনি জানান, একাধিকবার মিটিং হলেও তাদের দাবি মেনে নেওয়ার কোনো সমাধান হয়নি; বরং সরকার মার্চ ২৬ সাল পর্যন্ত মাত্র তিন মাস সময় দিয়েছে।

ফরহাদ হোসেন নামে আরেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, সরকার একটি সিন্ডিকেটের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে এনইআইআর বাস্তবায়ন করছে। তিনি আরও বলেন, এখন তাদের বলা হচ্ছে তৈয়্যব সিন্ডিকেটের ৯ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রত্যয়ন নিয়ে ব্যবসা চালাতে হবে। এছাড়াও, স্টকে থাকা মোবাইলগুলো এবং ইউজড মোবাইলও অবৈধ বলা হচ্ছে, যা লাখ লাখ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জন্য বিপদ ডেকে আনবে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার আন্দোলন চলবে এবং কাল থেকে সারা দেশের মোবাইল ব্যবসায়ীরা এই আন্দোলনে যোগ দেবেন।

সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ

হঠাৎ করে কাওরান বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ মোড় অবরোধ করায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হন। প্রাইভেটকার চালক মো. আনিছ আহমেদ এবং পথচারী আফসানা আক্তার মিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কারো কিছু হলেই রাস্তা আটকে আন্দোলন শুরু করে দেওয়া হয় এবং সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ে। তারা মনে করেন, আন্দোলন সাধারণ মানুষের জন্য হলেও সেই সাধারণ মানুষকেই ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। নিচের মূল সড়ক অবরোধ হওয়ায় কাওরান বাজার মেট্রো স্টেশনেও যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় এবং বিশৃঙ্খলা দেখা যায়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈন্যু মারমা জানান, কোনো আগাম বার্তা ছাড়াই মোবাইল ব্যবসায়ীরা হঠাৎ রাস্তা অবরোধ করায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের বোঝানোর পর তারা রাস্তা ছেড়ে দেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

এনইআইআর সংস্কার ও ফয়েজ তৈয়্যবের পদত্যাগের দাবিতে ঢাকা অচল, তীব্র দুর্ভোগ

আপডেট সময় : ১১:০৯:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সংস্কার করে একচেটিয়া সিন্ডিকেট প্রথা বাতিলের দাবি এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যবের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর মোবাইল ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা সড়ক অবরোধ করেন। বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর কাওরান বাজার সার্ক ফোয়ারা মোড়ে অবস্থান নিয়ে তারা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে আশপাশের সবগুলো রাস্তায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে এই অবরোধ চলার কারণে ফার্মগেট, হাতিরঝিল, পান্থপথসহ আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়, ফলে অফিস ফেরত সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অবরোধের জেরে মেট্রোরেল স্টেশনেও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে রাত সাড়ে ৮টার দিকে আন্দোলনকারীরা রাস্তা ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ব্যবসায়ীদের মূল দাবি ও আশঙ্কা

সন্ধ্যা ৬টার পর মাথায় কাপড় বেঁধে ও গলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্ড ঝুলিয়ে মোবাইল ব্যবসায়ীরা কাওরান বাজার মোড়ে অবস্থান নেন এবং কাঠ ও গাড়ির টায়ারে আগুন ধরিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের প্রধান দাবি হলো, মোবাইল ফোন আমদানিতে ৫৭ শতাংশ ট্যাক্স কমিয়ে ১০-১২ শতাংশে নামিয়ে আনা।

মো. আশরাফ নামে বসুন্ধরা সিটির এক ব্যবসায়ী বলেন, আগামী ১৬ই ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর সিস্টেম চালু হলে ১ লাখ টাকার একটি ফোনে ৫৭ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে, ফলে খুচরা মূল্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ২ লাখ টাকার বেশি হয়ে যাবে। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পথে বসবেন এবং দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন ও ব্যাংক লোন পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তিনি জানান, একাধিকবার মিটিং হলেও তাদের দাবি মেনে নেওয়ার কোনো সমাধান হয়নি; বরং সরকার মার্চ ২৬ সাল পর্যন্ত মাত্র তিন মাস সময় দিয়েছে।

ফরহাদ হোসেন নামে আরেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, সরকার একটি সিন্ডিকেটের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে এনইআইআর বাস্তবায়ন করছে। তিনি আরও বলেন, এখন তাদের বলা হচ্ছে তৈয়্যব সিন্ডিকেটের ৯ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রত্যয়ন নিয়ে ব্যবসা চালাতে হবে। এছাড়াও, স্টকে থাকা মোবাইলগুলো এবং ইউজড মোবাইলও অবৈধ বলা হচ্ছে, যা লাখ লাখ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জন্য বিপদ ডেকে আনবে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার আন্দোলন চলবে এবং কাল থেকে সারা দেশের মোবাইল ব্যবসায়ীরা এই আন্দোলনে যোগ দেবেন।

সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ

হঠাৎ করে কাওরান বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ মোড় অবরোধ করায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হন। প্রাইভেটকার চালক মো. আনিছ আহমেদ এবং পথচারী আফসানা আক্তার মিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কারো কিছু হলেই রাস্তা আটকে আন্দোলন শুরু করে দেওয়া হয় এবং সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ে। তারা মনে করেন, আন্দোলন সাধারণ মানুষের জন্য হলেও সেই সাধারণ মানুষকেই ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। নিচের মূল সড়ক অবরোধ হওয়ায় কাওরান বাজার মেট্রো স্টেশনেও যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় এবং বিশৃঙ্খলা দেখা যায়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈন্যু মারমা জানান, কোনো আগাম বার্তা ছাড়াই মোবাইল ব্যবসায়ীরা হঠাৎ রাস্তা অবরোধ করায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের বোঝানোর পর তারা রাস্তা ছেড়ে দেন।