ঢাকা ১১:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা কাটছে না, জবাবদিহি ও সংস্কারের দাবি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরম, বাংলাদেশের আহ্বায়ক অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন, নির্বাচন ক্রমান্বয়ে একটি অবধারিত বিষয়ে পরিণত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন হবে বিষয়টি সবাই মেনে নিলেও ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে কিনা, সেই শঙ্কা এখনো কাটছে না।’ তিনি বুধবার দুপুরে নাগরিক প্ল্যাটফরমের প্রাক্-নির্বাচনী উদ্যোগ ‘আঞ্চলিক পরামর্শ সভা’ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

চট্টগ্রাম নগরের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এই সভায় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, প্রায় সবাই নির্বাচনের পক্ষে থাকলেও, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করার সক্ষমতার বিষয়ে যে শঙ্কা, তা দূর হচ্ছে না। প্রধান উপদেষ্টা ‘ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ নির্বাচন’ করে দেখানোর কথা বলেছেন, যার অপেক্ষায় সবাই।

নাগরিকদের প্রত্যাশা

সভার আলোচ্য বিষয়গুলোর প্রসঙ্গে টেনে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, নাগরিকেরা সুশাসন, জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি, আইনের শাসন, নিরাপত্তা এবং অধিকার নিশ্চিত করার প্রত্যাশা জানিয়েছেন। তারা একটি দক্ষ প্রশাসন, একটি স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা এবং একটি নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা চান। এই দাবিগুলো রাজনীতিবিদরা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের ভেতরে কীভাবে স্থান দেবেন, তা জানার জন্য নাগরিকেরা অপেক্ষায় আছেন। ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন সভায় ভোট দিতে গিয়ে ‘মবের শিকার’ হওয়ার শঙ্কার কথা জানান।

রাজনৈতিক সংস্কার ও স্বচ্ছতা

রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কারের বিষয়ে কোনো বড় আলোচনা হয়নি উল্লেখ করে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, রাজনীতিবিদ, সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন, কারও তরফ থেকেই এ বিষয়ে অগ্রগতি দেখা যায়নি। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক নেতাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব আরও স্বচ্ছতার সঙ্গে সামনে আনা এবং তাদের পরিবারের আত্মীয়স্বজনের সহায়-সম্পত্তির বিষয়টিও ঘোষণার দাবি উঠেছে।

বিগত ও বর্তমান সরকার তাদের মন্ত্রিপরিষদের বা সরকারপ্রধানের সম্পত্তির হিসাব দেওয়ার ঘোষণা দিলেও তা পরিপূরণ না করায় মানুষের মধ্যে বড় হতাশা রয়েছে, যা আগামী সরকারকেও তা না করার ক্ষেত্রে উৎসাহ জুগিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা কাটছে না, জবাবদিহি ও সংস্কারের দাবি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

আপডেট সময় : ১১:০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরম, বাংলাদেশের আহ্বায়ক অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন, নির্বাচন ক্রমান্বয়ে একটি অবধারিত বিষয়ে পরিণত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন হবে বিষয়টি সবাই মেনে নিলেও ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে কিনা, সেই শঙ্কা এখনো কাটছে না।’ তিনি বুধবার দুপুরে নাগরিক প্ল্যাটফরমের প্রাক্-নির্বাচনী উদ্যোগ ‘আঞ্চলিক পরামর্শ সভা’ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

চট্টগ্রাম নগরের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এই সভায় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, প্রায় সবাই নির্বাচনের পক্ষে থাকলেও, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করার সক্ষমতার বিষয়ে যে শঙ্কা, তা দূর হচ্ছে না। প্রধান উপদেষ্টা ‘ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ নির্বাচন’ করে দেখানোর কথা বলেছেন, যার অপেক্ষায় সবাই।

নাগরিকদের প্রত্যাশা

সভার আলোচ্য বিষয়গুলোর প্রসঙ্গে টেনে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, নাগরিকেরা সুশাসন, জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি, আইনের শাসন, নিরাপত্তা এবং অধিকার নিশ্চিত করার প্রত্যাশা জানিয়েছেন। তারা একটি দক্ষ প্রশাসন, একটি স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা এবং একটি নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা চান। এই দাবিগুলো রাজনীতিবিদরা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের ভেতরে কীভাবে স্থান দেবেন, তা জানার জন্য নাগরিকেরা অপেক্ষায় আছেন। ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন সভায় ভোট দিতে গিয়ে ‘মবের শিকার’ হওয়ার শঙ্কার কথা জানান।

রাজনৈতিক সংস্কার ও স্বচ্ছতা

রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কারের বিষয়ে কোনো বড় আলোচনা হয়নি উল্লেখ করে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, রাজনীতিবিদ, সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন, কারও তরফ থেকেই এ বিষয়ে অগ্রগতি দেখা যায়নি। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক নেতাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব আরও স্বচ্ছতার সঙ্গে সামনে আনা এবং তাদের পরিবারের আত্মীয়স্বজনের সহায়-সম্পত্তির বিষয়টিও ঘোষণার দাবি উঠেছে।

বিগত ও বর্তমান সরকার তাদের মন্ত্রিপরিষদের বা সরকারপ্রধানের সম্পত্তির হিসাব দেওয়ার ঘোষণা দিলেও তা পরিপূরণ না করায় মানুষের মধ্যে বড় হতাশা রয়েছে, যা আগামী সরকারকেও তা না করার ক্ষেত্রে উৎসাহ জুগিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।