ঢাকা ০২:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামে ৯ আসনে এনসিপির মনোনয়ন, প্রার্থী করা হয়েছে অন্য দলের নেতাকেও

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের ৯টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এখনও ৭টি আসনে প্রার্থী দেয়নি দলটি। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে প্রার্থী হয়েছেন মহিউদ্দিন জিলানী। তিনি এনসিপির শ্রমিক উইংয়ের (বর্তমানে জাতীয় শ্রমিকশক্তি) চট্টগ্রাম নগরের সাবেক আহ্বায়ক। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান (পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন শাহজাহান মঞ্জু। 

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী ও চান্দগাঁও) আসনে প্রার্থী করা হয়েছে মো. জোবাইরুল হাসানকে। তিনি এনসিপির চট্টগ্রাম অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চট্টগ্রাম থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ ও জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন ডা. আবু নাসের। 

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনে এনসিপির প্রার্থী হয়েছেন মো. রিয়াজুল আনোয়ার চৌধুরী। তিনি বর্তমানে এনসিপির কোনও কমিটিতে নেই। তবে ২০০৫ সালে বিএনপি-জামায়াতের চার–দলীয় জোটের সমর্থন নিয়ে নগরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কমিশনার (বর্তমানে কাউন্সিলর) নির্বাচন করেছিলেন। মূলত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। আবার কাউন্সিলর পদে ২০১০ সালেও একই ওয়ার্ড থেকে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে কোনও বারই জিততে পারেননি। চট্টগ্রাম-৯ আসনে তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন ডা. এ কে এম ফজলুল হক।

চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী-হালিশহর) আসনে এনসিপির প্রার্থী সাগুফতা বুশরা মিশমা। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী। 

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে মনোনয়নের দৌড়ে ছিলেন এনসিপির নগরে যুগ্ম সমন্বয়কারী এরফানুল হক। তবে এ আসনে নির্বাচনের ‘টিকিট’ পেয়েছেন মোহাম্মদ আজাদ দোভাষ। তিনি দলটির কোনও পর্যায়ের কমিটিতে নেই। এক সময় তিনি জাতীয় পার্টির (আনোয়ার হোসেন মঞ্জু নেতৃত্বাধীন) রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। এর আগে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এই আসনে বিএনপি এখনও কোনও প্রার্থী ঘোষণা করেনি। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন শফিউল আলম। 

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে এনসিপির প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় সদস্য জুবাইরুল আলম। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম। জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান। 

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে এনসিপির হয়ে লড়বেন দলটির দক্ষিণ জেলার প্রধান সমন্বয়কারী মুহাম্মদ হাসান আলী। এই আসনে বিএনপির কোনও প্রার্থী নেই। তবে এলিডিপির প্রেসিডেন্ট অলি আহমেদ প্রার্থী হতে পারেন বলে আলোচনা আছে। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন ডা. শাহাদাৎ হোসেন।

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে এনসিপির প্রার্থী হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মাবুদ সৈয়দ। তিনিও এনসিপির কোনও কমিটিতে নেই। তবে ২০১২ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। এর আগে ১৯৮৩ সালে বাসদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এই আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ও বিএনপির প্রার্থী দলের দক্ষিণ জেলা কমিটির সদস্য সাবেক আহ্বায়ক নাজমুল মোস্তফা আমিন।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে এনসিপির প্রার্থী মীর আরশাদুল হক। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী। জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাতারের আকাশসীমায় ইরানের আগ্রাসন প্রতিহত: দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত

চট্টগ্রামে ৯ আসনে এনসিপির মনোনয়ন, প্রার্থী করা হয়েছে অন্য দলের নেতাকেও

আপডেট সময় : ০৫:৫৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের ৯টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এখনও ৭টি আসনে প্রার্থী দেয়নি দলটি। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে প্রার্থী হয়েছেন মহিউদ্দিন জিলানী। তিনি এনসিপির শ্রমিক উইংয়ের (বর্তমানে জাতীয় শ্রমিকশক্তি) চট্টগ্রাম নগরের সাবেক আহ্বায়ক। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান (পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন শাহজাহান মঞ্জু। 

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী ও চান্দগাঁও) আসনে প্রার্থী করা হয়েছে মো. জোবাইরুল হাসানকে। তিনি এনসিপির চট্টগ্রাম অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চট্টগ্রাম থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ ও জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন ডা. আবু নাসের। 

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনে এনসিপির প্রার্থী হয়েছেন মো. রিয়াজুল আনোয়ার চৌধুরী। তিনি বর্তমানে এনসিপির কোনও কমিটিতে নেই। তবে ২০০৫ সালে বিএনপি-জামায়াতের চার–দলীয় জোটের সমর্থন নিয়ে নগরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কমিশনার (বর্তমানে কাউন্সিলর) নির্বাচন করেছিলেন। মূলত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। আবার কাউন্সিলর পদে ২০১০ সালেও একই ওয়ার্ড থেকে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে কোনও বারই জিততে পারেননি। চট্টগ্রাম-৯ আসনে তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন ডা. এ কে এম ফজলুল হক।

চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী-হালিশহর) আসনে এনসিপির প্রার্থী সাগুফতা বুশরা মিশমা। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী। 

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে মনোনয়নের দৌড়ে ছিলেন এনসিপির নগরে যুগ্ম সমন্বয়কারী এরফানুল হক। তবে এ আসনে নির্বাচনের ‘টিকিট’ পেয়েছেন মোহাম্মদ আজাদ দোভাষ। তিনি দলটির কোনও পর্যায়ের কমিটিতে নেই। এক সময় তিনি জাতীয় পার্টির (আনোয়ার হোসেন মঞ্জু নেতৃত্বাধীন) রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। এর আগে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এই আসনে বিএনপি এখনও কোনও প্রার্থী ঘোষণা করেনি। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন শফিউল আলম। 

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে এনসিপির প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় সদস্য জুবাইরুল আলম। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম। জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান। 

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে এনসিপির হয়ে লড়বেন দলটির দক্ষিণ জেলার প্রধান সমন্বয়কারী মুহাম্মদ হাসান আলী। এই আসনে বিএনপির কোনও প্রার্থী নেই। তবে এলিডিপির প্রেসিডেন্ট অলি আহমেদ প্রার্থী হতে পারেন বলে আলোচনা আছে। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন ডা. শাহাদাৎ হোসেন।

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে এনসিপির প্রার্থী হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মাবুদ সৈয়দ। তিনিও এনসিপির কোনও কমিটিতে নেই। তবে ২০১২ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। এর আগে ১৯৮৩ সালে বাসদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এই আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ও বিএনপির প্রার্থী দলের দক্ষিণ জেলা কমিটির সদস্য সাবেক আহ্বায়ক নাজমুল মোস্তফা আমিন।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে এনসিপির প্রার্থী মীর আরশাদুল হক। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী। জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম।