ঢাকা ০২:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

আমি যা বললো তাই আইন, আল্লাহর হুকুম: বিএনপি প্রার্থীর ভিডিও ভাইরাল

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দলের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সহকারী সম্পাদক আমিনুল ইসলামের ৩৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আল্লাহর ওপর ভরসা করবেন, ইনশাআল্লাহ আমাদের জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠন করবে, তখন মানুষই থাকবে না। আমি যা বলবো, এখানে তাই আইন, আল্লাহর হুকুম। কাউকে ভয় করতে হবে না।’

গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের একটি বিল নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি ঘরোয়া সভায় তিনি এমন বক্তব্য দেন। মঙ্গলবার বিকাল থেকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি একটি সালিশ বৈঠকের এবং ৫ আগস্টের পরের কোনও এক সময়ের বলে নিশ্চিত করেছেন বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম।

ভিডিওতে আমিনুল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, ‘সবই খালি হাজি (আমিনুল ইসলাম) কইর‍্যা দেবে, তা না। আপনাদেরও দায়িত্ব আছে। বিল যে আছে, বিল তো কেউ উঠিয়ে লিয়া যাইবে, আমি বাঁইচা থাকাকালীন কারও ক্ষমতা আছে? ফের আগের নিয়মে চলবে। যা ভাগ করে দিয়াছি, তার বাইরে একটা সুচও নড়বে না। ভোটের আগে এগলা করবো না। এক-দুই মাসের লাইগা সমস্যা হইবে না। আল্লাহর ওপর ভরসা করবেন, ইনশাআল্লাহ আমাদের জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠন করবে। তখন মানুষই থাকবে না। আমি যা বলবো, এখানে তাই আইন, আল্লাহর হুকুম। ভয় করতে হবে না কাউকে।’

এ বিষয়ে নাচোল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের বলেন, ‘ভিডিওটি আমি দেখেছি। এমন দম্ভপূর্ণ বক্তব্য আইনসংগত নয়। সভাটি তিনি করেছেন গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউপির তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে। কারও পদ-পদবি জানি না। তাদের জন্যই বিলটি ভোগদখলের ব্যবস্থা করে দেন আমিনুল।’

এ বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এটা কোনও রাজনৈতিক সমাবেশ নয়। এটি একটি ঘরোয়া সালিশ। ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর কোনও এক সময়ের ঘটনা। গোমস্তাপুরের রাধানগর ইউনিয়নের একটি বিল নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ মেটানোর জন্য একটি সালিশ অনুষ্ঠিত হয় আমার বাড়িতেই, নাচোলে। সময়টা ঠিক মনে করতে পারছি না। সালিশে আমি যেটা নির্ধারণ করে দিয়েছি, সেভাবেই বিল পরিচালনা করছেন তারা। এটা ছিল জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে একটা দ্বন্দ্ব। কে কত ভাগ পাবে, আমিই সেটা ঠিক করে দিয়েছিলাম, সেভাবেই বিলটি চলছে।’ 

বিল-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বাংলা সন ১৪২৪ থেকে ১৪৩০ পর্যন্ত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ছয় বছরের জন্য গোমস্তাপুরের কাজিগ্রাম মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে বিলটি ইজারা দেওয়া ছিল। ইজারামূল্য ৭০ লাখ। ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে সরকার আয় করেছে ১ কোটি এক লাখ ৫০ হাজার টাকা। ১৪৩১ সন (২০২৪ সাল) থেকে ইজারা হয় না। এখন খাস কালেকশনের মাধ্যমে চলছে। উপকারভোগীরা আমিনুলের অনুসারী।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাতারের আকাশসীমায় ইরানের আগ্রাসন প্রতিহত: দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত

আমি যা বললো তাই আইন, আল্লাহর হুকুম: বিএনপি প্রার্থীর ভিডিও ভাইরাল

আপডেট সময় : ১০:২৯:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দলের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সহকারী সম্পাদক আমিনুল ইসলামের ৩৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আল্লাহর ওপর ভরসা করবেন, ইনশাআল্লাহ আমাদের জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠন করবে, তখন মানুষই থাকবে না। আমি যা বলবো, এখানে তাই আইন, আল্লাহর হুকুম। কাউকে ভয় করতে হবে না।’

গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের একটি বিল নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি ঘরোয়া সভায় তিনি এমন বক্তব্য দেন। মঙ্গলবার বিকাল থেকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি একটি সালিশ বৈঠকের এবং ৫ আগস্টের পরের কোনও এক সময়ের বলে নিশ্চিত করেছেন বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম।

ভিডিওতে আমিনুল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, ‘সবই খালি হাজি (আমিনুল ইসলাম) কইর‍্যা দেবে, তা না। আপনাদেরও দায়িত্ব আছে। বিল যে আছে, বিল তো কেউ উঠিয়ে লিয়া যাইবে, আমি বাঁইচা থাকাকালীন কারও ক্ষমতা আছে? ফের আগের নিয়মে চলবে। যা ভাগ করে দিয়াছি, তার বাইরে একটা সুচও নড়বে না। ভোটের আগে এগলা করবো না। এক-দুই মাসের লাইগা সমস্যা হইবে না। আল্লাহর ওপর ভরসা করবেন, ইনশাআল্লাহ আমাদের জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠন করবে। তখন মানুষই থাকবে না। আমি যা বলবো, এখানে তাই আইন, আল্লাহর হুকুম। ভয় করতে হবে না কাউকে।’

এ বিষয়ে নাচোল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের বলেন, ‘ভিডিওটি আমি দেখেছি। এমন দম্ভপূর্ণ বক্তব্য আইনসংগত নয়। সভাটি তিনি করেছেন গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউপির তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে। কারও পদ-পদবি জানি না। তাদের জন্যই বিলটি ভোগদখলের ব্যবস্থা করে দেন আমিনুল।’

এ বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এটা কোনও রাজনৈতিক সমাবেশ নয়। এটি একটি ঘরোয়া সালিশ। ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর কোনও এক সময়ের ঘটনা। গোমস্তাপুরের রাধানগর ইউনিয়নের একটি বিল নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ মেটানোর জন্য একটি সালিশ অনুষ্ঠিত হয় আমার বাড়িতেই, নাচোলে। সময়টা ঠিক মনে করতে পারছি না। সালিশে আমি যেটা নির্ধারণ করে দিয়েছি, সেভাবেই বিল পরিচালনা করছেন তারা। এটা ছিল জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে একটা দ্বন্দ্ব। কে কত ভাগ পাবে, আমিই সেটা ঠিক করে দিয়েছিলাম, সেভাবেই বিলটি চলছে।’ 

বিল-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বাংলা সন ১৪২৪ থেকে ১৪৩০ পর্যন্ত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ছয় বছরের জন্য গোমস্তাপুরের কাজিগ্রাম মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে বিলটি ইজারা দেওয়া ছিল। ইজারামূল্য ৭০ লাখ। ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে সরকার আয় করেছে ১ কোটি এক লাখ ৫০ হাজার টাকা। ১৪৩১ সন (২০২৪ সাল) থেকে ইজারা হয় না। এখন খাস কালেকশনের মাধ্যমে চলছে। উপকারভোগীরা আমিনুলের অনুসারী।