বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) বাংলাদেশে কারাবন্দি চার সাংবাদিক- ফারজানা রূপা, শাকিল আহমেদ, মোজাম্মেল বাবু ও শ্যামল দত্ত’র মুক্তি চেয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে একটি চিঠি দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস সামনে রেখে সিপিজে তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই চিঠিতে প্রধান উপদেষ্টাকে ‘জরুরি পদক্ষেপ’ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সিপিজে তাদের চিঠিতে ওই চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো ‘প্রতিহিংসামূলক’ বলে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আনা হত্যা মামলার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণের অভাব রয়েছে এবং তাদের সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার জেরে ‘প্রতিহিংসাবশত’ এসব মামলা করা হয়েছে। কারাবন্দি সাংবাদিকদের পরিবারের বরাত দিয়ে চিঠিতে বলা হয়, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদেরকে ৩৬ বর্গফুটের সেলে রাখা হয়েছে। সেখানে দরজার বদলে লোহার শিক থাকায় তারা শীত ও মশার উপদ্রবের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। এছাড়া, কংক্রিটের মেঝেতে তোশক ছাড়াই তাদের ঘুমাতে হচ্ছে এবং তারা পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসাসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের নভেম্বরে ড. ইউনূস গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছিলেন যে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি করে হত্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে এবং সরকার তা বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সিপিজে’র দাবি, গত বছরের ৮ই আগস্ট ড. ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার পর এই চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নতুন করে হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে এবং বারবার তাদের জামিন আবেদন নাকচ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনটি মনে করে, এই বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ মানবিক শাসন, ন্যায়বিচার ও মুক্ত আলোচনার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকারকে তুলে ধরবে।
রিপোর্টারের নাম 






















