ঢাকা ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

গুম-খুনের বিচারহীনতা: ন্যায়বিচারের পথে সামাজিক বিভাজন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

আমাদের সমাজে ‘গুম’ ও ‘খুন’ শব্দ দুটি মানুষের জীবনে একই রকম চরম পরিণতি ডেকে আনে – জীবনের চলমান পথ থেকে হারিয়ে যাওয়া। কিন্তু এই দুটি অমানবিক কাজের বিচার দাবিতে আমাদের সম্মিলিত অবস্থান প্রায়শই অস্পষ্ট ও দ্বিধাবিভক্ত থাকে, যা নাগরিক হিসেবে আমাদের অন্যতম বড় দুর্ভাগ্য। মানুষের জীবন একটি অন্তর্নিহিত মূল্য বহন করে, তাই কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে তা কেড়ে নেওয়া কখনোই ন্যায়সংগত হতে পারে না।

তবে সমাজের একটি বড় অংশ গুম-খুনের বিচার চাইতে গিয়ে পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে পড়ে। কেউ প্রতিবাদ করে, কেউ নীরব থাকে, আবার কেউ কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই অপরাধগুলোকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে। এই বিভাজন কেবল রাজনৈতিক মতপার্থক্য নয়, এটি সামাজিক মনোবিজ্ঞানেরও প্রতিফলন। ‘দলগত পক্ষপাত’ বা ‘শ্রেণি-দ্বন্দ্ব’ মানুষকে ন্যায়-অন্যায়ের সর্বজনীন মানদণ্ড থেকে বিচ্যুত করে। অথচ অন্যায়ের মুখে নীরব থাকা নিজেই একটি নৈতিক অবস্থান, যা প্রায়শই অন্যায়কারীর পক্ষেই কাজ করে। নোবেল বিজয়ী ডেসমন্ড টুটুর ভাষায়, ‘অন্যায়ের পরিস্থিতিতে আপনি যদি নিরপেক্ষ থাকেন, তবে আপনি অত্যাচারীর পক্ষ নিয়েছেন’।

আমাদের এই পক্ষপাতিত্বের ফলে গুম-খুনের বিচার চায় কেবল একটি পক্ষ, অন্য দুটি পক্ষ নীরবতা বা সাফাই গাওয়ার মাধ্যমে এর বিপক্ষে অবস্থান নেয়। এই অসামঞ্জস্যপূর্ণ নৈতিক ভারসাম্যহীনতার কারণে বিচারহীনতা আমাদের দেশে একটি স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিতে রূপ নিয়েছে। ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী এমিল দুর্খাইমের ভাষায় যাকে ‘নৈতিক বিশৃঙ্খলা’ বলা হয়, সেই অবস্থাই আমাদের সমাজে প্রতিফলিত হচ্ছে, যেখানে ন্যায়-অন্যায়ের স্পষ্ট সীমারেখা মুছে গেছে। ফলে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের ব্যর্থতা কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং তা আমাদের সামষ্টিক নৈতিকতার প্রতিফলন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জবাবদিহিমূলক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান সেনাপ্রধানের

গুম-খুনের বিচারহীনতা: ন্যায়বিচারের পথে সামাজিক বিভাজন

আপডেট সময় : ১০:৩৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

আমাদের সমাজে ‘গুম’ ও ‘খুন’ শব্দ দুটি মানুষের জীবনে একই রকম চরম পরিণতি ডেকে আনে – জীবনের চলমান পথ থেকে হারিয়ে যাওয়া। কিন্তু এই দুটি অমানবিক কাজের বিচার দাবিতে আমাদের সম্মিলিত অবস্থান প্রায়শই অস্পষ্ট ও দ্বিধাবিভক্ত থাকে, যা নাগরিক হিসেবে আমাদের অন্যতম বড় দুর্ভাগ্য। মানুষের জীবন একটি অন্তর্নিহিত মূল্য বহন করে, তাই কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে তা কেড়ে নেওয়া কখনোই ন্যায়সংগত হতে পারে না।

তবে সমাজের একটি বড় অংশ গুম-খুনের বিচার চাইতে গিয়ে পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে পড়ে। কেউ প্রতিবাদ করে, কেউ নীরব থাকে, আবার কেউ কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই অপরাধগুলোকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে। এই বিভাজন কেবল রাজনৈতিক মতপার্থক্য নয়, এটি সামাজিক মনোবিজ্ঞানেরও প্রতিফলন। ‘দলগত পক্ষপাত’ বা ‘শ্রেণি-দ্বন্দ্ব’ মানুষকে ন্যায়-অন্যায়ের সর্বজনীন মানদণ্ড থেকে বিচ্যুত করে। অথচ অন্যায়ের মুখে নীরব থাকা নিজেই একটি নৈতিক অবস্থান, যা প্রায়শই অন্যায়কারীর পক্ষেই কাজ করে। নোবেল বিজয়ী ডেসমন্ড টুটুর ভাষায়, ‘অন্যায়ের পরিস্থিতিতে আপনি যদি নিরপেক্ষ থাকেন, তবে আপনি অত্যাচারীর পক্ষ নিয়েছেন’।

আমাদের এই পক্ষপাতিত্বের ফলে গুম-খুনের বিচার চায় কেবল একটি পক্ষ, অন্য দুটি পক্ষ নীরবতা বা সাফাই গাওয়ার মাধ্যমে এর বিপক্ষে অবস্থান নেয়। এই অসামঞ্জস্যপূর্ণ নৈতিক ভারসাম্যহীনতার কারণে বিচারহীনতা আমাদের দেশে একটি স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিতে রূপ নিয়েছে। ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী এমিল দুর্খাইমের ভাষায় যাকে ‘নৈতিক বিশৃঙ্খলা’ বলা হয়, সেই অবস্থাই আমাদের সমাজে প্রতিফলিত হচ্ছে, যেখানে ন্যায়-অন্যায়ের স্পষ্ট সীমারেখা মুছে গেছে। ফলে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের ব্যর্থতা কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং তা আমাদের সামষ্টিক নৈতিকতার প্রতিফলন।