ঢাকা ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

নেতানিয়াহু কি গণহত্যার লাইসেন্স পেয়েছেন? প্রশ্ন তুললেন বিশ্লেষকরা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৫:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

আমেরিকা ইরানকে পারমাণবিক প্রকল্প বন্ধের চাপ দিচ্ছে, অথচ ইরান কোথাও আগ্রাসন বা গণহত্যা চালায়নি। বরং তারা ফিলিস্তিন ও লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন এবং গণহত্যার প্রতিবাদ করেছে। ইরান নিউক্লিয়ার প্রলিফেরেশন ট্রিটি বা এনপিটিতে স্বাক্ষর করা একটি দেশ, যা শান্তিপূর্ণ উপায়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের নিশ্চয়তা দেয়। অন্যদিকে, ইসরাইল এই গ্যারান্টি ছাড়াই পারমাণবিক প্রকল্প ধরে রেখেছে, কিন্তু ইসরাইলের পারমাণবিক প্রকল্প নিয়ে আমেরিকা বা ইউরোপ কখনো প্রশ্ন তোলেনি। পশ্চিমা প্রশ্নগুলো কেবল ইরানকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়।

প্রশ্ন হলো, কেন ইসরাইল পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে এই প্রশ্রয় পায়? কেন ফিলিস্তিন ও লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন ও গণহত্যা বিষয়ে পশ্চিমারা নিষ্ক্রিয়তা অনুসরণ করে? ইসরাইলের মানবতাবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কথা বলার অপরাধে কেন আমেরিকা, কানাডা কিংবা অস্ট্রেলিয়ার ভিসা পান না পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মানুষ? এসব প্রশ্নের উত্তর সম্ভবত জায়নিস্টদের এডুকেশনাল ও কালচারাল হেজেমনির মধ্যে নিহিত। ঊনবিংশ ও বিংশ শতকজুড়ে জায়নিস্টরা ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংক, মিডিয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞান গবেষণা, শিল্প-সংস্কৃতিতে প্রাধান্য বিস্তার করে। ইহুদি সমাজের নিরলস সাধনার শক্তির ওপর ভিত্তি করে জায়নিজম পশ্চিমা বিশ্বের মনোজগতে এনলাইটেনমেন্টের সরদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে এবং ব্রিটেন ও আমেরিকার ক্ষমতাকাঠামোতে ডিপ স্টেইট হিসেবে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করে।

জায়নিজমের পোস্টারবয় নেতানিয়াহু ধর্মগ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে নীল নদ থেকে ইউফ্রেতিস নদী পর্যন্ত অখণ্ড ইসরাইলের স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা করলেও, আল-আকসা মসজিদ ভেঙে সেখানে মন্দির নির্মাণের স্বপ্ন দেখলেও, পশ্চিমে জায়নিজম প্রগতিশীলতার প্রতীক হিসেবে যে কালচারাল হেজেমনি নির্মাণ করেছে, তা তাকে সেক্যুলারিজমের রক্ষক হিসেবে সুচিহ্নিত করেছে। ইহুদি সমাজের পাণ্ডিত্যকে কাজে লাগিয়ে আমেরিকা-ব্রিটেন-ইউরোপের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়েছে জায়নিস্ট কাঠামো। শিল্প-সাহিত্য-চলচ্চিত্র জগতে প্রাধান্য বিশ্বব্যাপী আধুনিকতার সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে সাহায্য করেছে জায়নিস্টদের। পশ্চিমা সমাজে পণ্ডিতি ও কালচারাল আগ্রাসনের মাধ্যমে জায়নিস্টরা এমন ধারণা প্রবিষ্ট করেছে যে, জায়নিস্টদের নির্মিত ‘সত্য’ই একমাত্র সত্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জবাবদিহিমূলক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান সেনাপ্রধানের

নেতানিয়াহু কি গণহত্যার লাইসেন্স পেয়েছেন? প্রশ্ন তুললেন বিশ্লেষকরা

আপডেট সময় : ১০:৩৫:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

আমেরিকা ইরানকে পারমাণবিক প্রকল্প বন্ধের চাপ দিচ্ছে, অথচ ইরান কোথাও আগ্রাসন বা গণহত্যা চালায়নি। বরং তারা ফিলিস্তিন ও লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন এবং গণহত্যার প্রতিবাদ করেছে। ইরান নিউক্লিয়ার প্রলিফেরেশন ট্রিটি বা এনপিটিতে স্বাক্ষর করা একটি দেশ, যা শান্তিপূর্ণ উপায়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের নিশ্চয়তা দেয়। অন্যদিকে, ইসরাইল এই গ্যারান্টি ছাড়াই পারমাণবিক প্রকল্প ধরে রেখেছে, কিন্তু ইসরাইলের পারমাণবিক প্রকল্প নিয়ে আমেরিকা বা ইউরোপ কখনো প্রশ্ন তোলেনি। পশ্চিমা প্রশ্নগুলো কেবল ইরানকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়।

প্রশ্ন হলো, কেন ইসরাইল পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে এই প্রশ্রয় পায়? কেন ফিলিস্তিন ও লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন ও গণহত্যা বিষয়ে পশ্চিমারা নিষ্ক্রিয়তা অনুসরণ করে? ইসরাইলের মানবতাবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কথা বলার অপরাধে কেন আমেরিকা, কানাডা কিংবা অস্ট্রেলিয়ার ভিসা পান না পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মানুষ? এসব প্রশ্নের উত্তর সম্ভবত জায়নিস্টদের এডুকেশনাল ও কালচারাল হেজেমনির মধ্যে নিহিত। ঊনবিংশ ও বিংশ শতকজুড়ে জায়নিস্টরা ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংক, মিডিয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞান গবেষণা, শিল্প-সংস্কৃতিতে প্রাধান্য বিস্তার করে। ইহুদি সমাজের নিরলস সাধনার শক্তির ওপর ভিত্তি করে জায়নিজম পশ্চিমা বিশ্বের মনোজগতে এনলাইটেনমেন্টের সরদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে এবং ব্রিটেন ও আমেরিকার ক্ষমতাকাঠামোতে ডিপ স্টেইট হিসেবে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করে।

জায়নিজমের পোস্টারবয় নেতানিয়াহু ধর্মগ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে নীল নদ থেকে ইউফ্রেতিস নদী পর্যন্ত অখণ্ড ইসরাইলের স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা করলেও, আল-আকসা মসজিদ ভেঙে সেখানে মন্দির নির্মাণের স্বপ্ন দেখলেও, পশ্চিমে জায়নিজম প্রগতিশীলতার প্রতীক হিসেবে যে কালচারাল হেজেমনি নির্মাণ করেছে, তা তাকে সেক্যুলারিজমের রক্ষক হিসেবে সুচিহ্নিত করেছে। ইহুদি সমাজের পাণ্ডিত্যকে কাজে লাগিয়ে আমেরিকা-ব্রিটেন-ইউরোপের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়েছে জায়নিস্ট কাঠামো। শিল্প-সাহিত্য-চলচ্চিত্র জগতে প্রাধান্য বিশ্বব্যাপী আধুনিকতার সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে সাহায্য করেছে জায়নিস্টদের। পশ্চিমা সমাজে পণ্ডিতি ও কালচারাল আগ্রাসনের মাধ্যমে জায়নিস্টরা এমন ধারণা প্রবিষ্ট করেছে যে, জায়নিস্টদের নির্মিত ‘সত্য’ই একমাত্র সত্য।