ঢাকা ০৭:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

তামাকের ক্ষতি রাজস্বের দ্বিগুণের বেশি: বিদ্যালয়ের পাশে সহজলভ্যতা নিয়ে উদ্বেগ

এক নতুন গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের ফলে সৃষ্ট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ, সরকার তামাক খাত থেকে যে রাজস্ব পায় তার দ্বিগুণেরও বেশি। ২০২৪ সালে তামাকজনিত এই আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৮৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, অথচ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকার এই খাত থেকে রাজস্ব পেয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিকস এই গবেষণাটি পরিচালনা করে।

পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) কার্যালয়ে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণা ফল থেকে জানা যায়:

  • বিদ্যালয়ের কাছে তামাকের সহজলভ্যতা: দেশে প্রতিটি বিদ্যালয়ের চারপাশে গড়ে ৫টির বেশি তামাক বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনার ১২১টি বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে দেখা যায়, প্রায় সব দোকানেই এক শলাকা সিগারেট বিক্রি হয় এবং বিদ্যালয়ের ১০০ মিটারের মধ্যেই ৬৬৬টি দোকান রয়েছে।
  • শিশুদের জন্য ঝুঁকি: ৬৬ শতাংশ দোকানে তামাকজাত পণ্য চকলেট, মিষ্টি বা খেলনার পাশে রাখা হয়, যা শিশুদের কাছে তামাককে ‘স্বাভাবিক’ পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে। এছাড়া ৮৪ শতাংশ দোকানে সুগন্ধিযুক্ত সিগারেট পাওয়া যায় এবং ৭১ শতাংশ দোকান খোলা অবস্থায় সিগারেট প্রদর্শন করে।
  • আর্থিক ক্ষতির বিভাজন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অনুযায়ী, ৮৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মোট ক্ষতির মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ৭৩ হাজার কোটি টাকার বেশি এবং পরিবেশগত ক্ষতি ১৪ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞরা নতুন এই প্রমাণ বিবেচনায় নিয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন দ্রুত সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। গবেষণা প্রতিবেদনে পয়েন্ট অব সেলে বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা, এক শলাকা সিগারেট বিক্রি বন্ধ, সুগন্ধিযুক্ত সিগারেট নিষিদ্ধ করা এবং স্কুল এলাকার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার মতো সুপারিশ করা হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা চায় চীন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর তাগিদ বেইজিংয়ের

তামাকের ক্ষতি রাজস্বের দ্বিগুণের বেশি: বিদ্যালয়ের পাশে সহজলভ্যতা নিয়ে উদ্বেগ

আপডেট সময় : ১২:২৪:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

এক নতুন গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের ফলে সৃষ্ট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ, সরকার তামাক খাত থেকে যে রাজস্ব পায় তার দ্বিগুণেরও বেশি। ২০২৪ সালে তামাকজনিত এই আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৮৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, অথচ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকার এই খাত থেকে রাজস্ব পেয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিকস এই গবেষণাটি পরিচালনা করে।

পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) কার্যালয়ে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণা ফল থেকে জানা যায়:

  • বিদ্যালয়ের কাছে তামাকের সহজলভ্যতা: দেশে প্রতিটি বিদ্যালয়ের চারপাশে গড়ে ৫টির বেশি তামাক বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনার ১২১টি বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে দেখা যায়, প্রায় সব দোকানেই এক শলাকা সিগারেট বিক্রি হয় এবং বিদ্যালয়ের ১০০ মিটারের মধ্যেই ৬৬৬টি দোকান রয়েছে।
  • শিশুদের জন্য ঝুঁকি: ৬৬ শতাংশ দোকানে তামাকজাত পণ্য চকলেট, মিষ্টি বা খেলনার পাশে রাখা হয়, যা শিশুদের কাছে তামাককে ‘স্বাভাবিক’ পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে। এছাড়া ৮৪ শতাংশ দোকানে সুগন্ধিযুক্ত সিগারেট পাওয়া যায় এবং ৭১ শতাংশ দোকান খোলা অবস্থায় সিগারেট প্রদর্শন করে।
  • আর্থিক ক্ষতির বিভাজন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অনুযায়ী, ৮৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মোট ক্ষতির মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ৭৩ হাজার কোটি টাকার বেশি এবং পরিবেশগত ক্ষতি ১৪ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞরা নতুন এই প্রমাণ বিবেচনায় নিয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন দ্রুত সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। গবেষণা প্রতিবেদনে পয়েন্ট অব সেলে বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা, এক শলাকা সিগারেট বিক্রি বন্ধ, সুগন্ধিযুক্ত সিগারেট নিষিদ্ধ করা এবং স্কুল এলাকার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার মতো সুপারিশ করা হয়েছে।