আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি চূড়ান্ত হওয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সকল রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং নাগরিকদের প্রতি কোনো ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন জনসমাবেশ এবং আন্দোলন পরিচালনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রায় ৯ লাখ সশস্ত্রবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে জানানো হয়েছে যে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর যেকোনো ধরনের বেআইনি জনসমাবেশ বা আন্দোলন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বিশেষ করে, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন কর্মকাণ্ড পুরোপুরি প্রতিহত করা হবে এবং বেআইনিভাবে সভা-সমাবেশে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে এবং কোনো ধরনের অশান্তি বা অব্যবস্থাপনার সুযোগ দেবে না বলে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, অনেকের ন্যায্য দাবি-দাওয়া রয়েছে এবং সরকার সবসময় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু এখন নির্বাচনের সময়ের কাছাকাছি আসায় তিনি সকল রাজনৈতিক দলের কাছে আবেদন জানান, তারা যেন তাদের দাবি নির্বাচন পরবর্তী সরকারের কাছে উপস্থাপন করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ সময়ে কেউ উত্তেজনা সৃষ্টি বা স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত না করে নির্বাচনমুখী শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সহযোগিতা করবেন।
আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হতে পারে। এই নির্বাচনের সুষ্ঠু, অবাধ এবং গ্রহণযোগ্য আয়োজন নিশ্চিত করার জন্য সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সরকারের একমাত্র লক্ষ্য হলো একটি উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন আয়োজন করা, যেখানে জনগণের ভোটাধিকারের প্রতি পূর্ণ সম্মান থাকবে। এই লক্ষ্যে, ইতিমধ্যেই দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচনের দিন পর্যন্ত তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
রিপোর্টারের নাম 






















