ঢাকা ০৮:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কারাগার ঘোষণার বিষয়টি তদন্ত সংস্থার এখতিয়ার নয়: প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে সাময়িকভাবে ‘কারাগার’ ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেছেন যে, কোনো স্থানকে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করার বিষয়টি প্রসিকিউশন বা তদন্ত সংস্থার বিবেচ্য বিষয় নয়। বরং আইন অনুযায়ী কাজ করাটাই তাদের কাছে মুখ্য।

সোমবার (১৩ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে ‘অস্থায়ী কারাগার’ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, “আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করতে হবে। এটা সংবিধান, ট্রাইব্যুনাল আইন ও ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান। এরপর আদালত আসামিকে যেখানে রাখতে বলবেন, সেখানেই রাখা হবে।”

উল্লেখ্য, ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে সাময়িকভাবে ‘কারাগার’ ঘোষণা করে সরকার গত রোববার (১২ অক্টোবর) একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তারী পরোয়ানাভুক্ত ১৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে সেনা হেফাজতে নেওয়ার পর সরকার এই সিদ্ধান্ত জানাল।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের উপসচিব মো. হাফিজ আল আসাদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৫৪১(১) এর ক্ষমতাবলে এবং দ্য প্রিজন্স অ্যাক্ট, ১৮৯৪ এর ধারা ৩ (বি) অনুসারে, ঢাকা সেনানিবাসের বাশার রোড সংলগ্ন উত্তর দিকে অবস্থিত ‘এমইএস’ ভবন নং-৫৪-কে সাময়িকভাবে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করা হলো।

আদেশে আরও জানানো হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এই ঘোষণা জারি করা হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে ঠিক কী উদ্দেশ্যে ভবনটি সাময়িক কারাগার হিসেবে ব্যবহৃত হবে, সে বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ সাবেক ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সম্প্রতি সাবেক ও বর্তমান ২৪ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আগামী ২১ অক্টোবরের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করে ২২ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আদেশ দেওয়া হয়।

এরপর গত ১১ অক্টোবর ঢাকা সেনানিবাসের মেসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান জানান, যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট হয়েছে তাদের মধ্যে ১৫ জন কর্মকর্তা ঢাকায় সেনা হেফাজতে এসেছেন। তিনি বলেন, “আমরা ১৬ জনকে সেনা হেফাজতে আসার জন্য বলেছিলাম। ১৫ জন আমাদের সেনা হেফাজতে এসেছেন।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয় যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক সচিবের দায়িত্ব পালন করা মেজর জেনারেল কবির আহমেদ বর্তমানে পলাতক (ইলিগ্যাল অ্যাবসেন্ট) আছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে অনুমোদনহীন এলপিজি পাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: দগ্ধ ১৫, পুড়লো অর্ধশতাধিক ঘর ও ১৫ গাড়ি

কারাগার ঘোষণার বিষয়টি তদন্ত সংস্থার এখতিয়ার নয়: প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম

আপডেট সময় : ০৮:৫৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে সাময়িকভাবে ‘কারাগার’ ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেছেন যে, কোনো স্থানকে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করার বিষয়টি প্রসিকিউশন বা তদন্ত সংস্থার বিবেচ্য বিষয় নয়। বরং আইন অনুযায়ী কাজ করাটাই তাদের কাছে মুখ্য।

সোমবার (১৩ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে ‘অস্থায়ী কারাগার’ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, “আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করতে হবে। এটা সংবিধান, ট্রাইব্যুনাল আইন ও ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান। এরপর আদালত আসামিকে যেখানে রাখতে বলবেন, সেখানেই রাখা হবে।”

উল্লেখ্য, ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে সাময়িকভাবে ‘কারাগার’ ঘোষণা করে সরকার গত রোববার (১২ অক্টোবর) একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তারী পরোয়ানাভুক্ত ১৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে সেনা হেফাজতে নেওয়ার পর সরকার এই সিদ্ধান্ত জানাল।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের উপসচিব মো. হাফিজ আল আসাদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৫৪১(১) এর ক্ষমতাবলে এবং দ্য প্রিজন্স অ্যাক্ট, ১৮৯৪ এর ধারা ৩ (বি) অনুসারে, ঢাকা সেনানিবাসের বাশার রোড সংলগ্ন উত্তর দিকে অবস্থিত ‘এমইএস’ ভবন নং-৫৪-কে সাময়িকভাবে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করা হলো।

আদেশে আরও জানানো হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এই ঘোষণা জারি করা হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে ঠিক কী উদ্দেশ্যে ভবনটি সাময়িক কারাগার হিসেবে ব্যবহৃত হবে, সে বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ সাবেক ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সম্প্রতি সাবেক ও বর্তমান ২৪ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আগামী ২১ অক্টোবরের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করে ২২ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আদেশ দেওয়া হয়।

এরপর গত ১১ অক্টোবর ঢাকা সেনানিবাসের মেসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান জানান, যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট হয়েছে তাদের মধ্যে ১৫ জন কর্মকর্তা ঢাকায় সেনা হেফাজতে এসেছেন। তিনি বলেন, “আমরা ১৬ জনকে সেনা হেফাজতে আসার জন্য বলেছিলাম। ১৫ জন আমাদের সেনা হেফাজতে এসেছেন।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয় যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক সচিবের দায়িত্ব পালন করা মেজর জেনারেল কবির আহমেদ বর্তমানে পলাতক (ইলিগ্যাল অ্যাবসেন্ট) আছেন।