জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার আগামী নির্বাচনের যে সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে এতে এনসিপির কোনও দ্বিমত অথবা সন্দেহ নেই। কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের জন্য নির্বাচন পিছিয়ে যাবে আমরা এমন প্রত্যাশা করি না। আমরা চাই একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের মাধ্যমে নির্বাচন হোক।’
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বিকালে ঠাকুরগাঁও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স হলরুমে এনসিপি ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, ‘প্রতিটি কেন্দ্রে স্বচ্ছ এবং সুষ্ঠু ভোটের জন্য আমাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। আমরা মনে করি, আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশের দুটি রাজনৈতিক দলের প্রতিযোগিতার যে সরল সমীকরণ সেটি এবারে আর থাকবে না। বরং এটাই হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি যে, দ্বিতীয় শক্তিশালী রাজনৈতিক দল নির্ধারণ করবে প্রথম দুটি দলের মধ্যে কোন দল আগামী নির্বাচনে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করবে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সংস্কারের পক্ষে যারা আছে সেই ধরনের দলগুলোকে নিয়ে আমরা একটি গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট গঠন করেছি। আমরা আশা করছি, আরও একাধিক রাজনৈতিক দল মিলে গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট তৈরি করে সবাই মিলে একটি মার্কা নিয়ে আগামী নির্বাচনে জনগণের প্রত্যাশায় কাজ করবো।’
এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘মাঠের পরিস্থিতি এখন পাল্টে গেছে। দেশের প্রত্যন্ত মাঠের জনগণ জুলুম ও অপকর্মকারীদের বয়কট করছে। যারা মানুষের পাশে থাকছে, তাদের কাছে গিয়ে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের প্রতি জনগণের আগ্রহ বাড়ছে। এনসিপি একটি মধ্যমপন্থি রাজনৈতিক দল হিসেবে সেই জায়গাটা নিতে চায়।’
নির্বাচন নিয়ে সারজিস বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে একটা নির্দিষ্ট ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল তাদের জায়গা থেকে তাদের যা আদর্শ সেটা সব মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে মানুষ এটা থেকে বিমুখ হবে। আগামীর বাংলাদেশে সংস্কারের পক্ষে যেকোনও পরাশক্তি ও আধিপত্যবাদের বিপক্ষে আমরা একটি রাজনৈতিক দল দাঁড় করাবো। আমরা জনগণের প্রতিনিধি হয়ে সেই জায়গা থেকে আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো।’
তিনি বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের এই ভয়টুকু আছে, তারা যদি তাদের নীতি-নৈতিকতার জায়গায় থাকে তাহলে তাদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। সামগ্রিকভাবে এটার দুর্বলতা রয়েছে। এখনও কিছু কিছু রাজনৈতিক দল তাদের আগের মানসিকতা এখনও ছাড়তে পারেনি। তারা মনে করে, সময় হলেই ক্ষমতায় গেলে তারা তাদের পেশী শক্তি প্রয়োগ করবে। সময় হলেই তারা তাদের কালো টাকার খেলা দেখাবে এবং প্রশাসনকে তাদের নিজেদের মতো করে ব্যবহার করবে। যা মোটেই কাম্য নয়।’
পুলিশ নিয়ে সারজিস আলম বলেন, ‘অনেক জায়গায় পুলিশের কিছু কিছু সদস্য রয়েছে, যারা এখনও টাকা লেনদেনের সঙ্গে জড়িত। টাকা ছাড়া তারা কাজ করেন না। টাকার কারণে তারা অনেক অপরাধীকে ছেড়ে দেন এবং নিরপরাধীকে অপরাধী সাব্যস্ত করেন। আমরা এই জায়গা সংস্কারে সুস্পষ্ট অভিযোগ জানিয়েছি। ওসি, এসপি, ডিআইজি অথবা যত বড়ই কর্মকর্তা হোক না কেন কেউ যদি কোনও দলীয় নেতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যা করা দরকার এনসিপি সেটাই করবে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘অভ্যুত্থানের এক বছর মাস মাস পেরিয়ে গেলেও অজানা কারণে তিনি দেশে আসছেন না। কিন্তু আমরা মনে করি, তিনি বাংলাদেশে এলে তার জন্য কোনও সমস্যা হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। এনসিপি মনে করে, অন্য সব রাজনৈতিক দলের সুন্দর প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন হবে। আমরা নিজেদের মধ্যে কাঁদা ছোড়াছুড়ি করবো না। কেউ যদি কোন ধরনের অপ্রত্যাশিত কাজ করে অথবা ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করে তাহলে আমরা মনে করি, ফ্যাসিস্ট বিরোধী কোনও রাজনৈতিক দল এ সুযোগ দেবে না।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম, ঠাকুরগাঁও জেলা এনসিপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম, সদস্য সচিব খলিলুর রহমানসহ অন্যরা।
রিপোর্টারের নাম 

























