দীর্ঘদিনের ক্ষুধা ও অনাহারে জর্জরিত গাজাবাসীর জন্য অবশেষে প্রথম ত্রাণবাহী ট্রাক পৌঁছেছে। যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর গতকাল গাজা উপত্যকায় এই ত্রাণ পৌঁছায়। তবে এই ত্রাণ পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই দক্ষিণের খান ইউনিসে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সামান্য খাবারের জন্য ক্ষুধার্ত বাসিন্দাদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। যদিও যে পরিমাণ ত্রাণ পৌঁছেছে, তা সেখানকার বিপুল সংখ্যক মানুষের চাহিদার তুলনায় খুবই নগণ্য। আশা করা হচ্ছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আরও ত্রাণ গাজায় পৌঁছাবে।
এদিকে গাজার মানুষ এখনো উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, আতঙ্ক এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ইসরায়েলের স্থল অভিযানের কারণে যারা জোরপূর্বক গাজা শহর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিল, তাদের মধ্যে লাখো মানুষ আবার তাদের পুরনো ঠিকানায় ফিরে আসছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি আগ্রাসনে পুরো গাজা এখন এক বিশাল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
গাজায় ফিরে আসা লোকজন জানাচ্ছেন, তারা জেনেশুনেই এমন একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ভূখণ্ডে ফিরছেন যেখানে কোনো মানবিক সহায়তার নিশ্চয়তা নেই। তবুও তারা তাদের নিজস্ব সম্প্রদায়ের সান্নিধ্যে থাকতে চান। তারা বলছেন, সবকিছুর অভাব থাকা সত্ত্বেও তারা যেকোনো মূল্যে টিকে থাকার চেষ্টা করবেন।
তবে এখনো বহু মানুষ মধ্য এবং দক্ষিণ গাজায় থেকে গেছেন। তারা জানিয়েছেন, তাদের যাওয়ার মতো কোনো নিরাপদ স্থান নেই, কোনো বিকল্প আশ্রয়ও নেই এবং অন্তত এই এলাকায় তারা কিছু খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির দীর্ঘস্থায়ীত্ব নিয়ে তাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগও স্পষ্ট।
তাদের ধারণা, ইসরায়েল হয়তো তাদের জিম্মিদের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করার পর এই চুক্তির শর্তগুলো মানা থেকে পিছিয়ে যেতে পারে। তাই তারা স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে এখনো শঙ্কিত।
সর্বোপরি, গাজাবাসীর মনে এক ধরনের ভয় ও সন্দেহ এখনো বিরাজ করছে এবং তারা যুদ্ধবিরতির সফলতা নিয়ে পুরোপুরি আস্থাশীল নয়। তবে সীমিত আকারে হলেও সহায়তা আসতে শুরু করায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।
রিপোর্টারের নাম 























