ঢাকা ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

মার্কিন শুল্ক আরোপের হুমকিতে ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ চীনের, পাল্টা পদক্ষেপের প্রস্তুতি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিকে ‘মার্কিন দ্বিচারিতার উদাহরণ’ হিসেবে অভিহিত করেছে চীন। বেইজিংয়ের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই হুমকি কার্যকর করে, তবে চীনও পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই খবর দিয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র মন্তব্য করেন যে, চীন কোনো বাণিজ্য যুদ্ধ চায় না, কিন্তু শুরু হলে তাতে ভীতও নয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ন্যায্যতা ও স্থিতিশীলতার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন।

শুক্রবার ট্রাম্প চীন কর্তৃক বিরল খনিজ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছিলেন যে, চীন বিশ্বকে জিম্মি করার চেষ্টা করছে। তিনি বেইজিংয়ের আচরণকে ‘অত্যন্ত বৈরী’ আখ্যা দেন এবং সতর্ক করে দেন যে, এ মাসের শেষে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত বৈঠক বাতিল হতে পারে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের ফলে বিশ্ববাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। শুক্রবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ২.৭ শতাংশ কমে বন্ধ হয়, যা এপ্রিলের পর সবচেয়ে বড় পতন। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত মে মাসে ওয়াশিংটন ও বেইজিং উভয় দেশই একে অপরের পণ্যের ওপর তিন অঙ্কের শুল্ক প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছিল। তবে সেই সমঝোতার পরেও মার্কিন পণ্যের ওপর চীনের ১০ শতাংশ এবং চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক এখনও বলবৎ আছে।

মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাকে অতিরিক্তভাবে ব্যবহার করছে, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের অপব্যবহার করছে এবং চীনের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করে চলেছে।

তিনি আরও বলেন, চীনের সঙ্গে আলোচনার পথ হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা, শুল্কের হুমকি নয়।

গত সপ্তাহে চীন বিরল খনিজসহ উন্নত প্রযুক্তির উৎপাদনে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার ঘোষণা দেয়। বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ এই ধরনের উপকরণ চীন প্রক্রিয়াজাত করে। সৌর প্যানেল, স্মার্টফোন এবং সামরিক প্রযুক্তির উৎপাদনে এই উপকরণগুলোর ব্যবহার অপরিহার্য।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েলের ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মার্কিন শুল্ক আরোপের হুমকিতে ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ চীনের, পাল্টা পদক্ষেপের প্রস্তুতি

আপডেট সময় : ১০:৪০:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিকে ‘মার্কিন দ্বিচারিতার উদাহরণ’ হিসেবে অভিহিত করেছে চীন। বেইজিংয়ের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই হুমকি কার্যকর করে, তবে চীনও পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই খবর দিয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র মন্তব্য করেন যে, চীন কোনো বাণিজ্য যুদ্ধ চায় না, কিন্তু শুরু হলে তাতে ভীতও নয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ন্যায্যতা ও স্থিতিশীলতার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন।

শুক্রবার ট্রাম্প চীন কর্তৃক বিরল খনিজ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছিলেন যে, চীন বিশ্বকে জিম্মি করার চেষ্টা করছে। তিনি বেইজিংয়ের আচরণকে ‘অত্যন্ত বৈরী’ আখ্যা দেন এবং সতর্ক করে দেন যে, এ মাসের শেষে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত বৈঠক বাতিল হতে পারে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের ফলে বিশ্ববাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। শুক্রবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ২.৭ শতাংশ কমে বন্ধ হয়, যা এপ্রিলের পর সবচেয়ে বড় পতন। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত মে মাসে ওয়াশিংটন ও বেইজিং উভয় দেশই একে অপরের পণ্যের ওপর তিন অঙ্কের শুল্ক প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছিল। তবে সেই সমঝোতার পরেও মার্কিন পণ্যের ওপর চীনের ১০ শতাংশ এবং চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক এখনও বলবৎ আছে।

মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাকে অতিরিক্তভাবে ব্যবহার করছে, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের অপব্যবহার করছে এবং চীনের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করে চলেছে।

তিনি আরও বলেন, চীনের সঙ্গে আলোচনার পথ হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা, শুল্কের হুমকি নয়।

গত সপ্তাহে চীন বিরল খনিজসহ উন্নত প্রযুক্তির উৎপাদনে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার ঘোষণা দেয়। বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ এই ধরনের উপকরণ চীন প্রক্রিয়াজাত করে। সৌর প্যানেল, স্মার্টফোন এবং সামরিক প্রযুক্তির উৎপাদনে এই উপকরণগুলোর ব্যবহার অপরিহার্য।