ঢাকা ০২:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নন-অ্যালাইনড মুভমেন্টের বৈঠকে যোগ দিতে উগান্ডায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) মন্ত্রী পর্যায়ের ১৯তম মধ্যবর্তী পর্যালোচনা বৈঠকে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে উগান্ডা সফর করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

রবিবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে তিনি উগান্ডার রাজধানী কাম্পালার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন।

কাম্পালায় আগামী ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সফরসূচি অনুযায়ী তিনি সোমবার (১৩ অক্টোবর) ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবায় বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন। এরপর সেখান থেকে তিনি ন্যামের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে কাম্পালায় যাবেন, যেখানে অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

‘বৈশ্বিক সমৃদ্ধির জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারকরণ’—এই প্রতিপাদ্যে আয়োজিত তিন দিনের এই সভায় ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত ন্যাম শীর্ষ সম্মেলনে বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হবে।

আশা করা হচ্ছে যে, এই বৈঠকে বর্তমান পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যের পরিপ্রেক্ষিতে ন্যামের প্রাসঙ্গিকতা, পাশাপাশি শান্তি, নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং আইনের শাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

ফিলিস্তিন ইস্যুটিও এই সভায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৈঠকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনাগুলোর প্রতি ন্যামের বহুদিনের যে অঙ্গীকার, তা পুনরায় জোর দেওয়া হবে।

১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন বা ন্যাম বর্তমানে ১২০টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত। এটি সামরিক বা রাজনৈতিক জোট থেকে দূরে থাকা বিশ্বের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত।

প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি কাগুতা মুসেভেনির নেতৃত্বে উগান্ডা ২০২৪ সালে ন্যামের চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ করে, যা দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায় শুরু করেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, এই মধ্যবর্তী মন্ত্রী পর্যায়ের সভা থেকে ন্যামের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দলিল গৃহীত হবে, যা পরবর্তী সম্মেলন না হওয়া পর্যন্ত সংগঠনটির কার্যক্রমকে দিকনির্দেশনা দেবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে আলিয়ার দেয়ালে গ্রাফিতি: বিচারের দাবিতে সোচ্চার শিক্ষার্থীরা

নন-অ্যালাইনড মুভমেন্টের বৈঠকে যোগ দিতে উগান্ডায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ১০:২৫:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫

জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) মন্ত্রী পর্যায়ের ১৯তম মধ্যবর্তী পর্যালোচনা বৈঠকে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে উগান্ডা সফর করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

রবিবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে তিনি উগান্ডার রাজধানী কাম্পালার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন।

কাম্পালায় আগামী ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সফরসূচি অনুযায়ী তিনি সোমবার (১৩ অক্টোবর) ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবায় বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন। এরপর সেখান থেকে তিনি ন্যামের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে কাম্পালায় যাবেন, যেখানে অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

‘বৈশ্বিক সমৃদ্ধির জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারকরণ’—এই প্রতিপাদ্যে আয়োজিত তিন দিনের এই সভায় ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত ন্যাম শীর্ষ সম্মেলনে বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হবে।

আশা করা হচ্ছে যে, এই বৈঠকে বর্তমান পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যের পরিপ্রেক্ষিতে ন্যামের প্রাসঙ্গিকতা, পাশাপাশি শান্তি, নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং আইনের শাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

ফিলিস্তিন ইস্যুটিও এই সভায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৈঠকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনাগুলোর প্রতি ন্যামের বহুদিনের যে অঙ্গীকার, তা পুনরায় জোর দেওয়া হবে।

১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন বা ন্যাম বর্তমানে ১২০টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত। এটি সামরিক বা রাজনৈতিক জোট থেকে দূরে থাকা বিশ্বের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত।

প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি কাগুতা মুসেভেনির নেতৃত্বে উগান্ডা ২০২৪ সালে ন্যামের চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ করে, যা দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায় শুরু করেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, এই মধ্যবর্তী মন্ত্রী পর্যায়ের সভা থেকে ন্যামের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দলিল গৃহীত হবে, যা পরবর্তী সম্মেলন না হওয়া পর্যন্ত সংগঠনটির কার্যক্রমকে দিকনির্দেশনা দেবে।