ঢাকা ০২:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রাণহীন চুল নিয়ে বিব্রত? ঝরঝরে ও প্রাণবন্ত চুল পাওয়ার সহজ উপায়

নিয়মিত শ্যাম্পু করা সত্ত্বেও যদি আপনার চুলে প্রাণ না থাকে, তবে এর পেছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ থাকতে পারে। নিয়মিত শ্যাম্পুর পরেও যদি চুল ঝরঝরে বা কোমল না হয়, তবে বুঝতে হবে হয়তো আপনি ভুল শ্যাম্পু ব্যবহার করছেন, নাহয় আপনার শ্যাম্পু করার প্রক্রিয়ায় কোনো ভুল আছে। চুল ঝরঝরে থাকলে দেখতে স্নিগ্ধ, পরিচ্ছন্ন লাগে। শীতকালে এই সমস্যা আরও বেড়ে যায়। তাই শীত নামার ঠিক আগমুহূর্তে প্রাণহীন চুল ঝরঝরে করার কয়েকটি উপায় নিচে আলোচনা করা হলো।

আপনার চুলের ধরনের সঙ্গে যদি শ্যাম্পু না মেলে, তবে চুল রুক্ষ হয়ে যেতে পারে বা ঝরঝরে নাও হতে পারে। শুধুমাত্র শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুলের স্বাভাবিক তেল চলে যায়, ফলে চুল রুক্ষ হয়ে যায়। তাই কোন ধরনের কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন এবং কতটুকু সময় রাখবেন, সে বিষয়ে আপনার জানা জরুরি।

চুলে কখনোই অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার করবেন না। বেশি গরম পানিতে শ্যাম্পু করলে চুল তার আর্দ্রতা হারায়। নিয়মিত তেল না দিলে চুল শুকিয়ে যায়। তাই চুলে পরিমাণ মতো তেল দিন এবং সেই তেল পুরোপুরি না যাওয়া পর্যন্ত চুল ভালোভাবে ধুয়ে নিন। শ্যাম্পু করার পরে চুল ভালোভাবে শুকানো বা ব্রাশ করা দরকার।

আপনার চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু বেছে নিন। শুষ্ক চুলের জন্য ময়েশ্চারাইজিং বা হাইড্রেটিং শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। তৈলাক্ত চুলের জন্য ক্ল্যারিফাইং শ্যাম্পু ব্যবহার করুন, তবে তা যেন নিয়মিত না হয়। শ্যাম্পু একবার ফেনায়িত হলেই ভাববেন না চুল পরিষ্কার হয়ে গেছে। মাথার ত্বক যেন ঠিকভাবে পরিষ্কার হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। প্রতিবার শ্যাম্পুর পর ভালো মানের কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। কন্ডিশনার ছাড়া চুলে ঝরঝরা ভাব আশা করা উচিত নয়। প্রতিবার শ্যাম্পুর পরে ২-৫ মিনিট কন্ডিশনার লাগিয়ে রাখুন। কন্ডিশনার চুলের নিচের অংশে বেশি ব্যবহার করুন, মাথার ত্বকে নয়।

চুলে কখনোই গরম পানি ব্যবহার করবেন না। গরম পানি চুলের আর্দ্রতা কেড়ে নেয়, অন্যদিকে ঠান্ডা পানি চুলকে ঝরঝরে করে। সপ্তাহে ১-২ বার নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল মাস্ক ব্যবহার করুন। শ্যাম্পু করার আগে ২০ মিনিট তেল লাগিয়ে রাখলে চুল বেশি কোমল ও ঝরঝরে হয়। ভেজা চুলে আঁচড়াবেন না। তোয়ালে দিয়ে চুল ঘষবেন না, শুধু চাপ দিয়ে পানি টেনে নিন। চুল শুকানোর জন্য দেহের তাপমাত্রায় শুকান। হেয়ারড্রায়ার কম ব্যবহার করুন এবং চুল বাতাসে শুকাতে দিন।

সিল্ক বা সাটিন কাপড়ের বালিশের কাভার ব্যবহার করুন। এতে চুলে ঘর্ষণ কম হয়, ফলে চুল কম রুক্ষ হয়। চুলের যত্ন নিয়মিত নিতে হবে। একদিনে ফল না পেলেও ধৈর্য ধরে এখানে উল্লেখিত বিষয়গুলো অনুসরণ করলে ধীরে ধীরে চুল কোমল, ঝরঝরে ও প্রাণবন্ত হবে।

চুল ঝরঝরে করতে প্রাকৃতিক হেয়ার মাস্কও ব্যবহার করতে পারেন। ঘরেই ডিম, দই আর মধু মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে দিন, তারপর শ্যাম্পু করুন। এছাড়া, অ্যালোভেরা জেল সরাসরি চুলে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে আলিয়ার দেয়ালে গ্রাফিতি: বিচারের দাবিতে সোচ্চার শিক্ষার্থীরা

প্রাণহীন চুল নিয়ে বিব্রত? ঝরঝরে ও প্রাণবন্ত চুল পাওয়ার সহজ উপায়

আপডেট সময় : ০৬:৪২:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫

নিয়মিত শ্যাম্পু করা সত্ত্বেও যদি আপনার চুলে প্রাণ না থাকে, তবে এর পেছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ থাকতে পারে। নিয়মিত শ্যাম্পুর পরেও যদি চুল ঝরঝরে বা কোমল না হয়, তবে বুঝতে হবে হয়তো আপনি ভুল শ্যাম্পু ব্যবহার করছেন, নাহয় আপনার শ্যাম্পু করার প্রক্রিয়ায় কোনো ভুল আছে। চুল ঝরঝরে থাকলে দেখতে স্নিগ্ধ, পরিচ্ছন্ন লাগে। শীতকালে এই সমস্যা আরও বেড়ে যায়। তাই শীত নামার ঠিক আগমুহূর্তে প্রাণহীন চুল ঝরঝরে করার কয়েকটি উপায় নিচে আলোচনা করা হলো।

আপনার চুলের ধরনের সঙ্গে যদি শ্যাম্পু না মেলে, তবে চুল রুক্ষ হয়ে যেতে পারে বা ঝরঝরে নাও হতে পারে। শুধুমাত্র শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুলের স্বাভাবিক তেল চলে যায়, ফলে চুল রুক্ষ হয়ে যায়। তাই কোন ধরনের কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন এবং কতটুকু সময় রাখবেন, সে বিষয়ে আপনার জানা জরুরি।

চুলে কখনোই অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার করবেন না। বেশি গরম পানিতে শ্যাম্পু করলে চুল তার আর্দ্রতা হারায়। নিয়মিত তেল না দিলে চুল শুকিয়ে যায়। তাই চুলে পরিমাণ মতো তেল দিন এবং সেই তেল পুরোপুরি না যাওয়া পর্যন্ত চুল ভালোভাবে ধুয়ে নিন। শ্যাম্পু করার পরে চুল ভালোভাবে শুকানো বা ব্রাশ করা দরকার।

আপনার চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু বেছে নিন। শুষ্ক চুলের জন্য ময়েশ্চারাইজিং বা হাইড্রেটিং শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। তৈলাক্ত চুলের জন্য ক্ল্যারিফাইং শ্যাম্পু ব্যবহার করুন, তবে তা যেন নিয়মিত না হয়। শ্যাম্পু একবার ফেনায়িত হলেই ভাববেন না চুল পরিষ্কার হয়ে গেছে। মাথার ত্বক যেন ঠিকভাবে পরিষ্কার হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। প্রতিবার শ্যাম্পুর পর ভালো মানের কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। কন্ডিশনার ছাড়া চুলে ঝরঝরা ভাব আশা করা উচিত নয়। প্রতিবার শ্যাম্পুর পরে ২-৫ মিনিট কন্ডিশনার লাগিয়ে রাখুন। কন্ডিশনার চুলের নিচের অংশে বেশি ব্যবহার করুন, মাথার ত্বকে নয়।

চুলে কখনোই গরম পানি ব্যবহার করবেন না। গরম পানি চুলের আর্দ্রতা কেড়ে নেয়, অন্যদিকে ঠান্ডা পানি চুলকে ঝরঝরে করে। সপ্তাহে ১-২ বার নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল মাস্ক ব্যবহার করুন। শ্যাম্পু করার আগে ২০ মিনিট তেল লাগিয়ে রাখলে চুল বেশি কোমল ও ঝরঝরে হয়। ভেজা চুলে আঁচড়াবেন না। তোয়ালে দিয়ে চুল ঘষবেন না, শুধু চাপ দিয়ে পানি টেনে নিন। চুল শুকানোর জন্য দেহের তাপমাত্রায় শুকান। হেয়ারড্রায়ার কম ব্যবহার করুন এবং চুল বাতাসে শুকাতে দিন।

সিল্ক বা সাটিন কাপড়ের বালিশের কাভার ব্যবহার করুন। এতে চুলে ঘর্ষণ কম হয়, ফলে চুল কম রুক্ষ হয়। চুলের যত্ন নিয়মিত নিতে হবে। একদিনে ফল না পেলেও ধৈর্য ধরে এখানে উল্লেখিত বিষয়গুলো অনুসরণ করলে ধীরে ধীরে চুল কোমল, ঝরঝরে ও প্রাণবন্ত হবে।

চুল ঝরঝরে করতে প্রাকৃতিক হেয়ার মাস্কও ব্যবহার করতে পারেন। ঘরেই ডিম, দই আর মধু মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে দিন, তারপর শ্যাম্পু করুন। এছাড়া, অ্যালোভেরা জেল সরাসরি চুলে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।