ঢাকা ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

দাম্পত্য কলহের জেরে বস্তাবন্দি লাশ, দোষ স্বীকার করে কারাগারে স্বামী 

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫১:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার শাহজাহানপুরে স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দি করে রাখার অভিযোগের মামলায় স্বামী আশিকুর রহমান (২৬) আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। পাশাপাশি আশিকুরের ছোট ভাই সাইফুল ইসলামকে (২৪) কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

প্রেমের সম্পর্ক থেকে পরিবারের অনিচ্ছায় ২০১৯ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন আশিকুর এবং সুরুবী আক্তার মাহফুজা। এরপরে দাম্পত্য কলহের জেরে গত ৩ নভেম্বর স্বামী আশিকুর ও তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে হত্যা করে বলে অভিযোগ করেন মাহফুজার বাবা।

পঞ্চগড়ের হাড়িভাঙা ইউনিয়নের বুকধুলিপাড়া সাকিনস্থ ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোমবার (১ ডিসেম্বর) বিকাল ৫টার দিকে তাদের দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) তাদের দুজনকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাহানপুর থানার এসআই মহসিন তালুকদার। এদের মধ্যে আশিকুর স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তা রেকর্ড এবং সাইফুলকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে আশিকুরের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে সাইফুলের জামিন চেয়ে শুনানি করেন তার আইনজীবী তৈয়বুর রহমান। শুনানি নিয়ে আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

প্রসিকিউশন বিভাগের এএসআই মামুন হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, প্রেমের সম্পর্ক থেকে পরিবারের অনিচ্ছায় ২০১৯ সালে বিয়ে করেন আশিকুর এবং সুরুবী আক্তার মাহফুজা। তাদের চার বছরের একটি ছেলে রয়েছে। গত ১ নভেম্বর থেকে মালিবাগের বকশিবাগে তারা ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করে। ওইদিনই সাইফুল বাসা থেকে তার ভাতিজাকে গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের জাজিরার পালেরচর নিয়ে যায়। বিবাহের পর থেকে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর রাত ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে আশিকুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা মাহফুজাকে হত্যা করে বলে অভিযোগ করেন তার বাবা নুরুল হক খান। লাশ গুম করতে বস্তাবন্দি করে রেখে পরদিন দুপুর ১২টার দিকে পালিয়ে যায়। মাহফুজার কোনও সাড়া শব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা দুপুর দেড়টার দিকে তাকে ডাকতে থাকে। তারা দরজা ধাক্কাতে থাকে। একপর্যায়ে দরজা খুলে যায়। প্লাস্টিকের বস্তা বাধা দেখায় তার আশপাশের লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। পরে থানা পুলিশ ও সিআইডি পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ৪ নভেম্বর শাহজাহানপুর থানায় মামলা করেন নুরুল হক।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাতারের আকাশসীমায় ইরানের আগ্রাসন প্রতিহত: দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত

দাম্পত্য কলহের জেরে বস্তাবন্দি লাশ, দোষ স্বীকার করে কারাগারে স্বামী 

আপডেট সময় : ০৫:৫১:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

ঢাকার শাহজাহানপুরে স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দি করে রাখার অভিযোগের মামলায় স্বামী আশিকুর রহমান (২৬) আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। পাশাপাশি আশিকুরের ছোট ভাই সাইফুল ইসলামকে (২৪) কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

প্রেমের সম্পর্ক থেকে পরিবারের অনিচ্ছায় ২০১৯ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন আশিকুর এবং সুরুবী আক্তার মাহফুজা। এরপরে দাম্পত্য কলহের জেরে গত ৩ নভেম্বর স্বামী আশিকুর ও তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে হত্যা করে বলে অভিযোগ করেন মাহফুজার বাবা।

পঞ্চগড়ের হাড়িভাঙা ইউনিয়নের বুকধুলিপাড়া সাকিনস্থ ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোমবার (১ ডিসেম্বর) বিকাল ৫টার দিকে তাদের দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) তাদের দুজনকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাহানপুর থানার এসআই মহসিন তালুকদার। এদের মধ্যে আশিকুর স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তা রেকর্ড এবং সাইফুলকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে আশিকুরের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে সাইফুলের জামিন চেয়ে শুনানি করেন তার আইনজীবী তৈয়বুর রহমান। শুনানি নিয়ে আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

প্রসিকিউশন বিভাগের এএসআই মামুন হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, প্রেমের সম্পর্ক থেকে পরিবারের অনিচ্ছায় ২০১৯ সালে বিয়ে করেন আশিকুর এবং সুরুবী আক্তার মাহফুজা। তাদের চার বছরের একটি ছেলে রয়েছে। গত ১ নভেম্বর থেকে মালিবাগের বকশিবাগে তারা ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করে। ওইদিনই সাইফুল বাসা থেকে তার ভাতিজাকে গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের জাজিরার পালেরচর নিয়ে যায়। বিবাহের পর থেকে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর রাত ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে আশিকুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা মাহফুজাকে হত্যা করে বলে অভিযোগ করেন তার বাবা নুরুল হক খান। লাশ গুম করতে বস্তাবন্দি করে রেখে পরদিন দুপুর ১২টার দিকে পালিয়ে যায়। মাহফুজার কোনও সাড়া শব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা দুপুর দেড়টার দিকে তাকে ডাকতে থাকে। তারা দরজা ধাক্কাতে থাকে। একপর্যায়ে দরজা খুলে যায়। প্লাস্টিকের বস্তা বাধা দেখায় তার আশপাশের লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। পরে থানা পুলিশ ও সিআইডি পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ৪ নভেম্বর শাহজাহানপুর থানায় মামলা করেন নুরুল হক।